শেষ হলো জাতিসংঘের দারিদ্র্য বিরোধী সম্মেলন
বাংলাপ্রেস,নিউইয়র্ক: বুধবার বিশ্বনেতৃবৃন্দের নতুন অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতির মধ্যদিয়ে জাতিসংঘের দারিদ্র্যবিরোধী সম্মেলন শেষ হলো।তবে ২০১৫ সালের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে পৌঁছতে নির্দিষ্ট করে কোন সম্মিলিত অর্থ বরাদ্দ বা রাজনৈতিক অঙ্গীকার এখনো আসেনি। সম্প্রতি বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার কবলে পড়ে অনেক দেশ ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়ে। এতে করে অস্বাভাবিক রকম বেড়েছে খাদ্যদ্রব্য ও জ্বালানি মূল্য। এ অবস্থায় বিশ্বে প্রায় এক বিলিয়ন মানুষের মাথাপিছু আয় নেমে গেছে প্রতিদিন ১.২৫ ডলারেরও কম। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন এ বিপুল পরিমাণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে উপেক্ষা না করতে উন্নত দেশের সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে ইরানি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদ বলেন, পুঁজিবাদের মৃত্যুঘণ্টা বেজে গেছে। এ অর্থব্যবস্থার ফলে সৃষ্ট বৈষম্য ও পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলোর আধিপত্যবাদী নীতি বিশ্বে ভয়বহ সঙ্কট ডেকে এনেছে।বিশ্বে বিরাজমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সঙ্কটের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নীতি-নির্ধারকদের অগণতান্ত্রিক ও অন্যায্য শাসনের অবকাঠামোকে দায়ী করেন।ব্রিটিশ উপ-প্রধানমন্ত্রী নিক ক্লেগ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য শীর্ষক সম্মেলনে বিশ্বমন্দা কাটিয়ে উঠতে তার দেশের মতো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে অন্যান্য দেশের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আফগানিস্তানের মতো নাজুক অবস্থা সম্পন্ন দেশগুলোর কথা উল্লেখ করে বলেন, এসব দেশে সংগঠিত অপরাধীরা মাদক উৎপাদন ও বাণিজ্যের মাধ্যমে আমাদের লক্ষ্যকে বাধাগ্রস্ত করছে, এসব দেশে পরিবারগুলো ভোগান্তির শিকার হচ্ছে, তারা স্থানান্তরে বাধ্য হচ্ছে আর শেষে আমাদের কাছেই আশ্রয়প্রার্থী হতে হচ্ছে তাদের। এতে করে ওই অঞ্চলে ঘৃণার বিস্তার ঘটার সাথে সাথে পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা বেড়ে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। সুতরাং সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যকে শুধু একটি বদান্যতা বা নির্দোষ পরার্থপরতার দৃষ্টিতে দেখলে চলবে না। এটা হচ্ছে ব্রিটেনবাসীর চিরস্থায়ী নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের চাবিকাঠি।মঙ্গলবার আফগান পররাষ্টমন্ত্রী জালমাই রসুল বলেন, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সঙ্কট তার দেশে দারিদ্র্য বিমোচন লক্ষ্য অর্জনের পথে সবচেযে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।উল্লেখ্য, ২০০০ সালে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে গৃহীত দারিদ্র্য বিমোচন লক্ষ্যের বাস্তবায়ন প্রচেষ্টার মূল্যায়ন করার লক্ষ্যে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এ লক্ষ্যের মধ্যে ২০১৫ সালের মধ্যে বিশ্বের অতি দরিদ্র জনসংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা, সার্বজনিন প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, এইচআইভি/এইডস রোগের বিস্তার রোধ এবং শিশু ও মাতৃমৃত্যুহার কমানো অন্তর্ভুক্ত ছিল। সোমবার থেকে শুরু হওয়া তিনদিনের এ শীর্ষ সম্মেলনে ১৪০ টিরও বেশি দেশ থেকে আসা প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও রাজা উপস্থিত রয়েছেন। আজ বুধবার এ সম্মেলন শেষ হবে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে মন্ত্রী পর্যায়ে বাৎসরিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আছে। সম্মেলনের শেষ দিন বিকেলে সমাপ্তি অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, চীনের প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী নাওতো কান বক্তব্য রাখবেন। এদিকে, ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বারনার্ড কুশনার বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনে ও জাতিসংঘের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে শুধু অর্থ অনুদান যথেষ্ট নয়। তিনি ফ্রান্সের পক্ষ থেকে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে তহবিল গঠনে অর্থনৈতিক কারবারের ওপর ক্ষুদ্রহারে আন্তর্জাতিক কর ধার্যের বিষয়টি নবায়নের সুপারিশ করেন। তিনি বলেন, পাবলিক ফান্ডের পরিবর্তে এটি করতে হবে এমন কথা বলছি না, আসলে এর মাধ্যমে বিশ্বের প্রতি বার্তা পৌঁছানো যে তাদেরকে এ প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে যেতে হবে। মঙ্গলবার ফ্রান্সে এক বক্তৃতায় তিনি আরো বলেন, এখানে কোন কৌশলগত সমস্যা থাকতে পারে না, এটা একটা রাজনৈতিক সমস্যা। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে আমাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছাই যথেষ্ট।
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030
- বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর
- ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি