যুক্তরাষ্ট্র-ভারত হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্য চুক্তি
ইউএসএনিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে এক হাজার কোটি ডলার বা প্রায় ৪৪ হাজার কোটি রুপির ২০টি বাণিজ্য চুক্তি সই হয়েছে। তেল-গ্যাস ও গ্যাস সরঞ্জাম থেকে শুরু করে স্টিম টারবাইন ইঞ্জিন সংক্রান্ত এসব বাণিজ্য চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫৪ হাজার চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার তিন দিনের ভারত সফরের প্রথম দিনে গতকাল সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ বৈঠকে এসব চুক্তি স্বাক্ষর হয়। প্রেসিডেন্ট এ বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেন। সফরের শুরুতে মুম্বাই হামলাস্থল তাজ হোটেলে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে
মতবিনিময়ে ওবামা বলেন, ২৬/১১-এর সেই ভয়ঙ্কর দৃশ্যপট আমরা কখনও ভুলব না। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একাট্টা। ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাই সন্ত্রাসের আরেক শিকার হোটেল ট্রাইডেন্টে ইউএস-ইন্ডিয়া বিজনেস কাউন্সিলের বৈঠকে হাজার কোটি ডলারের বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা দিয়ে ওবামা বলেন, ১৯৯৮ সালে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার পর ভারতের ওপর আরোপিত প্রযুক্তি রফতানির বিধিনিষেধ তিনি শিথিল করবেন। ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) সঙ্গে সফরসঙ্গী মার্কিন শীর্ষ ব্যবসায়ীদের এ বৈঠকে ওবামা আরও বলেন, ‘আজকের ভারতের দিকে তাকালে যুক্তরাষ্ট্র দেখে বিশ্বের দ্রুততম প্রবৃদ্ধির বাজারে আমাদের রফতানিপণ্য বিক্রির এক সুবর্ণ সুযোগ। আমেরিকার জন্য এটি একটি চাকরি মেলা।’ একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ওবামা ভারতের প্রতি খুচরা বাজার থেকে টেলিযোগাযোগসহ সব খাতে বাণিজ্য বাধা দ্রুত কমিয়ে ফেলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এখন চাকরি ও প্রবৃদ্ধি সেসব দেশেই উড়ে যায়, যেসব দেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বাধা কমায়। স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তিগুলোর ফলে উভয় দেশই লাভবান হবে উল্লেখ করে ওবামা বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য এখনও নেদারল্যান্ডসের চেয়ে কম। আমাদের কোনো সন্দেহ নেই যে চাইলে আমরা আরও ভালো করতে পারি। এ দেশটির আমাদের শীর্ষ বাণিজ্য অংশীদার না হওয়ার কোনো কারণ নেই।’
এফআইসিসিআই (ফিকি) সভাপতি রাজন ভারতী মিত্তাল মার্কিন প্রেসিডেন্টের এসব বক্তব্যকে স্বাগত জানান। বাণিজ্য চুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ বিমান প্রস্তুতকারক কোম্পানি বোয়িংয়ের সঙ্গে ৭৭০ কোটি ডলারের ৩০টি ৭৩৭ বোয়িং বিমান কেনার চুক্তি। ভারতের স্পাইস এয়ারলাইন্সকে এসব বিমান দেবে বোয়িং। শুধু এ চুক্তির ফলেই যুক্তরাষ্ট্রে ১২ হাজার চাকরির সুযোগ তৈরি হবে। এছাড়া মার্কিন কোম্পানির কাছ থেকে ৪০০ কোটি ডলারের ১০টি সি-১৭ সামরিক পরিবহন বিমান কিনবে ভারত। এতে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হবে ২২ হাজার লোকের। যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল ইলেক্ট্রিক কোম্পানি ভারতের লাইট কমব্যাট এয়ারক্র্যাফটের (এলসিএ) জন্য ১০০টি ইঞ্জিন সরবরাহ করবে। ৮০ কোটি ডলারের এ চুক্তির ফলেও যুক্তরাষ্ট্রে বহু বেকারের কর্মসংস্থান হবে।
‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একাট্টা
যুক্তরাষ্ট্র ভারত’
সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে_ এ ঘোষণার মাধ্যমেই ভারত সফরের শুরুতে মুম্বাই-সন্ত্রাসে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। গতকাল দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে মুম্বাইয়ের ছত্রপতি শিবাজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে নামেন প্রেসিডেন্ট ওবামা ও ফার্স্টলেডি মিশেল। সেখানে তাদের অভ্যর্থনা জানান মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী অশোক চ্যাবন, কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়কমন্ত্রী সালমান খুরশিদ এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত মিরা শঙ্কর। সেখান থেকে ওবামা দম্পতি সরাসরি আসেন হোটেল তাজে। ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বরের সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামা হোটেল তাজে ২৬/১১-এর নিহতদের স্মরণে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এরপর ওই সন্ত্রাসে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ওবামা বলেন, ‘২৬/১১-এর ভয়ঙ্কর দৃশ্যপট আমরা কখনও ভুলব না।’ সন্ত্রাসীদের খুনি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিতে শ্রদ্ধা
হোটেল তাজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রেসিডেন্ট ওবামা ও ফার্স্টলেডি মিশেল মুম্বাইয়ের মনি ভবনে গিয়ে ভারতের জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ১৯১৭ থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত এ ভবনেই বাস করতেন মহাত্মা গান্ধী। তিন তলা ভবনটি বর্তমানে গান্ধী স্মৃতি জাদুঘর। ওবামা দম্পতি মনি ভবনের পরিদর্শক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। মহাত্মা গান্ধীর ভূয়সী প্রশংসা করে তাকে তিনি আবারও নিজের জীবনে প্রভাব বিস্তারকারী মহান ব্যক্তিত্ব বলে অভিহিত করেন। ওবামা দম্পতি মনি ভবনের লাইব্রেরিসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। পরিদর্শক বইয়ে ওবামার মন্তব্য, ‘গান্ধী স্মৃতির এ ভবনে আসার সুযোগ পেয়ে আমার মন আশা আর প্রেরণায় ভরে গেছে।’ গান্ধীর অতিকায় ব্রোঞ্জ মূর্তির সামনে কিছু সময় নীরবে দাঁড়ান তিনি। ফেরার সময় জাদুঘর কর্মকর্তাদের তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে কোনো একদিন কন্যা মালিয়া ও সাশাকে নিয়ে এ ভবনে আসবেন তিনি।’
রঙ দে মিশেল
স্বামী বারাক ওবামা যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ বৈঠকে মগ্ন গতকাল সন্ধ্যায় ঠিক তখন মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মজার আলাপে সময় কাটান ফার্স্ট লেডি মিশেল। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমির খান অভিনীত ‘রঙ দে বাসন্তী’ ছবির গানের তালে নাচেন তিনি।
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030
- বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর
- ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি