Saturday, 6 June 2026 |
শিরোনাম
SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয় A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes নিউইয়র্কে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হৃদয় বীণা সংগীতালয়’র যাত্রা শুরু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে নিউইয়র্কে ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র দোয়া মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

র‌্যাব ও পুলিশের কঠোর সমালোচনা,বিরোধীদের সভা বন্ধে ৯৩ বার বিশেষ আইনের ব্যাবহার: যুক্তরাষ্ট্র স্টেট ডিপার্টমেন্টের রিপোর্ট

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 40 বার

প্রকাশিত: April 10, 2011 | 1:41 AM

 নিউজ ওয়ার্ল্ডঃ যুক্তরাষ্ট্র স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলেছে, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানের কথা বললেও পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। ২০০৯ সালে বছর র্যাবের হাতে নিহতের সংখ্যা ৪১ ২০১০ সালে তার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৮জনে। যা মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লংঘন। যুক্তরাষ্ট্র স্টেট ডিপার্টমেন্টের বার্ষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ বিষয়ে এই মন্তব্য করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার স্টেট ডিপার্টমেন্টের বার্ষিক প্রতিবেদন আনুষ্ঠান্কিভাবে প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী রডহ্যাম ক্লিনটন।স্টেট ডিপার্টমেন্টের রিপোর্টে বলা হয়, গ্রেফতার অভিযান, তল্লাসী সহ বিভিন্ন ধরনের তৎরতা ও আইন শৃংখলা বাহিনীর হেফাজতে এসব মৃত্যুর ঘঠনা ঘটেছে। সাধারণত সরকার র‌্যাব বা পুলিশের সাথে ক্রসফায়ারের সময় এসব ঘঠনার ঘটেছে বলে উল্লেখ করে। মানবাধিকার সংস্থার মতে আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে ১২৭জনের মুত্যু হয়েছে এভাবে। যার মধ্যে ১০১জনই ক্রস ফায়ারে নিহত হয়েছে। এক্ষেত্রে ক্রস ফায়ারে র‌্যাবের হাতে ৬৫, পুলিশের হাতে ২১ ও যৌথ বাহিনীর হাতে মারা পড়েছে ১২জন।আইন মন্ত্রী র‌্যাব বা পুলিশের হাতে কেউ মারা গেলে সেটাকে নিরাপত্তা হেফজতের মুত্যু বলে বিবেচনা না করার ঘোষণা দিলেও এধরনের হত্যাকান্ডের জন্য এখন পর্যন্ত এজন্য কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি বলে রিপোটে উল্লেখ করা হয়েছে।আইন ও সালিশী কেন্দ্রের মতে গত বছর নিরাপত্তা হেফাজতে ১৩৩টি মুত্যুর ঘঠনা ঘটেছে। এরমধ্যে ৭৪জনের মুত্যু হয়েছে জেল হাজতে। অত্যাচার নির্যাতনই এসব মুত্যুর কারণ বলে অভিযোগ রয়েছে।মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের মতে গত বছরের  ১১ মে চুরির অপরাধে মোহাম্মদ মানিক নামে একজনকে ঢাকা কতোয়ালী পুলিশ গ্রেফতার করে। অভিযোগ রয়েছে যে, থানায় অবস্থানকালে একজন সাব ইনসপেক্টরের হাতে ব্যাপক নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুমুখে পতিত হয় মানিক।এরপর ইউনুস মিয়া নামে অপর একজন মারা গেলে হাইকোর্ট পূর্নাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেয়। কিন্তু পুলিশ কমিশনার সে আদেশ আমলে নেননি।গত ২৪ মে র‌্যাব কর্মকর্তারা আবুল কালাম আজাদ ও তার ছেলেকে আটক করে তাদের কার্যালয়ে নিয়ে যায়। র‌্যাব সদর দফতরে দুজনকে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এই অবস্থায় আবুল কালামা আজাদ মারা যান। র‌্যাবের অত্যাচারে তার বাবা নিহত হয়েছেন বলে আবুল কালাম আজাদের ছেলে অভিযোগ করেছে।মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের মতে গত ২৯ জুন ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশের হাতে আটক হন মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। এর সাথে গ্রেফতার করা হয় আরো তিনজনকে। পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় তাদের নিয়ে যাওয়া হয় গুলসানের একটি ব্রীজে। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশ ইনসপেক্টর আনিসুর রহমান গুলি করে করে মিজানকে। হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় তিনি মারা যান। এঘটনা তদন্তের জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও এর কোন অগ্রগতি নেই। ২০০৯ সালে হাবিব নামে অপর একজনের মুত্যুর বিষয়ে তদন্তেরও কোন অগ্রগতি নেই। চট্ট্রগামের পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে অত্যাচার করার কারণে তার মুত্যু ঘটে।পিলখানা হত্যাকান্ডে অভিযুক্ত বিডিআর সদস্যদের অনেকেই মারা গেছেন নিরাপত্বা হেফাজতে।নিরাপত্বা হেফাজতে তাদের অনেককে ইলেকট্রিক শক, ব্লাইন্ডফোল্ড করে ঝুলানোর অভিযোগ রয়েছে।এছাড়াও র‌্যাব ও পুলিশের বিরুদ্ধে অত্যাচার নির্যাতনের বিস্তর অভিযোগ আনা হয়েছে স্টেট ডিপার্টমেন্টের রিপোর্টে।এছাড়া রাজনৈতিক সহিংশতায় গত বছর ১৬জন নিহত ও ১১২৭জন আহত হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়, সংবিধান সবার মত শান্তিপূর্ন মত প্রকাশের অধিকার দিলেও গত বছর সরকার বিরোধীদের সভা বন্ধে বিশেষ আইন ব্যাবহার করেছে ৯৩ বার। এ সময় সরকার দলীয় লোকজন ও পুলিশ বিরোধীদের উপর আক্রমণ চালিয়ে তাদের সভা বানচাল করেছে বিভিন্ন সময়।

