রাত ১২টা ১ মিনিটে নয় বাংলা বর্ষ শুরু সূর্যোদয়ে
নাসির আহমেদ: চৈত্রের শেষ দিন রাত ১২টা ১ মিনিটে নয়, বাংলা নববর্ষ আসলে পহেলা বৈশাখ ভোরে সূর্যোদয়েই। বর্ষবরণের হাজার বছরের এই ঐতিহ্য যেন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভাঙতে বসেছে। বিশেষ করে স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেলগুলো গত কয়েক বছর ধরে রাত ১২টা ১ মিনিটে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান প্রচার শুরু করেছে; যা বৈশাখের মূল চেতনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। কৃষিপ্রধান এই বাংলাদেশে চৈত্রের শেষ দিনে বর্ষবিদায় আর চৈত্রসংক্রান্তির যেমন আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় সূর্যোদয়ে, একইভাবে পরদিন পহেলা বৈশাখ নববর্ষবরণের আয়োজনটাও শুরু হয় সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই। কারণ চৈত্রসংক্রান্তি
এবং নববর্ষবরণের যেসব আনুষ্ঠানিকতা আর আচার, তার সঙ্গে কৃষিসভ্যতার এক নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান। তাছাড়া বাংলা বছর গণনা হয় সৌরসন হিসেবে। এর হিসেব হচ্ছে, সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত। যেমন আরবি মাসের সূচনা ধরা হয় প্রথম চন্দ্রোদয়ের হিসেব অনুযায়ী। ইংরেজি নববর্ষ বা দিনের সূচনা হয় রাত ১২টা ১ মিনিটে। সেভাবেই তারা থার্টিফার্স্ট নাইট এবং পরদিন নিউ ইয়ার উদযাপন করে থাকে। সুতরাং বাংলা নববর্ষও ঐতিহ্যবিচ্ছিন্ন নয়।
বাংলাদেশের হাজার বছরের সেই ঐতিহ্য থেকে সাম্প্রতিককালে পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষবরণের ক্ষেত্রে পশ্চিমা ধাঁচের কালচারের অনুকরণে রাত ১২টা ১ মিনিট বর্ষবরণ তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করেন দেশের বিশিষ্টজনরা। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মুস্তাফা নূরউল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, বাংলা নববর্ষ হচ্ছে বাঙালিত্বের সত্য। এ সত্য যুক্ত হয়ে আছে পহেলা বৈশাখ এই প্রতীকের সঙ্গে। আমাদের গ্রামবাংলার চাষাবাদ থেকে সবকিছু হয়ে থাকে সূর্যোদয় বা ঊষালগ্নের হিসেব করে। সূর্যাস্তে দিনের অবসান। আমাদের রক্তের সঙ্গে, বিশ্বাসের সঙ্গে, শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে একীভূত এই বাঙালিত্বের বোধ। এই পরিপ্রেক্ষিতে আমদানি করা উৎকট এই ইংরেজিয়ানার সঙ্গে আমি নেই। তরুণদেরকেও এটা বিভ্রান্ত করতে পারে।
বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক-রবীন্দ্র গবেষক ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক এ প্রসঙ্গে বলেন, রাত ১২টা ১ মিনিটে বাংলা নববর্ষ উদযাপন শুরু কোনোমতেই উচিত নয়। কারণ এটা আমাদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সঙ্গে মেলে না। আমাদের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার সঙ্গেও এটা মেলে না। কারণ সূর্যোদয়েই তো বাঙালির দিনের শুরু। বাংলা মাস কেন শুরু হবে মধ্যরাতে? আমরা যে নগরে বাস করি, সেখানেও তো সবকিছু শুরু করি সকাল থেকে। হাজার বছরের আপন ঐতিহ্য বাদ দিয়ে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির এ আগ্রাসন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বাঙালির হাজার বছরের বহমান লোক সংস্কৃতিনির্ভর বাংলা নববর্ষবরণ উৎসব নগরজীবনে সম্প্রসারিত হয়ে আজ সর্ববৃহৎ এক অসাম্প্রদায়িক সর্বজনীন উৎসব। এ উৎসবের ঐতিহ্য রক্ষা করতে হলে অন্ধ পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুসরণ সঙ্গত হবে না। বরং সূর্যোদয় থেকেই বর্ষবরণ অনুষ্ঠানমালা গণমাধ্যম শুরু করবে, সেটাই সবার প্রত্যাশা।সমকাল
এবং নববর্ষবরণের যেসব আনুষ্ঠানিকতা আর আচার, তার সঙ্গে কৃষিসভ্যতার এক নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান। তাছাড়া বাংলা বছর গণনা হয় সৌরসন হিসেবে। এর হিসেব হচ্ছে, সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত। যেমন আরবি মাসের সূচনা ধরা হয় প্রথম চন্দ্রোদয়ের হিসেব অনুযায়ী। ইংরেজি নববর্ষ বা দিনের সূচনা হয় রাত ১২টা ১ মিনিটে। সেভাবেই তারা থার্টিফার্স্ট নাইট এবং পরদিন নিউ ইয়ার উদযাপন করে থাকে। সুতরাং বাংলা নববর্ষও ঐতিহ্যবিচ্ছিন্ন নয়।
বাংলাদেশের হাজার বছরের সেই ঐতিহ্য থেকে সাম্প্রতিককালে পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষবরণের ক্ষেত্রে পশ্চিমা ধাঁচের কালচারের অনুকরণে রাত ১২টা ১ মিনিট বর্ষবরণ তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করেন দেশের বিশিষ্টজনরা। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মুস্তাফা নূরউল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, বাংলা নববর্ষ হচ্ছে বাঙালিত্বের সত্য। এ সত্য যুক্ত হয়ে আছে পহেলা বৈশাখ এই প্রতীকের সঙ্গে। আমাদের গ্রামবাংলার চাষাবাদ থেকে সবকিছু হয়ে থাকে সূর্যোদয় বা ঊষালগ্নের হিসেব করে। সূর্যাস্তে দিনের অবসান। আমাদের রক্তের সঙ্গে, বিশ্বাসের সঙ্গে, শ্বাসপ্রশ্বাসের সঙ্গে একীভূত এই বাঙালিত্বের বোধ। এই পরিপ্রেক্ষিতে আমদানি করা উৎকট এই ইংরেজিয়ানার সঙ্গে আমি নেই। তরুণদেরকেও এটা বিভ্রান্ত করতে পারে।
বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক-রবীন্দ্র গবেষক ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক এ প্রসঙ্গে বলেন, রাত ১২টা ১ মিনিটে বাংলা নববর্ষ উদযাপন শুরু কোনোমতেই উচিত নয়। কারণ এটা আমাদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সঙ্গে মেলে না। আমাদের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার সঙ্গেও এটা মেলে না। কারণ সূর্যোদয়েই তো বাঙালির দিনের শুরু। বাংলা মাস কেন শুরু হবে মধ্যরাতে? আমরা যে নগরে বাস করি, সেখানেও তো সবকিছু শুরু করি সকাল থেকে। হাজার বছরের আপন ঐতিহ্য বাদ দিয়ে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির এ আগ্রাসন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বাঙালির হাজার বছরের বহমান লোক সংস্কৃতিনির্ভর বাংলা নববর্ষবরণ উৎসব নগরজীবনে সম্প্রসারিত হয়ে আজ সর্ববৃহৎ এক অসাম্প্রদায়িক সর্বজনীন উৎসব। এ উৎসবের ঐতিহ্য রক্ষা করতে হলে অন্ধ পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুসরণ সঙ্গত হবে না। বরং সূর্যোদয় থেকেই বর্ষবরণ অনুষ্ঠানমালা গণমাধ্যম শুরু করবে, সেটাই সবার প্রত্যাশা।সমকাল
সর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030