Friday, 24 July 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030 বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি
সব ক্যাটাগরি

লিবিয়ার ৪২ বছরের শাসক কর্নেল গাদ্দাফি নিহত : জীবিত ধরা পড়েছিলেন

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 80 বার

প্রকাশিত: October 20, 2011 | 3:16 PM

 

 নুরুল ইসলাম: অবশেষে জন্মশহর সিরতেই সাঙ্গ হলো লিবিয়ার ৪২ বছরের শাসক কর্নেল মুয়াম্মার আল গাদ্দাফির জীবন। রাজধানী ত্রিপোলির ৪৬৩ কিলোমিটার দক্ষিণের এই উপকূলীয় শহরে গতকাল লিবিয়ার বর্তমান শাসক ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এনটিসি) যোদ্ধাদের সঙ্গে প্রচণ্ড যুদ্ধে নিহত হয়েছেন আরব শৌর্যবীর্যের প্রতীক এই নেতা। এর মাধ্যমে লিবিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হলো তার ৪২ বছরের শাসনের। আর কর্নেল গাদ্দাফির জন্মশহর দখলের মাধ্যমে ১৭ লাখ ৫৯ হাজার ৫৪০ বর্গকিলোমিটারের গোটা লিবিয়া চলে এসেছে এনটিসির আওতায়। এনটিসির তথ্যমন্ত্রী আবদেল হাফিজ গোগা লিবিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বেনগাজিতে গতকাল স্থানীয় সময় বিকেলে গাদ্দাফির নিহত হওয়ার ঘোষণা দেন। এর আগে গতকাল তুমুল যুদ্ধের পর গাদ্দাফির শেষ আশ্রয়স্থল সিরতে দখলের ঘোষণা দেন এনটিসির কমান্ডাররা। গতকালের এই যুদ্ধে গাদ্দাফির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আবু বকর ইউনুসও নিহত হন। তবে গাদ্দাফির শাসনের অন্যতম কর্ণধার তার পুত্র সাইফ আল ইসলাম ও গাদ্দাফির স্ত্রীসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা এখনও জানা যায়নি। গত ২২ আগস্ট ত্রিপোলির বাব আল আজিজিয়া প্রাসাদ থেকে আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পর জন্মশহর সিরতে থেকেই এনটিসি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন কর্নেল গাদ্দাফি। ২২ আগস্টের পর আত্মগোপনে থেকে দফায় দফায় অডিও বার্তায় জীবনের শেষদিন পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন ক্ষমতাচ্যুত এই শাসক। এই লড়াইয়ে তার সঙ্গে শামিল হতে লিবিয়ার জনগণের প্রতিও আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। কথা রেখেছেন আরব শৌর্যবীর্যের এই প্রতীক। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেই দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। তার নিহত হওয়ার ঘোষণা দিয়ে এনটিসির তথ্যমন্ত্রী আবদেল হাফিজ গোগা বলেন, ‘আমরা বিশ্ববাসীকে জানাতে চাই, বিপ্লবী যোদ্ধাদের হাতে গাদ্দাফি নিহত হয়েছেন। এটা এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এর মাধ্যমে লিবিয়ায় স্বৈরশাসন ও একনায়কত্বের অবসান
হলো। ভাগ্যে যা লেখা ছিল গাদ্দাফির তাই হয়েছে।’
গতকাল বাংলাদেশ সময় বিকেলে বিবিসি, আলজাজিরাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রথম খবর প্রচার করে, এনটিসি যোদ্ধাদের হাতে লিবিয়ার উপকূলীয় শহর সিরতের পতন হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরই জানানো হয়, গাদ্দাফি গ্রেফতার হয়েছেন। তারও কিছুক্ষণ পর আলজাজিরা টেলিভিশন প্রথম খবর প্রচার করে, গাদ্দাফি নিহত হয়েছেন। বিবিসিসহ বিভিন্ন পশ্চিমা গণমাধ্যম তখনও সংশয় প্রকাশ করে আসছিল, আসলেই গাদ্দাফি গ্রেফতার কিংবা নিহত হয়েছেন কি-না। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনও তখন পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারছিল না গাদ্দাফি আসলেই গ্রেফতার কিংবা নিহত হয়েছেন কি-না। পরে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে এনটিসির তথ্যমন্ত্রীর বরাতে সিএনএন, আলজাজিরা ও এএফপিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম নিশ্চিত করে, গাদ্দাফি নিহত হয়েছেন। লিবিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ধারণ করা গাদ্দাফির রক্তাক্ত মৃতদেহের ছবি দেখানো হয়। