শেখ হাসিনার জন্মদিন আজ
প্রতিবেদক:
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ৬৪তম জন্মদিন আজ। ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তার জন্ম। গত বছরের মতো এবারও জন্মদিনে দেশের বাইরে রয়েছেন শেখ হাসিনা। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক গেছেন তিনি। দেশে ফেরার পথে আজ এ বিশেষ দিনটিতে বিমানে থাকার কথা তার। আগামীকাল বুধবার তিনি দেশে ফিরবেন। শেখ হাসিনা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের প্রথমসন্তান।রাজনৈতিকপরিবারেরসন্তানহিসেবেছাত্রজীবনথেকেই
প্রত্যক্ষ রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হন তিনি। তৎকালীন ছাত্রলীগের অন্যতম নেত্রী ও বাংলা সাহিত্যের ছাত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৭৫ সালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যার সময় স্বামীর সঙ্গে দেশের বাইরে থাকায় ছোট বোন শেখ রেহানাসহ প্রাণে বেঁচে যান তিনি। ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে দলীয় প্রধানের দায়িত্ব নেন শেখ হাসিনা। তার অবর্তমানেই দলের বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজনে ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দলের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে তাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয় এবং দেশে ফিরে এসে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়। তার প্রত্যাবর্তনে গতি ফিরে পায় দল। গত প্রায় আড়াই যুগ ধরে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও আপসহীন নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির মূল স্রোতধারার প্রধান নেতা হিসেবে নিজেকে যেমন প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তেমনি বঙ্গবন্ধুহীন দ্বিধাবিভক্ত দলকে সংঘবদ্ধ করে দলের অনন্য ঐক্যের প্রতীক হয়ে ওঠেন শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এবং অন্য রাজনৈতিক জোট ও দলগুলো ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী তীব্র গণআন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে বিজয়ী হয়। ১৯৯৬ সালে তার নেতৃত্বেই তৎকালীন বিএনপি সরকারের পতন এবং দলীয় প্রভাবমুক্ত সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিজয় অর্জন করে আওয়ামী লীগ।
বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় প্রধান বিরোধী দলের নেতা হিসেবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে প্রথমে ১৪ দলীয় জোট এবং পরে মহাঐক্যজোট গড়ে ওঠে। ১৪ দল ও মহাঐক্যজোটের তীব্র আন্দোলনের মুখেই চারদলীয় জোট সরকার আমলের রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দীন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ২২ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারি করে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধানের দায়িত্ব ছেড়ে দিলে ড. ফখরুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসে। মাত্র ছয় মাসের মধ্যে ১৬ জুলাই চাঁদাবাজিসহ দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার করা হয় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে প্রথম কারাবন্দি হন তিনি। ওই সময় সংসদ ভবন চত্বরের বিশেষ কারাগারে দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস বন্দি ছিলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে তাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার নানা চক্রান্ত হয়। এমনকি দেশের বাইরে যাওয়ার পর ফিরে আসার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। কিন্তু দৃঢ়তায় আর বিপুল জনসমর্থনে সব চক্রান্ত ব্যর্থ হয়। গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে গিয়ে এর আগেও কয়েক দফায় গৃহবন্দি হয়েছেন তিনি।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এ পর্যন্ত দুই মেয়াদে ক্ষমতাসীন হয়েছে। ১৯৯৬ সালে তার নেতৃত্বে দীর্ঘ ২১ বছর পর ক্ষমতায় আসে দলটি। ওই বছরের ১২ জুনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়ে ২৩ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। এরপর ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের ঐতিহাসিক নির্বাচনে চার-তৃতীয়াংশ আসনে বিশাল বিজয় অর্জনের মাধ্যমে গত বছরের ৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার গঠিত হয়। দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। এছাড়া ১৯৮৬ সালের চতুর্থ, ১৯৯১ সালের ষষ্ঠ এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদে অর্থাৎ মোট তিন দফা বিরোধী দলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের জননী। শেখ হাসিনা ১৯৬৮ সালে বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
গণতন্ত্র এবং দেশের মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন-সংগ্রামে অসামান্য অবদান রাখার পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনায়ও ব্যাপক সাফল্যের পরিচয় দিতে সক্ষম হয়েছেন শেখ হাসিনা। ১৯৯৬-২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি ও গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি তার সরকারের অন্যতম সাফল্য হিসেবে বিবেচিত। কারণ ওই চুক্তির ফলে দীর্ঘদিনের অশান্ত-অস্থির পার্বত্যাঞ্চলে নেমে আসে শান্তির পরিবেশ। বর্তমানেও তার নেতৃত্বাধীন সরকার ২০২১ সালের মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যপূরণে নিয়োজিত আছে। কিন্তু জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ আর দেশি-বিদেশি বহুমুখী ষড়যন্ত্র মৃত্যুর কালো ছায়া নিয়ে তাড়া করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। তার মধ্যেও জীবন বাজি রেখেই দারিদ্র্যমুক্ত প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে নিয়োজিত তিনি। এই অঞ্চলে গণতন্ত্র, শান্তি ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবে দেশি-বিদেশি বেশ কিছু পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে বিশ্ব খাদ্য সংস্থা সেরেস পদক, ইউনেস্কোর পার্ল এস বাক পদক, মাদার তেরেসা পদক, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোস স্মৃতি পদক, আন্তর্জাতিক লায়ন্স ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের ১৯৯৬ ও ১৯৯৮ সালের রাষ্ট্রপ্রধান পদক, রোটারি ফাউন্ডেশনের পল হ্যারিস ফেলোশিপ, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার এবং গণতন্ত্র, মানবাধিকার, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সৃজনশীল লেখালেখির জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১২টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত হন তিনি।
গভীর সাহিত্যানুরাগী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন বিষয়ে রচনা করেছেন অনেক গ্রন্থ। এর কয়েকটি হচ্ছে_ সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র, ওরা টোকাই কেন, বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম, দারিদ্র্য দূরীকরণ : কিছু চিন্তাভাবনা, বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্য উন্নয়ন, বিপন্ন গণতন্ত্র : লাঞ্ছিত মানবতা, আমার স্বপ্ন আমার সংগ্রাম, সহে না মানবতার অবমাননা ইত্যাদি।
বিভিন্ন দল ও সংগঠন নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে আজ শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন করবে। কর্মসূচিতে আছে কেক কাটা, আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল প্রভৃতি।
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030
- বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর
- ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি