শুভ জন্মদিন হুমায়ূন আহমেদ : যুক্তরাষ্ট্রে ‘হুমায়ূন মেলা’

আসিফুর রহমান সাগর: শুভ জন্মদিন হুমায়ূন আহমেদ। আমাদের অভিনন্দন গ্রহণ করুন। বাংলা কথাসাহিত্যের জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের ৬৩তম জন্মবার্ষিকী আজ। প্রতিবছর জন্মদিনের আগের দিন বা জন্মদিনে পাঠকদের মুখোমুখি হওয়া যেন রেওয়াজে পরিণত হয়েছিল তার। কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরীতে তার বইয়ের প্রকাশকরা আয়োজন করেন বইমেলার। সেখানে সপরিবারে উপস্থিত থাকতেন হুমায়ূন আহমেদ; কিন্তু এবারে জনপ্রিয় এই লেখককে কাছ থেকে দেখবার সুযোগ বঞ্চিত হলেন পাঠকরা। কেননা কোলন ক্যান্সারের চিকিত্সায় এখন তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে।
৬১তম জন্মদিনে হুমায়ূন আহমেদ বলেছিলেন, মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত লিখে যেতে চাই। লেখালেখিই আমার বিশ্রাম। লেখালেখি বন্ধ হলে আমার বেঁচে থাকা অর্থহীন হয়ে পড়বে, আমি বাঁচতে পারবো না। পাঠকদের উদ্দেশে তার আবেদন, ‘দোয়া করবেন, আমি যেন আমৃত্যু লিখে যেতে পারি।’ দেশের অগণতি পাঠকের প্রত্যাশা দেশে সুস্থ হয়ে ফিরে এসে আরো দীর্ঘদিন তিনি লিখে যাবেন।
জীবনযুদ্ধে নানা দুঃখ-কষ্টের মুখোমুখি হতে হলেও লেখক হিসাবে তিনি প্রথম থেকেই বাংলার পাঠকের হূদয়ে স্থান করে নেন। এরপর গত ৪০ বছরে তার জনপ্রিয়তা আকাশ স্পর্শ করেছে। তাকে ছাপিয়ে আর কোনো লেখকই আজ পর্যন্ত পাঠকের মনে স্থান করে নিতে পারেনি। লেখক হিসেবে ঈর্ষণীয় অবস্থানে বিরাজ করছেন তিনি। শুধু উপন্যাস বা ছোট গল্প নয়, শিল্প-সংস্কৃতির যে মাধ্যমেই হাত দিয়েছেন জনপ্রিয়তা যেন তার পায়ে লুটোপুটি খেয়েছে। টিভি নাটক, চলচ্চিত্র এমনকি কবিতা রচনা- সবকিছুই পাঠক পরম আদরে বুকে তুলে নিয়েছে।
অনন্য সব উপন্যাসের পাশাপাশি হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যে সৃষ্টি করেছেন জনপ্রিয়তম দুটি চরিত্র ‘হিমু’ ও ‘মিসির আলী’। তার উপন্যাসের পাশাপাশি এ দুটি চরিত্রও তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বাংলা কল্প বিজ্ঞান রচনাতেও তিনিই পথিকৃত্। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা আড়াই শতাধিক। অতুলনীয় জনপ্রিয়তা সত্বেও অন্তর্মুখী চরিত্রের এই মানুষটি অনাড়ম্বরভাবে চলাফেরা করেন। তার বেশ কিছু গ্রন্থ পৃথিবীর নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে, বেশ কিছু গ্রন্থ স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচীতে অন্তর্ভুক্ত।
হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে। তার পিতা ফয়জুর রহমান আহমেদ এবং মা আয়েশা ফয়েজ। ফয়জুর রহমান একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন এবং তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন। হুমায়ূন আহমেদের অনুজ মুহম্মদ জাফর ইকবাল দেশের আরেক জনপ্রিয় সাহিত্যিক ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। সবার ছোট ভাই আহসান হাবীব রম্য সাহিত্যিক এবং কার্টুনিস্ট। ছোট বেলায় হুমায়ূন আহমেদের নাম ছিল শামসুর রহমান; তার পিতা নিজ নাম ফয়জুর রহমানের সাথে মিল রেখে ছেলের নাম রাখেন শামসুর রহমান। পরবর্তীকালে তিনি নিজেই নাম পরিবর্তন করে হুমায়ূন আহমেদ রাখেন।
হুমায়ূন আহমেদের প্রথম স্ত্রী গুলতেকিন আহমেদ। তাদের বিয়ে হয় ১৯৭৩ সালে। প্রথম স্ত্রীর ঘরে তার তিন মেয়ে এবং দুই ছেলে জন্মগ্রহণ করে। তিন মেয়ের নাম বিপাশা আহমেদ, নোভা আহমেদ, শীলা আহমেদ এবং ছেলের নাম নূহাশ আহমেদ। আরেকটি ছেলে অকালে মারা যায়। ১৯৯০ সালে শীলা আহমেদের বান্ধবী এবং তার বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করা অভিনেত্রী শাওনের হুমায়ূন আহমেদের ঘনিষ্ঠতা হয়। ২০০৫ সালে গুলতেকিনের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর তিনি শাওনকে বিয়ে করেন। শাওনের ঘরে তার তিন সন্তান জন্মগ্রহণ করে। প্রথম কন্যাটি মারা যায়। পরের দু ছেলের নাম নিষাদ হুমায়ূন ও নিনিত হুমায়ূন।
হুমায়ূন আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন শাস্ত্রে বিএসসি ও এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। পরে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পলিমার রসায়ন বিষয়ে গবেষণা করে পিএইচডি লাভ করেন। তার কর্মজীবন শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে অধ্যাপনার মধ্য দিয়ে। পরবর্তীকালে তিনি অধ্যাপনা ছেড়ে দিয়ে লেখালেখিতেই পুরোপুরি আত্মনিয়োগ করেন। পাশাপাশি চলতে থাকে চলচ্চিত্র নির্মাণ, নাটক নির্মাণ।
এ পর্যন্ত অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে : বাংলা একাডেমী পুরস্কার, শিশু একাডেমী পুরস্কার, একুশে পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (শ্রেষ্ঠ কাহিনী ১৯৯৩, শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র ১৯৯৪, শ্রেষ্ঠ সংলাপ ১৯৯৪), লেখক শিবির পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন পদক, বাকশাস পুরস্কার, হুমায়ূন কাদির স্মৃতি পুরস্কার, জয়নুল আবেদীন স্বর্ণপদক প্রভৃতি।
আজ থেকে সপ্তাহব্যাপী একক বইমেলা
হুমায়ূন আহমেদের ৬৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরীতে আজ থেকে শুরু হচ্ছে সপ্তাহব্যাপী একক বইমেলা। হুমায়ূন আহমেদের পুস্তক প্রকাশকগণ যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করেছে। মেলার উদ্বোধন করবেন হুমায়ূন আহমেদের মা আয়েশা ফয়েজ। সেইসঙ্গে তিনি হুমায়ূন আহমেদের আত্মজৈবনিক গ্রন্থ ‘রঙপেন্সিল’-এর মোড়ক উন্মোচন করবেন। বিকাল সাড়ে তিনটায় উদ্বোধন হবে মেলার। রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।ইত্তেফাক
যুক্তরাষ্ট্রে ‘হুমায়ূন মেলা’
এনা জানায়, হুমায়ূন আহমেদের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মুক্তধারা নিউইয়র্কে ব্যাপক অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। গত ৯ নভেম্বর থেকে লেখকের জন্মদিন উপলক্ষে জ্যাকসন হাইটসের মুক্তধারার ইলেকট্রনিক বিলবোর্ডে প্রদর্শিত হচ্ছে ‘শুভ জন্মদিন হুমায়ূন আহমেদ। ১৩ নভেম্বর ২০১১ নিউইয়র্কে হুমায়ূন মেলা’ মুক্তধারায় দিনব্যাপী হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া লেখককে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন, আলোচনা অনুষ্ঠান, কেক কাটা এবং থাকছে নতুন গ্রন্থ ‘রং পেন্সিল’ এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। জন্মদিন উপলক্ষে অন্যপ্রকাশ প্রকাশিত গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করবেন বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক গোলাম মুরশিদ। এদিকে আজ থেকে www.amazon.com এবং www.muktadhara.com -এই দুই ওয়েবসাইটে লেখকের ৬৩টি বই বিশ্বব্যাপী বিক্রির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন গ্রন্থ ছাড়াও মেলায় লেখকের প্রকাশিত শতাধিক গ্রন্থ প্রদর্শিত হবে। লেখকের জন্মদিন উপলক্ষে থাকছে বইয়ের ওপর ১০% মূল্য হ্রাস। বিকাল ৬টা থেকে শুরু হবে আলোচনা অনুষ্ঠান। রাত ১১টা পর্যন্ত চলবে অনুষ্ঠান।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালে মুক্তধারা এই বরেণ্য লেখককে সম্মান জানিয়ে প্রথম ‘হুমায়ূন মেলা’র আয়োজন করে। বর্তমানে হুমায়ূন আহমেদ নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন।
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030