মুনা’র তিনব্যাপী কনভেনশন ফিলাডেলফিয়ার পেনসিলভেনিয়া কনভেনশন সেন্টারে ১৮-২০ আগষ্ট
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক: মুসলিম উম্মাহ নর্থ অফ আমেরিকা (মুনা) আগামী বছর কনভেনশন-এর আয়োজন করছে। ‘আল-কোরআন গাইডেন্স ফর হিউম্যানিটি’ মূল থি নিয়ে ২০২৩ সালের ১৮-২০ আগষ্ট যথাক্রমে শুক্র, শনি ও রোববার পেনসিলভেনিয়া কনভেনশন সেন্টারে তিনদিনব্যাপী মুনা কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য প্রাথমিক সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী দিনগুলোতে কনভেনশন বিষয়ক অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। উল্লেখ্য, করোনা মহামারীর জন্য তিন বছর পর এই কনভেনশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

জ্যাসকহন হাইটসের একটি পর্টি হলে সোমবার (৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মুনা নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত তথ্য
জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুনা’র ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর ও মুনা কনভেনশন-২০২৩ এর চেয়ারম্যান আরমান চৌধুরী সিপিএ। এসময় উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মুনা’র ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট হারুন অর রশীদ। মুনা’র মজলিশ শুরা মেম্বার এম, এম, মাওলা সুজন মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন। খবর ইউএনএ’র।
মুনা’র মজলিশ শুরার অন্যতম মেম্বার আব্দুল্লাহ আল আরিফ-এর সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। এরপর হামদ-নাত ও ইসলামের আলোকে সঙ্গীত পরিবেশন করেন আরাফাত রহমান এবং কবিতা পাঠ করেন নাসির উদ্দিন ও আবুল বাসার। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আরমান চৌধুরী বলেন, মুনা ৩ বছর বিরতির পর আগামী ১৮, ১৯ ও ২০ আগষ্ট ২০২৩ ফিলাডেলফিয়াস্থ পেনসিলভেনিয়া কনভেনশন সেন্টারে বিশাল কনভেনশন আয়োজন করতে যাচ্ছে। এই কনভেনশন মুসলিম জীবনে বিশেষ করে বাংলাদেশী আমেরিকান পরিবারের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। মুনা আমেরিকার একটি দাওয়াতি ও সামাজিক সংগঠন। মানুষের ব্যক্তিগত নৈতিক ও সামাজিক মানোন্নয়নের জন্য সার্বিক প্রচেষ্টা চালানোর মাধ্যমে আল্লহ’র সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্তে প্রতিষ্ঠিত। মুনা সংগঠনটি ১৯৯০ সালে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে কর্পোরেশনভুক্ত করা হয়। বর্তমানে মুনা আমেরিকার ৪০ এর অধিক রাজ্যে কর্মতৎপরতা পরিচালনা করছে।
মুসলমানদের প্রাত্যহিক সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকান্ড এবং জাতীয় নাগরিক জীবনে ভূমিকা পালনের নিমিত্তে সংগঠিত করতে ঐকান্তিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যাতে করে এই সমস্ত ব্যক্তিবর্গ আল্লাহ এবং তাঁর রসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণের মাধ্যমে মানবতার সেবা করে যেতে পারে। আরমান চৌধুরী বলেন, এবারের কনভেনশনে কেন্দ্রীয় আলোচ্য বিষয় এবং থিম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আল-কোরআন গাইডেন্স ফর হিউম্যানিটি’। অর্থাৎ আল-কোরআন পথ নির্দেশ করে গোটা মানব জাতিকে। কল্যাণকর ও নির্ভুল পথ পরিদর্শন করে পথভ্রষ্ট দিকহারা মানবতাকে। এটা বিজ্ঞানময়। এটা অলৌকিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি। এটা একজন বিশ্বাসী মানুষের বিশ্বাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজ পরিবর্তনের একমাত্র শাশ্বত চ্যালেঞ্জিং বিধান। এটি শুধু মুসলিম তথা ইসলামে বিশ্বাসীদের জন্য নয়। এটা গোটা মানব গোষ্ঠীর উন্নতি ও অগ্রগতির সোপান। এই মহাগ্রন্থের কল্যাণকর পতাকা প্রতিটি হৃদয়ে, প্রতিটি ঘরে। মুনা এই বিশ্বাস ধারণ করেই এবারের কনভেনশনে মূল কেন্দ্রীয় প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করেছে। গংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, মুনা নিজের সদস্য ও অন্যান্য মুসলিমদেরকে নিয়ে এমন একটি প্লাটফর্ম তৈরি করে দিতে চায় যাতে তারা অন্য ধর্মাবলম্বী, ভিন্ন ভাষাভাষী বর্ণ ও গোত্রের জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবেশীদের সাথে পারস্পরিক সংলাপে নিয়োজিত হতে পারে। যারমাধ্যমে সাম্প্রদায়িক বোঝাপড়া, সামাজিক প্রসার ও উন্নয়ন ঘটানো যায়। মুনা মনে করে- এ প্রক্রিয়ায় সমাজের সৌহার্দ্য ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব। এবারের কনভেনশন এক্ষেত্রেকার্যকর ভূমিকা রাখবে।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, মুনা একটি অরাজনৈতিক সংগঠন হলেও রাজনীতি সম্পর্কে উদাসীন নয়। মুনা চায় রাজনৈতিক বিষয়াবলীতেনাগরিকগণ সচেতনভাবে অংশগ্রহণ করুক এবং এর ফলে রাষ্ট্রীয় জীবনে সুচারু সিস্টেম বহাল থাকুক। মুনা চায় বিশ্বকে নেতৃত্ব দানকারী এই যুক্তরাষ্ট্রের জনশক্তি এবং অন্যান্য নাগরিকগণ বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সাথে সক্রিয় যোগাযোগ রক্ষা করে চলুক যাতে করে তাদের কথা শোনা হবে এবং তাদের অধিকার রক্ষা করা যাবে । তাদেরকে বৈষম্যের রাজনৈতিক জীবনের এক প্রান্তে ঠেলে দিয়ে উপেক্ষা করা হবে না। মুনা চায়, বাংলাদেশী আমেরিকানরা কর্মতৎপরতায় বেশি বেশি করে সক্রিয় অংশগ্রহণ করুক। সাথে সাথে বর্তমান তরুণ প্রজন্মকে গড্ডালিকা প্রবাহ থেকে বাঁচাতে চায়। প্রতিটি বাংলা ভাষাভাষী অভিভাবক তাদের সন্তানকে মুনা ইয়ূথ এবং ইয়ং সিস্টার অফ মুনার সাথে সম্পৃক্ত করুক। মুনা চায় বাংলাদেশী আমেরিকানদের আমেরিকার মূলধারার মুসলিম স্কলার ও নেতৃবৃন্দের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে। এবারের সম্মেলনে দিকনির্দেশনা সম্বলিত আলোচনা রাখবেন বিশ্ব বিখ্যাত সুপরিচিত অভিজ্ঞ আলোচকবৃন্দ। এবারের ইংরেজি আলোচকদের সাথে সাথে থাকবেন বাংলাদেশ ও অন্যান্য দেশ থেকে আগত বাংলা ভাষার ইসলামিক স্কলারগণ।
সম্মেলনে প্রতিবারের মতো এবারও রয়েছে তরুণ ছেলেমেয়েদর জন্য আলাদা ‘ইয়ূথ কনভেনশন এবং ইয়ং সিস্টার্স কনভেনশন’। আল- কোরআনের অনুসারে কল্যাণকর জীবন যাপনের বিভিন্ন দিক ও বিভাগের উপর প্যারালাল প্রোগ্রাম রয়েছে। কনভেনশনের অন্যান্য কর্মকান্ডের মধ্যে আলোচনা ছাড়া থাকবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ ইনকের শরৎ উৎসব ও ফ্যামিলি নাইট
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে ‘কল সেন্টার’ চালু
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের নয়া কমিটির বর্ণাঢ্য অভিষেক এবং ১৩তম চার্টার বার্ষিকী উদযাপন
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About Student Loan Scams
- Justice, equality and human rights essential to building a lasting culture of peace: Irene Khan
- ন্যায়বিচার, সমতা ও মানবাধিকারই টেকসই শান্তির সংস্কৃতি গড়ার ভিত্তি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
- যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে চায় : স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সারাহ
- নিউইয়র্কে মুসলিম কমিউনিটি ও আহলে সুন্নাতুল জামাতের ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল