যুক্তরাষ্ট্রের স্যান্ডিতে বিপর্যস্ত বাংলাদেশিরা

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে ঘূর্ণিঝড়ের সময় আগুনে পুড়ে যাওয়া গাড়ি ও ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি -ছবি: এএফপি|
ইব্রাহীম চৌধুরী, নিউইয়র্ক : যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও নিউজার্সিতে স্যান্ডির তাণ্ডবে বিপর্যস্ত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। ঘরবাড়ি ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। তবে কোনো বাংলাদেশির প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। স্যান্ডি আঘাত হানার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ আটলান্টিক সিটি থেকে গত রোববার সরে যান অধিকাংশ বাংলাদেশি। পরিবার ও স্বজনদের নিয়ে আশ্রয় নেন নিরাপদ স্থানে। আটলান্টিক সিটিতে বসবাসরত নাসের আহমেদ জানান, স্ত্রী, মেয়ে, বোনসহ ১১ জনকে নিয়ে তিনি প্যাটারসন শহরে এক আত্মীয়র বাসায় আশ্রয় নেন। নিজের ফেলে আসা বাড়িঘরের খোঁজও নিতে পারছেন না। নিউব্রান্স-উইক শহরে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী এনাম চৌধুরী ও মোহাম্মদ চৌধুরী জানান, তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং ঘরবাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। বাড়ির সামনে গাছ পড়ে একরকম অবরুদ্ধ হয়ে আছেন। নিউজার্সির হ্যালটন শহরে ৩৪ বছর ধরে বসবাস করছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মামুন ইউ আহমেদ। দীর্ঘ প্রবাসজীবনে এমন দুর্বিপাক দেখেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, হারিকেনের কারণে তাঁর ১৪টি দোকান বন্ধ রাখতে হচ্ছে। বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির শঙ্কায় পড়েছেন তিনি। ম্যানহাটনে বাংলাদেশি ক্যাবচালক বদরুল আসলাম জানান, তিনি ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। সড়ক-মহাসড়ক বন্ধ থাকায় ঠিকমতো ক্যাব চালানো যাচ্ছে না। তিনি জানান, অধিকাংশ বাংলাদেশি ক্যাবচালক সোম ও মঙ্গলবার কাজ করেননি। নগর সচল হলে বৃহস্পতিবার থেকে ভালোভাবে কাজ শুরু করা যাবে বলে জানান আরেক ক্যাবচালক মোহাম্মদ রহমান।
আটলান্টিক সিটিতে গৃহহীন ৪ হাজার বাংলাদেশি
নিউজ ওয়ার্ল্ড : শক্তিশালী আটলান্টিক ঝড় স্যান্ডির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিদের সংখ্যা ব্যাপক। নিউ ইয়র্ক সিটির প্রায় ২০০ মাইল দূরে আটলান্টিক সিটিতে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় চার হাজার। ক্যাসিনো সিটি হিসেবে পরিচিত এই নগরীর বাসিন্দা সব বাংলাদেশিকে বাধ্যতামূলক বাড়ি ছাড়তে হয়েছে। এখনও তারা বাড়ি ফিরতে পারেননি। প্রচণ্ড জলোচ্ছাসে আটলান্টিক সিটিতেই বাংলাদেশিদের প্রায় তিন হাজার বাড়িঘর জলোচ্ছাসে আক্রান্ত হয়েছে। আটলান্টিক সিটির বাসিন্দা বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতা মোহাম্মদ শাহীন ও সোলায়মান সেরনিয়াবাদ এ তথ্য জানান।
মোহাম্মদ শাহীন বলেন, আটলান্টিক সিটির প্রায় ৫ হাজার বাসিন্দা মহাঝড় স্যান্ডিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের সবাইকে গত রোববার বাধ্যতামূলকভাবে বাড়ি ছাড়তে হয়েছে। পরিবার পরিজন নিয়ে এ বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি এখন বন্ধ- বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। আটলান্টিক সিটিতে এখনও কারফিউ রয়েছে। মনে করা হচ্ছে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে লোকজনকে বাড়ি ফেরার অনুমতি দেওয়া হবে।
আটলান্টিক সিটির বাসিন্দা জাহাঙ্গীর ভুইয়া টেলিফোনে বলেন, রোববার থেকে আমরা বিভিন্ন বন্ধু-বান্ধবের বাড়িতে অবস্থান করছি। আটলান্টিক কাউন্টির অধীনে সিটির আশপাশে তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশির বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। এসব বাড়িঘর ঠিক করে বাসযোগ্য করতে বেশ সময় লাগবে।
উল্লেখ্য যে, কিছু ব্যবসা-বাণিজ্য ছাড়া আটলান্টিক সিটির ৮০ ভাগ বাংলাদেশি সেখানকার ক্যাসিনোতে কাজ করেন। বিশ্বের বিখ্যাত তাজমহলসহ ১৩টি ক্যাসিনো নিয়ে আটলান্টিক সিটি গঠিত। বিশ্বের পর্যটকদের অন্যতম বড় আকর্ষণ হচ্ছে আটলান্টিক সাগরের পাড়ে অবস্থিত আটলান্টিক সিটি।
জানা গেছে, আটলান্টিক সিটিতে বাংলাদেশিদের মালিকানাধীন বেশ কিছু ব্যবসা-বাণিজ্য রয়েছে। এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও পানি প্রবেশ করায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
আটলান্টিক সিটির আরেক বাসিন্দা জসীম উদ্দীন বলেন, গত রোববার থেকে আমরা রিফিউজির মতো বিভিন্নজনের বাড়িতে অবস্থান করছি। এটা এক ভয়াবহ স্মৃতি। কবে ঘরে ফিরবো এর নিশ্চয়তা নেই।
জানা গেছে, আটলান্টিক সিটির টেক্সাস, ইন্ডিয়ানা, ক্যালিফোর্নিয়া, আরিজোনা বস্টন এভিন্যুসহ আশপাশে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বসবাস করেন।
বস্টন এভিন্যুর বাসিন্দা বেলাল হোসেন ভুইয়া বলেন, স্যান্ডির ভয়ে আমরা আটলান্টিক সিটি থেকে প্রায় ২৫ মাইল দূরে এক বন্ধুর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি।
আমি নিজেও একটি এপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ের মালিক। কিন্তু বিল্ডিংয়ের নীচতলার অর্ধেক ডুবে গেছে বানের পানির নীচে। এসব ঠিক করতে অনেক সময় লাগবে।
উল্লেখ্য যে, আটলান্টিক সিটির বাসিন্দা হচ্ছে প্রায় ৩৫ হাজার। এরমধ্যে আশপাশ মিলিয়ে প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশির বসবাস রয়েছে সেখানে।
এদিকে নিউজার্সির গভর্নর ক্রিস্ট ক্রিস্টি ঝড়ের তান্ডবে বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কট্টর রিপাবলিকান হওয়া সত্ত্বেও দুর্যোগের সময় পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি প্রেসিডেন্ট ওবামার ভূয়সী প্রশংসা করেছে।
মিথ রমনীর সমর্থক হওয়া সত্ত্বেও তিনি বলেন, এ মুহূর্তে নির্বাচন আর রাজনীতিকে থোড়াই তোয়াক্কা করছি আমি। আগে দেশ তারপর রাজনীতি।
এদিকে নিউজার্সির মিডলসেক্স কাউন্টিতে প্রায় ১৫টি বাংলাদেশি পরিবার গত রোববার থেকে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় দুর্যোগময় সময় অতিক্রান্ত করছে বলে জানা গেছে।
স্যান্ডি আক্রান্ত এসব পরিবারের অন্যতম সাংবাদিক ইব্রাহিম চৌধুরী খোকন বলেন, গত দুদিন থেকে আমাদের বাড়িতে বিদ্যুৎ ও গ্যাস নেই। ফলে রান্নাবান্না করা যাচ্ছে না। এখন চিড়া-মুড়ি-কলাসহ শুকনা খাবার খেয়ে আমরা সময় পার করছি।
নিউজার্সির পেটারসনের বাংলাদেশি ব্যবসায়ী মামুন ইসলাম বলেন, রোববার থেকে আমার ১৪টি ডানকিন ডোনান্ট বন্ধ। কবে খুলতে পারবো তাও নিশ্চিত নয়। কারণ, বাস-ট্রেন চালু না হলে কর্মচারীরা কাজে আসতে পারবে না। নিউ ইয়র্ক সিটির ব্রঙ্কসের জেরিগো এভিন্যুতে গাছ পড়ে একজন বাংলাদেশির বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া লং আইল্যান্ডে বসবাসরত প্রায় দুই শতাধিক বাংলাদেশি পেশাজীবী গত দুদিন থেকে মোমবাতি জালিয়ে সময় কাটাচ্ছেন। ওই এলাকায় গত সোমবার থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
এদিকে সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, স্যান্ডির কারণে কেবল নিউ ইয়র্কেই মৃতের সংখ্যা ২২-এ উন্নীত হয়েছে। সর্বমোট মৃত্যের সংখ্যা ৪০ বলে জানা গেছে।
- নিউইয়র্কে আমেরিকান ট্রাভেল এজেন্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান
- BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY”
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত