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিনিধি জানান, সিরতে শহরে খাকি পোশাক পরা একটি মৃতদেহের চারদিকে ভিড় জমিয়েছেন এনটিসি যোদ্ধারা। মৃতদেহের মুখ থেকে ঘাড় পর্যন্ত পুরোটাই রক্তাক্ত। এরপর এনটিসির যোদ্ধারা মৃতদেহটি টেনেহিঁচড়ে একটি পিক-আপ ট্রাকে তুলে নিয়ে যান। মোবাইল ফোনে তোলা একটি স্থির ছবি প্রকাশ করেছে এএফপি। রক্তাক্ত ব্যক্তি যে গাদ্দাফি, ছবি দেখে তা সহজেই চেনা যায়। কিন্তু ছবিটি দেখে এটা স্পষ্ট নয়, গাদ্দাফি তখন জীবিত ছিলেন, নাকি এটাই মৃত গাদ্দাফির ছবি। বীভৎস ছবিটিতে দেখা যায়, গাদ্দাফির গোটা পোশাকও রক্তাক্ত। এনটিসি যোদ্ধারা জানান, সিরতে শহরের একটি বড় কংক্রিটের পাইপের ভেতরে পাওয়া গেছে গাদ্দাফির মৃতদেহ। এনটিসির তথ্যমন্ত্রী আবদেল হাফিজ গোগা জানান, সিরতে থেকে আমাদের কমান্ডাররা গাদ্দাফির নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন। সেখানে তুমুল লড়াইয়ে মারাত্মক আহত অবস্থায় আমাদের যোদ্ধারা প্রথমে তাকে আটক করেন, পরে তার মৃত্যু নয়। এনটিসির সামরিক প্রধান খলিফা থাফতার এএফপিকে বলেন, লিবিয়ার নতুন সরকারের যোদ্ধাদের হাতে গাদ্দাফির শেষ আশ্রয়স্থল সিরতের পতন ঘটেছে। সেখানে তুমুল লড়াইয়ে নিহত হয়েছেন গাদ্দাফি। তার পক্ষে যারা লড়াই করেছেন তারাও হয় নিহত কিংবা গ্রেফতার হয়েছেন। এদিকে গাদ্দাফি নিহত হওয়ার খবরে লিবিয়ায় এনটিসির সমর্থকরা উল্লাস প্রকাশ করেছেন। উৎসব আনন্দে মেতে উঠেছে ত্রিপোলি, বেনগাজি, মিসরাতাসহ বিভিন্ন শহরের জনগণ। গাদ্দাফি নিহত হওয়ার খবরকে লিবিয়ায় স্বৈরশাসনের যবনিকাপাত বলে অভিহিত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা বিশ্ব।
আরও যারা নিহত
মোহাম্মদ লেইস নামে এনটিসির আরেক কমান্ডার সিরতে থেকে জানান, গাদ্দাফির ছেলে মোতাসিমও সিরতে নিহত হয়েছেন। আমরা তাকে মৃতই পেয়েছি। এ ছাড়া নিহত হয়েছেন গাদ্দাফির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আবুবকর ইউনুস জাবার। এই দু’জনের মৃতদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে মিসরাতায় পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় চিকিৎসকরা জানান, আবুবকর ইউনুস সর্বশেষ লড়াইয়ে নিহত হয়েছেন। এনটিসির সামরিক প্রধান খলিফা হাফতার ত্রিপোলিতে এএফপিকে বলেন, গোটা লিবিয়া গাদ্দাফিমুক্ত হয়েছে। গতকাল স্থানীয় সময় অপরাহ্নের দিকে সিরতের প্রধান সড়ক দিয়ে দেশাত্মবোধক সঙ্গীত বাজিয়ে বিজয়সূচক ‘ভি’ চিহ্ন দেখিয়ে এনটিসি যোদ্ধাদের পিকআপ, ট্রাক অতিক্রম করতে দেখা যায়। এ সময় যোদ্ধারা ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনিতে মুখরিত করে তোলেন গোটা শহর। তাদের সামরিক যানে আরও বাজানো হচ্ছিল নতুন জাতীয় সঙ্গীত এবং অন্যান্য বিপ্লবী গান। এরই মধ্যে লিবিয়ার নতুন শাসক এনটিসির তরফে গাদ্দাফি নিহত হওয়ার খবর যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে। তবে গাদ্দাফি সমর্থক এক টেলিভিশন চ্যানেলের ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়, গাদ্দাফি নিহত হননি। আল-লিবিয়া নামে ওই চ্যানেলটির ওয়েবসাইটে বলা হয়, ন্যাটোর চামচাদের পরিবেশিত এ খবর ভিত্তিহীন। ওয়েবসাইটটিতে দাবি করা হয়, গাদ্দাফি মুক্ত জীবনে আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা বেশ ভালো। উল্লেখ্য, লিবিয়ার জনগণের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গাদ্দাফির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। তবে লিবিয়ার এনটিসি নেতারা বারবার বলে আসছিলেন, তারা লিবিয়ার মাটিতেই গাদ্দাফির বিচার করতে চান। গত ২২ আগস্ট ত্রিপোলি দখলের পর এনটিসির তরফে গাদ্দাফিকে জীবিত কিংবা মৃত ধরে দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।সমকাল
বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV