রহমত বরকত ও মাগফিরাতের মাস রমজান
মাওলানা সাদেক আহমদ সিদ্দিকী : আল্লাহতায়ালার দরবারে অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি যে, তিনি আমাদের পবিত্র রমজান মাস দান করেছেন। রমজান রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মাস। ‘সুনানে বায়হাকী’র বর্ণনা মতে হজরত সালমান ফারসী (রা.) বলেন, একবার রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাবান মাসের শেষ তারিখে ভাষণ দান করলেন এবং বললেন, হে মানবমণ্ডলী! তোমাদের প্রতি ছায়াদান করছে একটি মহান মাস যা মোবারক মাস। এ মাস এমন মাস যাতে একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। বস্তুত, রমজান মাসের ফজিলত বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, হে ইমানদারগণ! তোমাদের ওপর রমজানের রোজা ফরজ করা হয়েছে, যাতে তোমরা মুত্তাকি (খোদাভীরু) হতে পার। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘রোজা আমার জন্য আর আমি নিজে এর প্রতিদান দিব।’ যার অর্থ হচ্ছে, রোজা ছাড়া অন্যান্য আমলের নেকি ফেরেশতারা আল্লাহতায়ালার নির্দেশে দশগুণ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত লিপিবদ্ধ করেন। কিন্তু রোজার ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম। রোজার প্রতিদান বান্দাকে আল্লাহতায়ালা নিজের কুদরতি হাতে দান করবেন।
রমজান মাস ধৈর্যের মাস, রমজান মাস সহনশীলতার মাস। বাংলাদেশে এবার আমরা রোজা রাখছি প্রায় ১৬ ঘণ্টা। অথচ পৃথিবীর অনেক দেশে মুসলমানরা কষ্ট করে ২০-২২ ঘণ্টা রোজা রাখছেন।অত্যন্ত দুঃখজনক যে, একশ্রেণির লোক নামাজ-রোজার আমল না করে কেবল আশা করে থাকে যে, আল্লাহতায়ালা আমাদের মাফ করে দেবেন। এ ধরনের লোক প্রকৃতপক্ষে আত্মপ্রবঞ্চনায় লিপ্ত। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমল এবং আশা দুটোরই শিক্ষা দিয়েছেন।
কোনো কোনো বক্তা এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে থাকেন যে, ‘রোজার প্রথম ১০ দিনে যারা রহমত থেকে বঞ্চিত হয় তারা মাগফিরাত পাবে না আর যারা মাগফিরাত থেকে বঞ্চিত হবে তারা নাজাত পাবে না’— এ ধরনের বক্তব্য কোরআন হাদিসবিরোধী। এসব মনগড়া কথা কোনো ইসলামী জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তি থেকে আশা করা যায় না। কারণ, ‘জামে তিরমিজি’তে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হাদিসে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রমজান মাসের প্রথম রাত থেকেই এক আহ্বানকারী আহ্বান করতে থাকেন ‘হে ভালোর (নেকির) অন্বেষণকারী অগ্রসর হও, হে মন্দের অন্বেষণকারী থাম। আল্লাহতায়ালা এ মাসে বহু ব্যক্তিকে দোজখ থেকে মুক্তি দেন, আর এ আহ্বান প্রত্যেক রাতেই হয়ে থাকে।’ এই হাদিস শরিফ দ্বারা বোঝা যায়, আল্লাহতায়ালা রমজান মাসের প্রত্যেক দিবা-রাতেই বান্দাদের নাজাত দান করে থাকেন।
তাছাড়া ‘সুনানে রায়হাকী’র যে বর্ণনায় হজরত সালমান ফারসী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘এ মাস (রমজান মাস) যার প্রথম ভাগ রহমত, মাঝের ভাগ মাগফিরাত আর শেষ ভাগ হচ্ছে দোজখ থেকে মুক্তি’— এ বর্ণনার দ্বারা মাগফিরাতের জন্য রহমত, নাজাতের জন্য মাগফিরাতকে শর্ত করে দেওয়া হয়নি। আল্লাহতায়ালা আমাদের নেক আমল করার এবং কোরআন হাদিসের সহিহ জ্ঞান অর্জন করার তাওফিক দান করুন। আমীন।
লেখক : খতিব, মালিবাগ বায়তুল আজিম শহীদী জামে মসজিদ, ঢাকা।
- Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency
- New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes
- নিউইয়র্কে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হৃদয় বীণা সংগীতালয়’র যাত্রা শুরু
- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে নিউইয়র্কে ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র দোয়া মাহফিল
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বিজয়
- নিউইয়র্কে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পরিবার নিউইয়র্ক সিটি’র উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন
- নিউইয়র্ক স্টেট এসেমব্লি ডিস্ট্রিক্ট ৮৭’র নির্বাচনে কারিনা-জাকির মুখোমুখি
- NYIC Action Endorses Immigrant Champions and New Voices for NYS Legislature