Friday, 24 July 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030 বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি
সব ক্যাটাগরি

মুক্তিযোদ্ধা গণসংগীত শিল্পী মাহবুবুল হায়দার মোহনকে স্মরণ ছড়াকার মনজুর কাদেরের: ‘আমার মোহনদা’

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 130 বার

প্রকাশিত: September 3, 2020 | 7:52 PM

মনজুর কাদের : আটাশির বানভাসিতে সারাদেশ থৈ থৈ। ঢাকা শহর পানির নীচ থেকে কোন রকম নাক জাগিয়ে বেঁচে আছে। নগরবাসীর কষ্টের সীমা নেই।

স্কুল কলেজ বন্ধ। অফিস আদালতের কর্মচারীদের অশেষ দুর্ভোগ। অফিস কামাই চলবে না। শহরে নৌকা চলা শুরু হলো। কর্মচারীরা প্যান্ট শার্ট ব্যাগে পুরে লুঙ্গি পড়ে নৌকায় অফিসে এসে কাপড় বদলে নেয়।

এরকম নৌকায় একদিন মোহনদা’র সাথে পরিচয়। জানলাম দুজনেই এক অফিসে চাকরি করি। সেদিন থেকেই মোহনদা আমার বড়ভাই, বন্ধু, সুহৃদ।

এমন নিঃস্বার্থ পরোপকারী মানুষ আমি ঢাকায় কম দেখেছি। নিজের নাওয়া খাওয়ার খবর নেই, কোনও সহকর্মী অসুস্থ হলে মোহনদা উদ্যোগী হয়ে হাসপাতালে পাঠায়, চিকিৎসার খরচ কিভাবে যোগান হবে সে আয়োজনে ব্যস্ত হয়। এসব ব্যস্ততার জন্য অফিসে কোনদিন তাঁকে ঠিকসময়ে দুপুরের খাবার খেতে দেখিনি।

সদাহাস্য মোহনদা তখন নবগঠিত ‘ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠী’র সভাপতি । আমাকে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এর দায়িত্ব দেয়া হলো। সেই থেকে দুজনে অনেক পথ হেঁটেছি, অনেক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করেছি। একদিন বললেন, “বন্যাদুর্গতদের জন্য কিছু করা দরকার” “কিভাবে করবেন”?

“সারাদিন ভিক্ষা করবো, রাতে বানের পানিতে আটকে পড়া পরিবারগুলোকে যতটুকু সাধ্যে কুলায় খাবার দিয়ে আসবো”।

আমরা কাজে লাগলাম। মোহনদা আর নিলুফার বানু লিলির (সদ্য প্রয়াত) কণ্ঠের সাথে জলে ভেজা রাস্তায় গান ধরতাম “মায়ের দেয়া মোটা কাপড় মাথায় তুলে নে রে ভাই, দ্বীন দুখিনী মা যে আমার এর বেশী আর সাধ্য নাই” অথবা “বঙ্গ আমার জননী আমার ধাত্রী আমার, আমার দেশ,…” আর নগরবাসীর কাছে হাত পাততাম। ছেলেদের প্যান্ট আর মেয়েদের শালোয়ার শাড়ীর অর্ধেকটা ভিজে একাকার হতো । যারা বয়সে নবীন ছিল তাদের সে কি উৎসাহ । ওঁদের বাবা মা স্বজনদেরও ডেকে আনত এবং ভিক্ষায় শামিল করত। নাহিদ, কাজল খন্দকার, পলাশ, তুলি, মাধুরী, কবিতা, মিলন, আখের, মামুনসহ ক্রান্তির ক্রান্তিকালীন বন্ধুদের ত্যাগের কথা মনে হলে আজও চোখের কোনে জল আসে।

নগরবাসীও আমাদের যারপরনাই উৎসাহ দিতেন এবং সাধ্যমত দান করতেন। একদিন একজন শ্রদ্ধেয় নাগরিক আমাদের হাতে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে কিছুটা স্নেহমাখা ধমকের সুরে বললেন, “চিল্লাইয়া তো গলা ভাঙছ, শেষে তো জ্বর বান্ধাইয়া বিছনায় পরবা, আইজকা চিল্লানি খান্ত দেও“। ওইদিন আমরা এগারোটা নৌকা ভাড়া করেছিলাম। তাঁর কৃত্রিম ধমকের আড়ালে স্নেহের কথা আজও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করি।

সারাদিনের সংগৃহীত অর্থে চাল ডাল নুন মোমবাতি আর পানি শোধক বড়ি কিনে পলিথিন প্যাকেট করে সন্ধ্যায় ভাড়া করা নৌকায় ঢাকা শহরের ঢালে আটকে পড়া দুর্গতদের মাঝে পৌঁছে দিতাম। পুরো বিষয়টা তত্বাবধান করতেন মোহনদা। সারাদিন অফিস করে বিকেলে ভিক্ষে করে সন্ধ্যায় বাড়ী বাড়ী ত্রান বিলাতে গিয়ে আমাদের মধ্যে অনেকেই অসুস্থ্য হয়ে পড়লেন। একদিন আমারও জ্বর এলো। মোহনদার কাছে ছুটি চাইলে তিনি অনুনয় করলেন, “দেখুন কিছু পরিবার আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকে, আমরা ত্রান নিয়ে গেলে ওঁদের বাচ্চাদের সারাদিনের উপোষ ভাঙে“।

জ্বর নিয়েই গেলাম। নৌকায় মোহনদা বমি করলেন, আমি মাথায় হাত দিয়ে দেখলাম গায়ে জ্বর।

“কতদিন ধরে?”

“চার পাচদিন”

একদিন সিলেটে বদলির আদেশ পেলাম। ক্রান্তি অফিসে ঘটা করে বিদায়ের আয়োজন হোল। আমাকে একপাশে ডেকে নিয়ে মোহন দা বাচ্চাদের মতো ফুফিয়ে কাদলেন, “আমদের ছেড়ে চলে যাবেন, আমার একটা হাত ভেঙে গেলো”। টপ করে আমার বাহুতে মোহন দার চোখের পানির ফোঁটা পড়লো। বড় বেশী তপ্ত আর ভারী ছিল সেটি।
সহজ সরল আপাদমস্তক এই সাধু পুরুষটি এখন আমাদের কাছে স্মৃতি। মাঝে মধ্যে মোহন দার জন্য মন কেমন করে। কারো সাথে শেয়ার করতে পারি না।আমার বাহুতে যেখানে মোহন দার মমতা ভরা চোখের জল পড়ে ছিলো, সেইখানটায় আলতো করে হাত বুলাই। আমি মোহন দার উষ্ণতা অনুভব করি।

– লেখক ও ছড়াকার, নিউইয়র্ক।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV