Tuesday, 10 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৭ মার্চ ঘড়ির কাঁটা এক ঘন্টা এগিয়ে যাবে নিউইয়র্কে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল Radwan Chowdhury Announces Candidacy for Montgomery County Council At-Large, Launches “Five-Pillar Blueprint” for Accountable Governance. New York Attorney General James Reminds New Yorkers of SNAP Work Requirements নিউইয়র্কে ডিজিটাল ওয়ান ট্র্যাভেলস এবং বাংলা ট্র্যাভেলস এর ইফতার মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় উৎসব আমেজে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 19 বার

প্রকাশিত: June 28, 2023 | 10:33 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : মুসলিম বিশ্বসহ সমগ্র মানবতার কল্যাণ কামনার মধ্য দিয়ে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসব আমেজে যুক্তরাষ্ট্রে বুধবার ২৮ জুন উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আযহা। চমৎকার আবহাওয়া থাকায় বিভিন্ন মসজিদের ব্যবস্থাপনায় খোলা মাঠে ও মসজিদে ঈদ জামাতে মানুষের ঢল নেমেছিল। ত্যাগের মহিমা নিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন স্টেটে বসবাসরত মুসলমানগণ এদিন পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করেন। খবর ইউএসএনিউজঅনলাইন’র।
যুক্তরাষ্ট্রে সর্বত্রই ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদ জামায়াত। অধিকাংশ ঈদ জামায়াত সকাল ৭টা থেকে সকাল সাড়ে ১০ টার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়। আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাললাহু, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে মসজিদ ও ঈদগাহ প্রাঙ্গণ।
নিউইয়র্কে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার, বাংলাবাজার জামে মসজিদ, নর্থ ব্রঙ্কস ইসলামিক সেন্টার, জ্যাকসন হাইটস মোহাম্মদী সেন্টার, পার্কচেস্টার জামে মসজিদ, মসজিদ আল আমান, আল আমিন মসজিদ, বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টার, আসসাফা ইসলামিক সেন্টার, বায়তুল জান্নাহ মসজিদ, ফুলতলী ইসলামিক সেন্টার এন্ড মসজিদ, জ্যাকসন হাইটস ইসলামিক সেন্টার, সানিসাইড মসজিদ, মসজিদ আবু হুরায়রা, দারুস সুন্নাহ জামে মসজিদ, আল ফোরকান জামে মসজিদ, আমেরিকান মুসলিম সেন্টার, শাহজালাল মসজিদ, গাউছিয়া মসজিদ, পার্কচেস্টার ইসলামিক সেন্টার, ব্রঙ্কস মুসলিম সেন্টার সহ অন্যান্য মসজিদের ব্যবস্থাপনায় ঈদের বৃহৎ জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে, নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের পরিচালনায় সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে কুইন্সে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের উদ্যোগে। টমাস এডিসন হাই স্কুল মাঠে সকাল সোয়া ৮টার এ জামাতে মূলধারার রাজনীতিক এবং স্টেট ও সিটি প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা ঈদ জামাতে এসে ঈদ মুবারক জানিয়েছেন। নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেণ ড. মনিরুল ইসলাম এখানে ঈদের নামাজ আদায় ও মসুল্লিদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
জেএমসি আয়োজিত ঈদের জামাতে ইমামতি এবং বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন জেএমসি’র খতিব ও ইমাম মওলানা মির্জা আবু জাফর বেগ আর খুৎবা পাঠ করেন শেখ জুনায়েদ। নামাজের আগে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলীম্যান ডেভিড আই ওয়েপ্রীন। এছাড়াও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জেএমসি পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডা. সিদ্দিকুর রহমান এবং ট্রাষ্টিবোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. নাজমুল খান। এই পর্ব পরিচালনা করেন জেএমসি’র সেক্রেটারী আফতাব মান্নান।
নিউইয়র্কে ব্রঙ্কসে বাংলাবাজার জামে মসজিদের উদ্যোগে খোলা মাঠে পবিত্র ঈদুল আজহার বিশাল জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। মসজিদের নিকটবর্তী খোলা মাঠে (পিএস ১০৬, ২১২০ সেইন্ট রেমন্ডস এভিনিউ, ব্রঙ্কস, নিউইয়র্ক ১০৪৬২।) বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় এ জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সহ বিপুল মুসল্লী এই ঈদ জামাতে অংশ নেন।
ঈদ জামায়াতে ইমামতি করেন বাংলাবাজার জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা আবুল কাশেম মোহাম্মদ ইয়াহইয়া।
মসজিদের সভাপতি ডা. আবদুস সবুরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক লালন আহমেদের পরিচালনায় জামাতের পূর্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর ন্যাথালিয়া ফার্নান্দেজ এবং উপদেষ্টা মোহাম্মদ এন মজুমদার।
বক্তারা বাংলাবাজার জামে মসজিদের বহুতল ভবণ নির্মানে সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন মসজিদ কমিটির সহ সভাপতি মো. আহসান রাসুল নাসির, মোহাম্মদ হাসান, সহ সাধারণ সম্পাদক শামিম উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ ইকবাল হোসেন, সহ কোষাধ্যক্ষ সোহেল চৌধুরী, কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহান, মোহাম্মদ আজিজুল হক, মোহাম্মদ বখতিয়ার খোকন, মিজানুর রহমান, ওয়ালিউর রহমান, জাফর তালুকদার, সেবুল খান, ফারুক আহমেদ ও মো. জসিম উদ্দিন। সহযোগিতায় ছিলেন উপদেষ্টাআব্দুর রব ধলা মিয়া, ইকবাল হোসেন মাহবুব প্রমুখ।
নামাজে বাংলাবাজার জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ গিয়াস উদ্দিনের আত্মার মাগফেরাতসহ বিশ্ব মানবতার কল্যাণ ও শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।
নিউইয়র্কে নর্থ ব্রঙ্কস ইসলামিক সেন্টার অ্যান্ড জামে মসজিদের উদ্যোগে বুধবার সকাল ৯টায় মসজিদ নিকটবর্তী ওভাল পার্কের খোলা মাঠে বিশাল ঈদ জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। বিপুল সংখ্যক মুসল্লী এই ঈদ জামাতে অংশ নেন।
নামাজে ইমামতি এবং ঈদুল আজহার গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন মসজিদের খতিব, আইএসএনবিআইসি’র ডাইরেক্টর আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ইসলামিক স্কলার শায়েখ আল্লামা মুহাম্মদ সাইফুল আজম বাবর আল আজহারী। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ ইকবাল হোসাইন। বক্তব্য রাখেন মসজিদ কমিটির সিনিয়র সহ সভাপতি মাওলানা সৈয়দ জুবায়ের আহমেদ, মসজিদের ইমাম ও খতীব হাফিজ মুসাদ্দেক আহমেদ।
নামাজ শেষে মিলাদ ও মুসলিম বিশ্বসহ সমগ্র মানবতার কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন শায়েখ আল্লামা মুহাম্মদ সাইফুল আজম বাবর আল আজহারী।
সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন মসজিদ কমিটির সভাপতি সৈয়দ জামিন আলী, সহ সাধারণ সম্পাদক শাহ জাকারিয়া, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ মাহবুব হুসেইন, সহ কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ রাহুল ইসলাম, কার্যকরী সদস্য সৈয়দ ইসাক আলী, মো. আব্দুল হক হেলাল, নজমুল খান, মো. আব্দুল ছালেক, মো. মহি উদ্দিন, লুৎফুর শাহজাহান, মো. আতাউর রহমানসহ কমিটির সদস্যবৃন্দ।
জ্যাকসন হাইটস মোহাম্মদী সেন্টারের উদ্যোগে নিউইয়র্ক ঈদগাহে একধিক জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মুসল্লির সমাগম ঘটে। নিউইয়র্ক ঈদগার পক্ষ থেকে ইমাম কাজী কায়্যূম ৫টি জামায়াতে আগত মুসল্লিদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। প্রতিটি জামাতের খুতবা শেষে বিশ্ব মানবতার কল্যাণ ও বিশ্ব শান্তির জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
পার্কচেস্টার জামে মসজিদে ঈদের দু’টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাতে মহিলাদের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা ছিল।
প্রথম জামাতে ইমামতি করেন মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা জুবাইর রাশিদ। দ্বিতীয় জামায়াতে ইমামতি করেন মৌলভী নূরুল ইসলাম।

আমেরিকান মুসলিম সেন্টার (এএমসি)-এর উদ্যোগে ঈদুল আযহার ৫টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম তিনটি জামাত হয় অনুষ্ঠিত হয় মসজিদ ভবনে যথাক্রমে সকাল ৬টা, ৭টা, ৮ট ও ৯টায়। এরপর চতুর্থ ও পঞ্চম জামাত অনুষ্ঠিত হয় জ্যামাইকার রুফস কিং পার্কে যথাক্রমে সকাল ৯টা এবং সকাল ১০টার দিকে। তবে এখানকার চতুর্থ জামাত আদায়ের সময় ইমামের অসাবধানতাবশত ভুলের কারণে দু’বার নামাজ আদায় করতে হয়। এনিয়ে কয়েকজন মুসল্লি তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
জ্যামাইকার মসজিদ আল আলাফা (আরাফা ইসলামিক সেন্টার)-এর উদ্যোগে পবিত্র ঈদুল আযহার একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে ৮টায় স্থানীয় সুসান বি এন্থনী স্কুলের খোলা মাঠে। এতে ইমামতি করেন ইমাম মোহাম্মদ শোয়েব। এখানে সর্বস্তরের শত শত পুরুষ ও মহিলা জামাতে অংশ নেন।
জ্যামাইকার ‘হাজী ক্যাম্প মসজিদ’ নামে পরিচিত মসজিদ মিশনে ঈদুল আযহার ৪টি জামাত অনুষ্ঠিত হয় যথাক্রমে সকাল সাড়ে ৬টায়, সকাল সাড়ে ৭টা, সকাল সাড়ে ৮টা ও সকাল সাড়ে ৯টায়। জামাতগুলোতে ইমামতি করেন যথাক্রমে হাফেজ রফিকুল ইসলাম, হাফেজ তানভিরুল ইসলাম, মওলানা মঞ্জুরুল করীম ও হাফজ মারওয়ান।
ম্যানহাটানের মদিনা মসজিদের উদ্যোগে মসজিদ ভবনে ঈদের দুটি জামাত হয় যথাক্রমে সকাল সাড়ে ৮টায় ও সাড়ে ৯টায়।
এছাড়া ম্যানহাটানের মদিনা মসজিদ, আন নূর ইসলামিক সেন্টার, কুইন্সের এস্টোরিয়ায় আল আমিন মসজিদ, জ্যামাইকার মসজিদ আল আলাফা (আরাফা ইসলামিক সেন্টার) ও দারুস সালাম মসজিদ, ওজোনপার্কে আল আমান মসজিদ, ব্রুকলীনে বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টার এবং ব্রঙ্কস এলাকায় বড় ধরনের ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আটলান্টিক সিটি থেকে সুব্রত চৌধুরী – নিউজার্সির আটলান্টিক সিটিতে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ত্যাগের মহিমায় পবিএ ঈদুল আযহা উদযাপিত হয়েছে।
গত আঠাশ জুন বুধবার সকালে আটলান্টিক সিটির ৫৪৫, আলবেনি এভিনিউতে অবস্হিত সেন্ড ক্যাসেল স্টেডিয়ামের সুবিশাল প্রান্তরে প্রবাসী বাংলাদেশি আমেরিকান মুসলিম সম্প্রদায় সহ বিপুল সংখ্যক মুসলিম ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য সমবেত হন। এখানে হাজার হাজার মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন। পুরুষদের পাশাপাশি নামাজের জন্য ভিন্ন ব্যবস্থা থাকায় বিপুল সংখ্যক মহিলাও এখানে ঈদের নামাজ আদায় করেন। ঈদ জামাতে ইমামতি করেন ইমাম কামাল আল সায়েগ। নামাজ শেষে মানব জাতির কল্যাণ কামনার পাশাপাশি মহান আল্লাহর কাছে মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
আটলানটিক সিটির মসজিদ আল তাকওয়া, ইসলামিক সেন্টার অব আটলানটিক সিটি, গ্যালাওয়ে টাউনশীপের দারুস সালাম একাডেমি, প্লিজেনটভিলের মসজিদ বায়তুল নসর এর যৌথ উদ্যোগে এই বিশাল ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
বিশাল ঈদ জামাতে অংশগ্রহনকারী বাংলাদেশি আমেরিকান শাহনাজ বেগম তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে এই প্রতিবেদককে জানান,সেন্ড ক্যাসেল স্টেডিয়ামের খোলামেলা পরিবেশে ঈদের নামাজ আদায় করতে পেরে তিনি যারপরনাই খুশি। তিনি ভবিষ্যতেও এমন বিশাল ঈদ জামাতে নামাজ আদায়ের ইচ্ছে প্রকাশ করেন।
এই বিশাল ঈদ জামাতের আয়োজন প্রসঙ্গে ইসলামিক সেন্টার অব আটলান্টিক সিটির প্রতিষ্ঠাতা ইকবাল হোসাইন জানান, নিউজার্সীর মুসলিমদের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং আন্তরিকতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আটলান্টিক সিটি এবং পাশ্ববর্তী অন্যান্য মসজিদের মুসল্লীদের সমন্বয়ে একটি ঈদের জামাত করার জন্য দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ফসল আজকের এই বিশাল ঈদ জামাত।তিনি আগামীতে আরো বড় পরিসরে ঈদ জামাত আয়োজনের স্বপ্ন দেখেন ।
এদিন সকাল থেকেই প্রবাসী বাংলাদেশি মুসলিমরা ঈদ আনন্দে শরীক হতে নিজেদেরকে উজাড় করে দিয়েছিল।ঈদের নামাজ আদায় শেষে ভ্রাতৃত্ববোধে উজ্জীবিত হয়ে মুসল্লিরা পরস্পরের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
মসজিদ আল হেরা : আটলান্টিক সিটির ২৪২৬, আটলান্টিক এভেনিউস্থ বাংলাদেশি আমেরিকানদের অর্থায়নে নির্মিত ও তাদের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত আল হেরা মসজিদে ঈদের জামাতে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি মুসলিমসহ অন্যান্য কমিউনিটির মুসলিমরাও অংশ নেয়। বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি মুসলিম মহিলাও ঈদের জামাতে অংশ নেয়। ঈদের নামাজ আদায় শেষে খুৎবা প্রদান করা হয়, দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সুখ-সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করা হয়। এখানে ঈদের জামাতে ইমামতি করেন মসজিদ আল হেরার খতিব আবু সুফিয়ান ও হাফেজ নজরুল ইসলাম। এখানে দু’টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
মুসল্লিদেরকে ঈদ শুভেচছা জানান মসজিদ আল হেরার সভাপতি ওবায়দুলালহ চৌধুরী ও সাধারন সম্পাদক রিয়াজউদদীন চৌধুরী।
প্রায় তিন সহ¯্রাধিক মসজিদের ব্যবস্থাপনায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। খোলা মাঠেও প্রায় সহস্রাধিক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। অনেক মসজিদে একাধিক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে অনেক ঈদ জামাতে মহিলাদের জন্যও নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়।
সংশি¬ষ্ট সিটির পক্ষ থেকে প্রতিটি ঈদ জামাতের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা ছিল বলে জানা গেছে।
প্রবাসীদের অনেকে গরু ও খাশী কুরবানী দেন। কিন্তু দেশের মতো পশু কিনে নিজ বাড়িতে নিয়ে কুরবানী করার সুযোগ না থাকায় অধিকাংশ প্রবাসী অবশ্য আগে থেকেই স্থানীয় গ্রোসারী ও হালাল পল্ট্রি ফার্মে কুরবানীর অর্ডার দিয়ে রাখেন। সুবিধামত সময়ে গ্রোসারী ও পল্ট্রি ফার্ম থেকে প্রবাসীরা তাদের পশু কুরবানীর মাংস নিয়ে যান। বেশ কিছু গ্রোসারী ও পল্ট্রি ফার্ম কুরবানীর মাংস সরবরাহ করে ঈদের পরদিন। নামাজ শেষে অনেকে ছুটে যান পশু খামারে। দূরবর্তী স্থানের পশু খামারে গিয়ে পছন্দের গরু, খাশী অথবা ভেড়া কুরবানী দেন। অনেকে বাংলাদেশি গ্রোসারি/সুপার মার্কেট এর মাধ্যমে কুরবানী দেন। বাংলাদেশি গ্রোসারি/সুপার মার্কেট সূত্রে জানা গেছে, নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, পেনসলিভেনিয়া, কানেকটিকাট, ম্যাসেচুসেটস, ম্যারিল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, মিশিগান, জর্জিয়া, ইলিনয়, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়া, ক্যানসাস, আরিজোনা প্রভৃতি স্টেটে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক পশু কোরবানি দিয়েছেন বাংলাদেশিরা।
ভার্জিনিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়া, মিশিগান, জর্জিয়ার বিভিন্ন স্থানে খোলা ময়দানে পশু কুরবানীর পর নারী-পুরুষ মিলে মাংস প্রসেসিং করেন বলে জানা গেছে। বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি দেশে কুরবানী দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অনেকে নামাজ শেষে কাজে যান। কেউ কেউ ঘনিষ্টজন আর বন্ধুদের বাসায় গিয়েও ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। নামাজ শেষে অনেকেই বাংলাদেশে স্বজনদের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ঈদের নামাজ আদায়ে মসজিদ পরিচালনা কমিটির ব্যবস্থাপনা এবং সিটি প্রশাসনের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল উল্লেখ করার মত। জামাতের আশপাশেই ছিল নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঈদের নামাজ আদায়ের স্থানগুলোর আশপাশের রাস্তায় ফ্রি গাড়ী পার্কিং থাকায় দূর দূরান্ত থেকে নির্বিঘেœ বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লী সপরিবারে ঈদের নামাজে শরীক হন। মুসলিম বিশ্বসহ সমগ্র মানবতার কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV