যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন:যেসব কারণে হারল ডেমোক্রেটিক পার্টি
ইউএএনিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি প্রতিনিধি সভার নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে। সিনেটে ওই পার্টির আসন সংখ্যা আগের চেয়ে বেড়েছে। এছাড়া বিভিন্ন রাজ্যের গভর্নর নির্বাচনেও দলটি ভালো করেছে। রিপাবলিকান পার্টির অতি রক্ষণশীল অংশের টি-পার্টি মুভমেন্ট ওই বিজয়ের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের পরাজয় নিয়ে শুরু হয়েছে বিভিন্ন মতামত প্রকাশ। ওই ফল নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে বারাক ওবামা দেশবাসীকে যে স্বপ্ন দেখান, তা এখন অনেকটাই ম্লান হয়ে এসেছে। অন্যদিকে ২০১২ সালে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ওবামার বিজয় নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা ও সংশয়। ডেমোক্রেটিক পার্টির ওপর থেকে ভোটারদের এই মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কারণ নিয়ে চলছে আলোচনা। খবর এএফপি, বিবিসি, সিএনএন, আইবিএন অনলাইনের।
যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জয় বা ডেমোক্র্যাটদের হার নতুন করে বিস্ময়ের কোনো কিছু তৈরি করেনি। গোটা নির্বাচনী প্রচারজুড়ে পরিচালিত একাধিক জরিপের ফল হচ্ছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা ভালো করতে যাচ্ছে। ২০০৬ সাল থেকে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে। এছাড়া ২০০৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে দলটির ক্ষমতা আরও সংহত হয়। কিন্তু এত কিছুর পরও রিপাবলিকানরা ঘুরে দাঁড়াতে পারায় বিজয় তাদের কাছে অনেকটা সহজেই ধরা দেয়।
অর্থনৈতিক সংকট : বিভিন্ন নির্বাচনী প্রচারে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অর্থনৈতিক সংকটের জন্য সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডবি্লউ বুশকে ওবামা অভিযুক্ত করেন। দেশটিতে এখন বেকারত্বের হার ৯ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০০৮ সালে ওবামার পরিবর্তন কর্মসূচির অন্যতম এজেন্ডা ছিল কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। কিন্তু ওই পরিস্থিতি তৈরি করা যায়নি। রিপাবলিকানদের অভিযোগ, কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের একক নিয়ন্ত্রণ থাকায় এর দায় ক্ষমতাসীনদের ওপরই বর্তায়। অথচ জর্জ বুশের গ্রহণ করা নীতিমালা, বিশেষত উপর্যুপরি কর হ্রাস, দুটি যুদ্ধের ব্যয়, বাজেটে ভারসাম্য বিষয়ে কোনো উদ্যোগ না নেওয়াই যে সংকটের সৃষ্টি, এসব ব্যাপারে ভোটাদের দৃষ্টিভঙ্গি ডেমোক্র্যাটরা পরিচ্ছন্ন করতে পারেনি।
স্বাস্থ্যবীমা সংস্কার : ওবামার স্বাস্থ্যবীমা সংস্কারের কর্মসূচির বিরুদ্ধে রিপাবলিকানদের অবস্থান ছিল শুরু থেকেই। এই সংস্কার রিপাবলিকানরা সাধারণ মানুষের স্বার্থবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তাদের মতে, কমিউনিস্টশাসিত সরকারও এ রকম অর্থনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করে না। প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সম্ভাব্য নতুন স্পিকার জন বহেনের বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ আমেরিকানদের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটরা অবস্থান নিয়েছে।
টি-পার্টির উত্থান : স্বাস্থ্যবীমা বিরোধিতা করার মাধ্যমে ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে টি-পার্টির উত্থান। গণমাধ্যমসহ বিশ্বজুড়ে ইতিমধ্যে ব্যাপক আলোচনায় এসেছে এ সংগঠন। ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচার চালানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে সফল হিসেবে সংগঠনটিকে বিবেচনা করা হচ্ছে। সাবেক রিপাবলিকান নেতা ও ২০০৮ সালে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী সারাহ পালিন ওই সংগঠন গড়ে তোলেন। যুক্তরাষ্ট্রের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকানদের টিকিট নিয়ে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে শোনা যাচ্ছে। সরকারের আকার ছোট করার নামে ওবামা প্রশাসনের গ্রহণ করা বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক কাজের বিরোধিতা করে তারা ব্যাপক জনমত গড়ে তোলে, যা ডেমোক্র্যাটদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন করে ফেলে।
পেলোসির জামানা শেষ : ডেমোক্র্যাটদের পরাজয়ের মাধ্যমে কংগ্রেসে ন্যান্সি পেলোসির মেয়াদকাল শেষ হয়ে গেল। পেলোসি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের প্রতিনিধি সভার প্রথম নারী স্পিকার। তিনি দুই মেয়াদে চার বছর ধরে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন। তার স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন রিপাবলিকান নেতা জন বহেনের। ইতিমধ্যে ওবামা তাকে অভিনন্দনও জানিয়েছেন।
ফল ভারতের জন্য ইতিবাচক : রিপাবলিকানদের জয় ভারতের জন্য ইতিবাচক বলে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আউটসোর্সিং ব্যবসা ভারতে প্রসারের ব্যাপারে রিপাবলিকান পার্টির সুদৃঢ় অবস্থান রয়েছে। বর্তমানে ভারতে হাজার হাজার কর্মী আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জীবিকা অর্জন করে থাকে। ভারতের আশাবাদ, এ পরিস্থিতির মাধ্যমে সে দেশে আউটসোর্সিংয়ের ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে।
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030
- বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর
- ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি