যুক্তরাষ্ট্রে গৃহকর্মির দায়ের করা মামলায় আদালত থেকে এখনো কোন নোটিশ পাননি নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : যুক্তরাষ্ট্রে গৃহকর্মির দায়ের করা মামলায় আদালত থেকে এখনো কোন নোটিশ পাননি নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম। কোন তদন্ত সংস্থাও তাকে এখন পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করেনি মামলার বিষয়ে। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস শুক্রবার মামলা দায়ের হওয়ায় এ নিয়ে এখনো কোন আইনি তৎপরতা শুরু হয়নি বলে জানা গেছে। তবে ন্যুনতম মজুরী আইন লংঘন, গৃহকর্মি নির্যাতন এবং অসাধু শ্রম ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশী কুটনৈতিক মনিরুল ইসলাম এবং তাঁর স্ত্রী ফাহিমা ইসলাম প্রভার নামে তাদের গৃহকর্মির দায়ের করা মামলায় যে কোন সময় পুলিশি ততপরতা শুরু হওয়ার আশংকা রয়েছে।
এদিকে গৃহকর্মির দায়ের করা এ মামলা আইনগত ভাবেই মোকাবেলা করবেন বলে জানিয়েছেন কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম। স্থানীয় সময় শনিবার সংবাদ মাধ্যম থেকে মামলা দায়েরের ঘটনাটি জানার পর পুরো বিষয়টি ঢাকায় পররাষ্ট্র দপ্তরে জানিয়েছেন তিনি। মামলা দায়েরের সংবাদ পাওয়ার পর মনিরুল ইসলাম কুমিল্লার মুরাদনগরে কথা বলেছেন নিখোঁজ গৃহকর্মি মাসুদ পারভেজের বাবা নাসির উদ্দিনের সাথেও। মাসুদ পারভেজের বাবা কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলামকে বলেছেন, নাসির উদ্দিন নিউইয়র্কে তার ছেলের কোন ততপরতা সম্পর্কে অবহিত নন, ছেলের সাথে কোন যোগাযোগ হয়নি বা ছেলের অবস্থান সম্পর্কেও তিনি জানেন কিছুই না। গৃহকর্মি মাসুদ পারভেজকে নিউইয়র্কে কোথাও খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে আবারও জানান মনিরুল ইসলাম।
যুক্তরাষ্ট্র সহ বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে গৃহকর্মি নির্যাতন এবং মজুরী বঞ্চিত করার এসংক্রান্ত সংবাদটি ব্যাপক ভাবে প্রচারিত হওয়ায় এ নিয়ে কুটনৈতিক মহলসহ প্রবাসীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রীতিমত তোলপাড় শুরু হয়েছে সর্বত্র। অনেকেই বলছেন, ভারতীয় কুটনৈতিক দেবযানীর ঘটনার পর বাংলাদেশী কুটনৈতিকের বিরুদ্ধে একই অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের ভাবমুর্তি দারুণভাবে ক্ষুন্ন হবে। অনেক প্রবাসী মনে করছেন, গৃহকর্মি মাসুদ পারভেজ যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার জন্যই এ মামলা দায়ের করে থাকতে পারেন। কুটনৈতিক দায়মুক্তির সীমাবদ্ধতা সহ, স্থানীয় আইনের লংঘন, মানবাধিকার সহ নানা বিষয়ে এ সংক্রান্ত তদন্ত কোন পর্যায়ে গড়াবে এ নিয়েও ইতোমধ্যেই নানা জল্পনা কল্পনা শুরু হয়েছে সর্বত্র।
এদিকে, সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত এ মামলা দায়েরের ঘটনায় মাসসিকভাবে বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছেন কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম। প্রতি উইকেন্ডেই প্রবাসীদের কোন না কোন প্রোগ্রামে যোগদান করলেও মামলা দায়েরের পরদিন শনিবার কোন প্রোগ্রামে তাকে দেখা যায়নি তাকে। প্রায় পুরোদিনই তিনি বাসায় কাটিয়েছেন বলে জানা গেছে।
কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, মরক্কোতে বাংলাদেশ দুতাবাসে রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগ দেয়ার জন্য তিনি প্রস্তুতি গ্রহন করছিলেন। বাংলাদেশ থেকে নিয়ে আসা গৃহকর্মি মাসুদ পারভেজকে তাঁর সংগে মরক্কোতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন তার বদলি আদেশ আসার পর। এ জন্য তার পাসপোর্ট কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম তার কাছ থেকে চেয়ে নিয়েছিলেন। কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম মাসুদ পারভেজকে বলেছিলেন, তুমি আমার সঙ্গে মরক্কোতে যেতে পারো, অন্যথায় দেশে চলে যেতে হবে। এ কথা শুনার পর মাসুদ পারভেজ বিষয়টি স্বাভাবিক ভাবে নেননি বলে জানান কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম। এরপর থেকেই মাসুদ পারভেজ যেভাবেই হোক যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার উপায় খুঁজছিলেন বলে তার ধারণা। এর অংশ হিসেবেই ৮/৯ দিন আগে হঠাত করেই কনসাল জেনারেলের বাসা থেকে উধাও হয়ে যান মাসুদ পারভেজ। বিভিন্নভাবে খোঁজাখুঁজি করলেও গৃহকর্মি নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে পুলিশে কোন রিপোর্ট করেননি কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম। কেবল ওয়াশিংটন দূতাবাসকে জানিয়েছিলেন টেলিফোনে। কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম পুলিশে রিপোর্ট না করার বিষয়ে জানান, হয়তো পুলিশে রিপোর্ট করলে মাসুদ পারভেজ সমস্যায় পড়বে, তার ভালোর চিন্তা করেই পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম এবং তাঁর স্ত্রী ফাহিমা ইসলাম প্রভার বিরূদ্ধে স্থানীয় সময় ২১ মার্চ শুক্রবার ম্যানহাটান ফেডারেল আদালতে তাদের বাংলাদেশী গৃহকর্মি মাসুদ পারভেজ রানা বাদী হয়ে ন্যুনতম মজুরী আইন লংঘন, নির্যাতন এবং অসাধু শ্রম ব্যবহারের জন্য মামলা দায়ের করেন। মামলায় গৃহকর্মি মাসুদ পারভেজ নির্যাতন এবং মজুরী বঞ্চনার অভিয়োগ ছাড়াও গত ১৮ মাস তাকে বিশ্রাম বা অবকাশের সুয়োগ না দিয়ে দাস হিসাবে খাটানো হয়েছে বলে তিনি মামলায় উল্লেখ করেন। মনিরুল ইসলাম গৃহ কর্মি মাসুদ পারভেজ রানার আনীত সব অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম জানান, ম্যানহাটনে বিলাসবহুল যে এপার্টমেন্টে তারা বসবাস করছেন এ বাসাটির ভাড়া মাসে ৮০০০ ডলার। বিস্তৃত পরিসরের এ বাসাটিতে তাকে যেভাবে থাকতে দেয়া হতো তার ভাড়া হিসেব করলেও তা মাসে ৩০০০ ডলার হবে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি জানান, এই বাড়িতে নেয়ার পর মাসুদকে বাড়ি থেকে বের হতে দেয়া হতো না, তাকে প্রহার ও হত্যার হুমকি দেয়া হতো। বাইরে বেরুলে পুলিশ গ্রেপ্তার করবে তাকে। হত্যাও করতে পারে – বলে মাসুদ পারভেজ যে অভিযোগ এনেছে তার সবই সর্বৈব মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। মনিরুল ইসলাম জানান, তিনি প্রকৃতপক্ষে মাসুদ পারভেজকে বলেছিলেন, তুমি আমার সঙ্গে মরক্কোতে না গিয়ে এখানে থেকে গেলে অবৈধ হয়ে যাবে, তখন পুলিশ তোমাকে গ্রেপ্তার করবে।
মনিরুল ইসলাম জানান, গৃহকর্মি হিসাবে মাসুদ পারভেজকে নিউইয়র্কে নিয়ে আসার আগেই তিনি তার বাবাকে চেকে ১২ লাখ টাকা এবং ক্যাশে ৮ লাখ টাকা অগ্রিম দিয়েছিলেন বেতন হিসেবে। চুক্তি ছিল মাসুদ পারভেজের মজুরী থেকে এ টাকা ক্রমান্বয়ে সমন্বয় হবে। এসংক্রান্ত লেন-দেনের যথাযথ প্রমান পত্র তাঁর কাছে রয়েছে বলে কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন। তিনি জানান, গৃহকর্মি মাসুদ পারভেজের বাবাকে অগ্রিম ওই অর্থ ছাড়াও মাসুদ পারভেজকেও তিনি মাঝে মধ্যে অর্থ প্রদান করতেন। যার প্রমাণ হিসেবে বলেন, এখনো মাসুদ পারভেজের ব্যাংক একাউন্টে তার দেয়া প্রায় ১০ হাজার ডলার রয়েছে।
- নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া
- নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব
- Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone
- যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট
- Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan
- বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাস্তবায়ন উপলক্ষে নিউইয়র্কে সমাবেশ, আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার প্রত্যয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের
- অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
- নিউইয়র্কে হিউম্যান সাপোর্টের বিনামূল্যে ফ্লু টিকাদান কর্মসূচি