২২ আগস্ট বিএনপি সমর্থিত চাত্রদলের সভা করতে দেয়নি পুলিশ। তারা সভার অনুমতি নেয়নি এই অভিযোগে আক্রমন করা হয় তাদের উপর। ইসলামপন্থী জামাতে ইসলামী একটি সভা করারও অনুমতি পায়নি গত এক বছরে। 

বিদেশ ভ্রমনের স্বীকৃত সাংবিধানিক অধিকার সত্বেয় গত বিরোধী দলের অনেক নেতাকেই বিদেশ যেতে বাধা দেয়া হয়েছে। এয়ারপোর্ট থেকে ফিরে এসেছেন অনেকে। তারা কারণ জানতে চাইলে বলা হয় উপরের নির্দেশ। কিন্তু এটা কি তার সদুত্তর নেই।

যুদ্ধাপরাধের জন্য সরকার যাদের তালিকা করেছে তাদের সবাই বিরোধী দলের। এজন্য সন্দেহভাজন কেউ দেশের বাইরে যেতে পারছেন না। যদিও তাদের কারো পাসপোর্ট জব্দ করেনি সরকার।

শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে বিরোধী দল বিএনপি ও জামাতের অনেক নেতার বিদেশ ভ্রমনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে ইমিগ্র্যাশন বিভাগ। এজন্য অদৃশ্য উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে করা হয়েছে একটি নো ফ্লাই লিস্ট। এক্ষেত্রে কেউ কেউ তাদের বিদেশ গমনে বাধার বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে সফল হয়েছেন।

তবে তিনটি ঘঠনায় বিএনপির তিন সিনিয়র নেতার বিদেশ ভ্রমনে বাধার সৃষ্টি করে। যা হাইকোর্টের আদেশ ভঙ্গের সামিল। গত ২৮ জুলাই বিএনপির সহ সভাপতি শমসের মোবির চৌধুরীকে সিঙ্গাপুর যেতে দেয়া হয়নি। ৮ আগস্ট শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির সাথেও একই আচরণ করা হয়। যদিও তাদের বিদেশ গমনে কোন বাধা নেই বলে হাইকোর্টের নির্দেশ ছিল।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর কলকাতা যাওয়ার পথে বিএনপির উপদেষ্ঠা কমিটির সদস্য রিয়াজ রহমানকেও এয়ারপোর্টে আটকে দেয়া হয়। কারণ জানতে চাইলে তাকে জানানো হয়, উপরের নির্দেশ। আমাদের করার কিছু নেই। অথচ কোন ধরনের অপরাধেন জন্য তিনি অভিযুক্তও নন।

 কূটনৈতিক মহল বলছেন, অন্য যেকোন সময়ের চাইতে এবার যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার রিপোর্টে সরকারের সমালোচনা অনেক বেশী তীর্যক। যার সুদুরপ্রবাসী প্রভাব বাংলাদেশের জন্য নেতিবাচক হতে পারে।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
Situs Streaming JAV