যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউইউএসটির বর্ণিল সমাবর্তন ২০২৩, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের শুভেচ্ছা
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের একটি শুভেচ্ছাপত্র পেলেন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’র গ্রাজুয়েটেড শিক্ষার্থীরা। ১৭ জুন ছিলো এই গ্রাজুয়েশন সেরিমনি। ক্লাস অব টোয়েন্টি টোয়েন্টিথ্রি। গাউন ও হ্যাট পরে শিক্ষার্থীরা গ্রাজুয়েশন প্যারেডে অংশ নেন। আর গ্রহণ করেন গ্রাজুয়েশন সনদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৬ জন শিক্ষার্থী পেলেন এই সমাবর্তন।
এক আলোঝলমল বিকেলে ভার্জিনিয়ার জর্জ সি মার্শাল হাইস্কুল প্রাঙ্গণটি ভরে উছেছিলো কালো ও কমলার গাউন পরা নব্য গ্রাজুয়েটদের আনাগোনায়। আর অভ্যাগত অতিথিরা পরে ছিলেন কালোর সঙ্গে আর হরেক রঙ মিশিয়ে- কোনোটি নীল, কোনটি মেজেন্টা কিংবা লাল। সব মিলিয়ে এক বর্ণিল গ্রাজুয়েশন।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তা বহন করে এনেছিলেন তারই সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা বব জে ন্যাশ। চিঠিতে সাবেক ইউএস প্রেসিডেন্ট ডব্লিউইউএসটির কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। ডব্লিউইউএসটি যেভাবে শিক্ষার সেবা দিয়ে যাচ্ছে এই সেবা যেন অব্যাহত থাকে তার আহ্বান জানান। আর গ্রাজুয়েটড শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “পরিবর্তনশীল পৃথিবীটাকে সঠিক পথ ধরে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব এখন আপনাদের।”
সমার্তন শুরু হয় দুপুর ২টায়। তখন গাউনধারী শিক্ষার্থীরা গ্রাজুয়েশন প্যারেড করে নির্ধারিত নিজ নিজ আসনে বসেন। ওদিকে আগে থেকেই মঞ্চ ততক্ষণে ঝলমল গুরুত্বপূর্ণ সকল উপস্থিতিতে। তাদের সঙ্গে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ, শিক্ষকরাও। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের মূল পর্ব।
এরপর মঞ্চে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ। তুলে ধরেন তার জীবনের গল্প। সাফল্যের পথটি যে নয় মসৃণ। সেখানে কত থাকে উত্থান-পতনের গল্প তা তুলে ধরেন। আনুষ্ঠানিক সমার্বতন বক্তৃতায় তিনি গ্রাজুয়েটেড শিক্ষার্থীদের উদ্যেশ্যে বলেন, জীবনের প্রকৃত যুদ্ধ এখান থেকেই শুরু, একটা দৃঢ়চেতা মন নিয়ে অব্যহত চেষ্টাই পারবে জীবনের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে।
সমাবর্তনে প্রধান অতিথি ও কি-নোট স্পিকার ছিলেন সাবেক ইউএস রিপ্রেজেন্টেটিভ জিম মোরান। তার উপদেশমূলক বক্তব্য মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শোনেন শিক্ষার্থী তথা অভ্যাগত অতিথিরা। নিয়মিত শারিরিক ব্যায়াম করা, প্রতিদিন নতুন কিছু শেখা, এবং নিজেকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার পরামর্শ রাখেন তিনি।
গেস্ট স্পিকার ছিলেন ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্সের স্টেট সিনেটর চ্যাপ পিটারসেন। মাস্টার্স সম্পন্ন করা গ্রাডুয়েটদের তাদের শিক্ষার আলো নানা ভাবে সর্বত্র ছড়িয়ে দেবার আহবান জানান। তিনি বলেন, ডাইভারসিটিই যুক্তরাষ্ট্রের সেরা সৌন্দর্য। একজন প্রথম বাংলাদেশি আমেরিকান হিসেবে আবুবকর হানিপ এখানে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলেছেন যা আমাদের গৌরবান্বিত করে, বলেন চ্যাপ পিটারসেন।
ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলোজির গ্রাজুয়েটদের এবং কর্তৃপক্ষকে শুভেচ্ছা জানান ইউএস সেনেট মেজোরিটি লিডার চ্যাক শুমার। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে সকল সেক্টেরেই রয়েছে শিক্ষার্থীদের সুযোগ, এই সুযোগকে কাজে লাগাতে এগিয়ে যেতে হবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেটা পারবে বলে আশা ব্যক্ত করেন সেনেটর চাক শুমার।
ভিডিও বার্তা পাঠান কংগ্রেস ম্যান গ্যারি কন্নলী ও কনগ্রেস উইম্যান গ্রেস মেং।
অনুষ্ঠানে অভ্যাগত অতিথি হয়ে এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে স্বীয় ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত অন্য আরও অনেক বাংলাদেশি-আমেরিকান। যারা এই গ্রাজুয়েশন-কনভোকেশনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি-আমেরিকান জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট স্টেট সেনেটর শেখ রহমান তুলে ধরেন তার জীবনে গল্প। একটি বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রি তার জীবনটাকে কিভাবে বদলে দিয়েছে তা তুলে ধরেন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে। টেম্পল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল মেডিসিনের অধ্যাপক ড. জিয়াউর রহমান তার বক্তব্যে তুলে আনেন কতগুলো ডিগ্রি তাকে নিতে হয়েছে তার বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে, নেতৃত্বের দিকে এগিয়ে নিতে। আইটি বিশেষজ্ঞ ও আইটি উদ্যোক্তা ড. ফয়সাল কাদির নব্য গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরেন পরবর্তী করণীয় দিকগুলো। প্রকৌশল উদ্যোক্তা ও ফিলানথ্রপিস্ট, মোলি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি সৈয়দ জাকি হোসেন বলেন, অসীম সম্ভাবনা দেশ এই যুক্তরাষ্ট্র। শিক্ষার্থীদের সামনে রয়েছে অপার সুযোগ। বক্তব্য রাখেন ডব্লিউইউএসটির উপদেষ্টা মো: মিজানুর রহমান, উপদেষ্টা মো: সিদ্দীক শেখ।
বিশ্ববিদ্য্যলয়ের সিএফও ডব্লিউইউএসটির সিএফও ফারহানা হানিপ শিক্ষাউদ্যোগে তার পারিবারিক ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে বলেন, ওয়াশিংটন ইউনিভর্সিট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির শিক্ষার্থীরা তাদের পরিবারকেই খুঁজে পাবে এই ক্যাম্পাসে।
শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্কুল অব বিজনেসের কেলি ডি আলসেন্টারা এবং ইনফরমেশন টেকনোলজিতে মাস্টার্স সম্পন্ন করে সনদপ্রাপ্ত অফুনি এডা আগাডা। তারা তাদের এগিয়ে যাওয়ার উদ্দীপনার কথা তুলে ধরেন। যা তারা পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টিদের কাছ থেকে।
পরে একে একে শিক্ষার্থীদের মাঝে তাদের গ্রাজুয়েশন ডিগ্রির সনদ তুলে দেওয়া হয়। প্রথমেই মঞ্চে আসে স্কুল অব আইটির গ্রাজুয়েটরা। এই স্কুলের পরিচালক অধ্যাপক ড. পল এপোস্টোলস আগাসপোলস শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেন। আর স্কুল অব বিজনেসের গ্রাজুয়েটদের সনদ দেন এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মার্ক রবিনসন।
শিক্ষার্থীরা সনদ নিয়ে ছবি তোলার সুযোগ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর আবুবহর হানিপ ও প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্কের সঙ্গে।পরে সনদ হাতে শিক্ষার্থীরা নিজ আসনে বসলে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রাজুয়েশন ডিগ্রিপ্রাপ্ত হিসেবে ঘোষণা করেন ড. হাসান কারাবার্ক। শিক্ষার্থীরা তাদের গ্রাজুয়েশন হ্যাটে ট্যাসলটি ডান দিক থেকে বাম দিকে সরিয়ে দিয়ে গ্রাজুয়েশন রিচুয়াল শেষ করে।
আর এর পরপরই সেই অনন্য দৃশ্য। শিক্ষার্থীরা তাদের হ্যাট খুলে ছুঁড়ে মারে উপরে আর মেতে ওঠে আনন্দ উদযাপনে। যা শেষ হয় ফটো সেশনের মধ্য দিয়ে। সনদ বিতরণ শেষে অভ্যাগত অতিথিরা যোগ দেন কনভোকেশন ডিনারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. জাফর পিরিম, ড. শ্যান চো, অ্যাসোসিয়েট ডাইরেক্টর ড. হুয়ান লি ছাড়াও শিক্ষকদের অনেকেই অংশ নেন এই কনভোকেশনে। মাস্টার অব দ্য সেরিমনি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা র্যাচেল রোজ।
২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০২১ সাল থেকে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সফল বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ইঞ্জি. আবুবকর হানিপের ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বাংলাদেশি আমেরিকানের হাতে পরিচালিত প্রথম কোনো পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে তথ্য-প্রযুক্তি, সাইবার সিকিউরিটি ও এমবিএ- বিবিএ কোর্সে বর্তমানে প্রায় পোনেরশো শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। যার মধ্যে বাংলাদেশী শিক্ষার্থী রয়েছে ৬শর মত। বিশ্বের ১২১ দেশের শিক্ষার্থীরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে অধ্যয়নরত রয়েছেন।
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল
- New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial
- নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
- নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে
- নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance.








