রাজনীতিতে রেশারেশী ও বিরোধ চলতে থাকলে আবারও দেশে ওয়ান ইলেভেন’র মত ঘটনার সৃষ্টি হতে পারে: ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা
হাকিকুল ইসলাম খোকন: বিএনপি’র সহ-সভাপতি সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বলেছেন, রাজনীতিতে রেশারেশী ও বিরোধ চলতে থাকলে আবারও দেশে ওয়ান ইলেভেন�র মত ঘটনার সৃষ্টি হতে পারে। জনগণ অসাংবিধানিক সরকার চায় না। গণতন্ত্র ও দেশের কল্যানের কথা বিবেচনা করে জাতীয় ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার মাঝে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। শুধু সশস্ত্র বাহিনী দিবসে এক কাতারে বসবেন, তা কেন? তিনি আরো বলেন, দুই নেত্রীর নেতৃত্বের কিছু শুন্যতা এবং অতীত ঘটনার কারন তাদের এক টেবিলে বসার পেছনে বড় বাধা। দুই নেত্রী এক টেবিলে বসলে অনেক সমস্যারই সমাধান হয়ে যেতে পারে। কিন্তু এটাই সত্য যে, দুই নেত্রীর ইচ্ছা অনিচ্ছার কাছে দেশের জনগণ জিম্মি হয়ে আছে।

তাই মানুষের কল্যানে দুই নেত্রীকে একত্রে কাজ করতে হবে। ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদা গত ৩ অক্টোবর অপরাহ্ন ১টায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের পালকিতে প্রবাসী দোহার উপজেলা সমিতি আয়োজিত তার সম্মানে দেয়া এক সংবর্ধনায় উপরোক্ত মন্তব্য করেন। সংগঠনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আজাদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনায় প্রধান অতিথি ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদাকে এসময় ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। এসময় অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা গিয়াস আহমেদ, আলমগীর ভূইয়া, মোঃ হালিম হোসেন, মোঃ নাজু, মোঃ বাদু, সহ-সভাপতি মোঃ মাসুদ, রেজাউল করিম কিরন, নজরুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ হেলাল, সমাজকল্যান সম্পাদক শাহীনুর রহমান বিপ্লব, আপ্যায়ন সম্পাদক রীনা মাসুদ, মহিলা সম্পাদক নূরুন্নাহার হ্যাপি, সদস্য মোঃ হারুন ও বিমল প্রমুখ। সংবর্ধনায় প্রধান অতিথি ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদা বলেন, বাংলাদেশে বিরোধীদল সব সময় আন্দোলন করে। আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষকে ভয়-ভীতি দেখানো হয়। ভয়-ভীতি দেখিয়ে আন্দোলন সফল এবং মতায় যাওয়ার পথ তৈরি করা হয়। আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে ধরাশায়ী করা হয়। সেখানে ভালো কাজ করেও কোন সরকারের দ্বিতীয় দফা মতায় আসার সুযোগ নেই। তিনি আরো বলেন, সরকারকে কাজ করতে না দেয়া দেশদ্রোহিতার শামিল। এই কাজ হরহামেশা হচ্ছে। কিন্তু এই আইনের কোন প্রয়োগ নেই। নাজমুল হুদা বলেন, দুই নেত্রীকে এক টেবিলে বসতে হবে। তাদের বসাতে চাপ দিতে হবে। তিনি প্রবাসীদের পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানান। তিনি বিএনপির সহ-সভাপতি হলেও দুই নেত্রীকে এক টেবিলে বসানোর পক্ষে একমাত্র জনমত তৈরির উদ্দেশ্যে কাজ করছেন বলে জানান। বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার পক্ষে তিনি এ পদপে নিয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে তিনি দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে কোন আলোচনা করেননি। তিনি দল থেকে বহিস্কার বা অবাঞ্ছিত ঘোষণার আশঙ্কা ব্যক্ত করে বলেন, তারপরও তিনি এ দায়িত্ব পালন করে যাবেন। তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনী দিবসে দুই নেত্রীর দেখা হয়। একজন আরেকজনের দিকে তাকান। শুভেচ্ছা বিনিময় হয়। এই পর্যন্তই, পরদিন পাল্টাপাল্টি, হানাহানি। জাতির আকাংখা আর কোনদিনই পূরণ হয় না। তিনি বলেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে দুই নেত্রীর মতপার্থক্য থাকা উচিত নয়। ছাত্র রাজনীতির নামে টেন্ডারবাজি চলে। মেধাবী ছাত্ররা রাজনীতিতে আসে না। চাকরির ক্ষেত্রে চলে দলবাজি। মেধাবী ছাত্রদের চাকরিতে নেয়া হয় না দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির কারণে। দুই নেত্রীর এক টেবিলে বসে ঠিক করা উচিত, রাজনীতি কেমন হবে। এক প্রশ্নের জবাবে নাজমুল হুদা বলে, আন্দোলনের মাধ্যমে মাঠ গরম করা হয় একটি লাশের প্রত্যাশায়। তাহলে আন্দোলন জোরদার হয়। এর মাধ্যমে মতায় যাওয়া যায়। অপর এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, তিনি বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। তার এই কাজের জন্যে যদি পদ কেড়ে নেয়া হয় তাহলে তিনি তা চ্যালেঞ্জ করবেন।তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তাকে শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করা এবং তার মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার নামে নামমাত্র মূল্যে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের জমি বরাদ্দ সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টিআইবির রিপোর্টে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। টিআইবি পত্রপত্রিকার রিপোর্টের ভিত্তিতে জরিপ তৈরি করে। পত্রপত্রিকা কী লিখে, তা আপনারাও জানেন। আমি জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে মানবাধিকার সংস্থার জন্য জমি বরাদ্দ চেয়ে পাইনি। তাই নিজেই মন্ত্রী হয়ে নিজ দায়িত্বে ও একক সিদ্ধান্তে সংস্থার জন্য জমি লীজ নিয়েছিলাম। রেলের অনেক জায়গা অব্যবহৃত হয়ে পড়ে আছে। সেটা দেশের ভালো কাজে লাগে এমন চিন্তা থেকেই তিনি জমি বরাদ্দ দিয়েছেন। এখানে তিনি কোন অন্যায় করেননি। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিচারের আগেই একজনকে শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত ঘোষণা করেছে, যা অন্যায়। আমি অস্বীকার করছি না, দলের সহযোগিতার জন্যে কিছু করেছি কিন্তু সেটা করেছি দলীয় প্রধানকে অবহিত করেই। এ সংক্রান্ত অপর এক প্রশ্নের জবাবে নাজমুল হুদা বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ শুধু বিএনপির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। নানা সময় এ নিয়ে শ্বেতপত্রও হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এ সমস্যা আছে। তবে আইনের প্রয়োগ থাকলে এ সব থাকে না। তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করবে। কিন্তু সরকারী কারো বিরুদ্ধে মামলা করতে হলে অনুমতি লাগে। আবার তিনি একসঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে জেল খেটেছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতাদের মামলা তুলে নেয়া হয়েছে কিন্তু তাদেরটা নেয়া হয়নি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হানাহানি বা পাল্টাপাল্টির কারণে দেশে ওয়ান ইলেভেন ঘটেছিল। এটা চলতে থাকলে আবার ঘটনার আশঙ্কা থাকতেই পারে। কিন্তু অসাংবিধানিক সামরিক শাসনের চেয়ে সাংবাধিনিক গণতন্ত্র অনেক ভালো। তিনি এও বলেন যে, বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় ইস্যু এখন সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে নাজমুল হুদা বলেন, তাদের প্রচেষ্টায় জনমত তৈরি হলে তৃতীয় একটি মঞ্চ তৈরি হবে, যেখান থেকে একটি চাপ তৈরি হবে এবং দুই নেত্রী এক টেবিলে বসবেন। তবে এর মাধ্যমে কোন তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটার সম্ভাবনা তিনি নাকচ করে দেন। নাজমুল হুদা বলেন, আগামী ৬ থেকে ৯ মাসের মধ্যে তার এই কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশা করছেন। তিনি বলেন, আমেরিকা থেকে ফিরেই তিনি রাজধানী ঢাকায় একটি ব্যাপক ভিত্তিক কর্মশালা করবেন। এরপর বিভাগীয় পর্যায়ে কর্মশালা হবে। সর্বশেষে রাজধানীতে র্যালী ও মহাসমাবেশ হবে। সেখান থেকে তিন সদস্যের একটি উপদেষ্টা কমিটি ঘোষণা করা হবে যে, কমিটি আলোচনা চালিয়ে যাবেন। ৩ সদস্যের এই কমিটিতে ব্যারিস্টার রফিকুল হক থাকবেন। বাকি দু’জনের সঙ্গে তিনি আলোচনা করে ঠিক করবেন।
নাজমুল হুদা বলেন, মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার তিনি কার্যকরী কমিটির সদস্য। সংস্থার চেয়ারম্যান আসাফ-উদ-দৌলা, মহাসচিব তার স্ত্রী সিগমা হুদা। ড. মহীউদ্দিন খান আলমগীর, আসিফ নজরুল, চাষী নজুরুল প্রমুখ কার্যকরী কমিটির সদস্য।নাজমুল হুদা বলেন, তার এই কাজ শেষে তিনি নিস্ক্রিয় হয়ে যাবেন। তবে এর আগেই দুই নেত্রীর নিজেদের মধ্যে তাগিদ অনুভব করে এক টেবিলে বসে যেতেও পারেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সফল হোন আর না হোন, চেষ্টা করেই যাবেন।তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, যুদ্ধাপরাধীর বিচার হবে। হওয়া উচিত। শুধু যুদ্ধাপরাধ নয়, সব অপরাধেরই বিচার হওয়া উচিত। তবে এ নিয়ে রাজনীতি কাম্য নয়। যারা এখন যদ্ধাপরাধীদের বিচার করছে তারা আগেও করতে পারতেন। কিন্তু আগে কেন করলেন না?
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections
- Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান
- সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের