Wednesday, 18 March 2026 |
শিরোনাম
নারীর ক্ষমতায়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ : ড. খলিলুর রহমান নিইউয়র্কে টাইমস স্কয়ারের মঙ্গল শোভাযাত্রায় যোগ দিচ্ছেন ম্যানহাটান বরো প্রেসিডেন্ট ব্র্যাড হোয়েলম্যান নিউইয়র্কে স্ট্রিট ভেন্ডরদের জন্য নতুন আইন কার্যকর; জেল শাস্তি বাতিল, আরোপ করা হবে জরিমানা New York Attorney General James Leads Bipartisan Coalition Suing Predatory Lender OneMain for Scheme to Trap Consumers in Debt নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট হাউসে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন ২৩ মার্চ : আহ্বায়ক কমিটি গঠন বাংলাদেশে আওয়ামীলীগসহ সকল রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি করার দাবি নিউজার্সি স্টেট আওয়ামী লীগের নিউইয়র্কে ‘অল কাউন্টি হেলথকেয়ার গ্রুপ’র বার্ষিক ইন্টারফেইথ ইফতার পার্টি HUSBAND CHARGED WITH MURDER AND DISMEMBERMENT OF WIFE WHOSE REMAINS WERE FOUND IN SEPARATE LOCATIONS ALONG BROOKVILLE BLVD AND CROSS BAY BLVD নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসের গ্রাফিক্স ওয়ার্ল্ডে মাসব্যাপী ইফতার আয়োজন নিউইর্য়কে এনওয়াইপিডি মুসলিম অফিসার সোসাইটির বার্ষিক ইফতার ডিনার ও অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠিত
সব ক্যাটাগরি

শ্রদ্ধায় ভালবাসায় হুমায়ূন স্মরণ :প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে নুহাশপল্লীতে ভক্তদের ঢল

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 166 বার

প্রকাশিত: July 19, 2013 | 3:41 PM

আসিফুর রহমান সাগর, মুজিবুর রহমান ও শ্যামলেন্দু পাল :
শ্রদ্ধায় ভালবাসায় হুমায়ূন স্মরণনুহাশপল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের কবর শ্বেতপাথরে বাধাই করা। সমাধিস্থলের চারপাশে দেয়াল ও স্বচ্ছ কাঁচ লাগিয়ে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রিয় লেখকের স্বপ্নের নুহাশপল্লীকে তিনি যে ভাবে সাজাতে চেয়েছিলেন তার চিন্তা চেতনার আলোকে সে ভাবেই ধীরে ধীরে গড়ে তোলা হচ্ছে সেটিকে।
হুমায়ূন আহমেদের বাধাই করা সমাধির উত্তর পাশে মাথার কাছে কাঁচের দেয়ালে তার লেখা দুটি পংক্তি রয়েছে। তাতে লেখা আছে- কল্পনায় দেখছি নুহাশপল্লীর সবুজের মধ্যে ধবধবে শ্বেত পাথরের কবর। তার গায়ে লেখা- ‘চরণ ধরিতে দিয়োগো আমারে, নিয়োনা সরায়ে’। প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে গতকাল সকালে হুমায়ূন আহমেদের দুই ছেলে নিষাদ ও নিনিত তার বাবার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। এ সময় মেহের আফরোজ শাওনের বড় ছেলে নিষাদ বারবার কবরের সবুজ ঘাসে হাত বুলিয়ে দেয়। সে ফুলের তোড়ার সাথে একটি সাদা কাগজে বাবার ছবি এঁকে তাতে লিখেছে- ‘আই লাভ ইউ বাবা’। বাবার প্রতি ছেলের এই ভালোবাসা চোখে জল এনে দিয়েছে সবার। গতকাল চোখের জলে হুমায়ূনকে স্মরণ করলেন তার শুভানুধ্যায়ীরা। স্মরণ করলেন তার পরিবারের সদস্যরা। কবরে ফুল দিয়ে, দোয়া করে তার আত্মার শান্তি কামনা করলেন সবাই। বললেন, তুমি বেঁচে রইবে আমাদের হূদয়ে। তোমাকে আমাদের জীবনে জড়িয়ে রাখবো, হারিয়ে যেতে দেব না।
গতকাল পল্লবীতে হুমায়ূন আহমেদের ছোট ভাই আহসান হাবীবের বাসায় হুমায়ূন স্মরণে কোরআনখানি, দোয়া মাহফিল ও ইফতারের আয়োজন করা হয়। নুহাশপল্লীতেও দোয়া মাহফিল, কোরআনখানি ও ইফতারের আয়োজন করা হয়েছিল। নুহাশপল্লীতে হুমায়ূনের কবর জিয়ারতের জন্য আত্মীয়-স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের বাইরেও অগণিত ভক্ত পাঠক কবর জিয়ারত করে তার আত্মার শান্তি কামনা করেন। এছাড়া হুমায়ূনের জন্মস্থান নেত্রকোনার কেন্দুয়াতেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয় তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। উল্লেখ্য, গত বছরের ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বেলভ্যু হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন নন্দিত কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদ।
পল্লবীতে মা আয়েশা ফয়েজের পাশে পরিবারের সদস্যরা,
এসেছিলেন গুলতেকিন
হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকীতে তার ছোট ভাই কার্টুনিস্ট আহসান হাবীবের পল্লবীর বাসায় মিলাদ ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এখানে উপস্থিত ছিলেন তাদের মা আয়েশা ফয়েজ এবং আরেক ভাই লেখক ও শিক্ষাবিদ মুহম্মদ জাফর ইকবাল। এছাড়াও লেখকের মৃত্যুবার্ষিকীর পারিবারিক এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন হুমায়ূন আহমেদের প্রথম স্ত্রী গুলতেকিন খান ও ছেলে নুহাশ হুমায়ূন। হুমায়ূনের ভাইদের পাশাপাশি বোনরাও হাজির হয়েছিলেন পল্লবীর বাসায়। সবাই মিলে পারিবারিকভাবে প্রিয় মানুষটির স্মৃতিচারণ করেন। তাদের আলাপচারিতায় উঠে আসে নন্দিত লেখকের পারিবারিক জীবনে কাটিয়ে দেওয়া নানা সুখময় স্মৃতি। প্রকাশকদের অনেকেও হাজির হয়েছিলেন সেখানে। বিকেলে সবার উপস্থিতিতে হুমায়ূনের আত্মার শান্তি কামনা করে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সন্ধ্যায় সবাই মিলে একসঙ্গে ইফতার করেন।
নুহাশপল্লীতে মানুষের ঢল
গতকাল নুহাশপল্লীতে কোরানখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং ইফতারের আয়োজন করা হয়। নুহাশপল্লীর আশপাশের মাদ্রাসা ও এতিমখানার ছাত্র, পরিবারের সদস্য এবং হুমায়ুন আহমেদের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন বন্ধু, লেখক, প্রকাশকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় সাড়ে ৪’শ জন ইফতার মাহফিলে যোগ দেন। দুপুরের পর থেকে স্থানীয় বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানার ছাত্ররা কোরআন তেলাওয়াত করেন। ইফতারের আগে তারা কবর জিয়ারত করে মোনাজাত শেষে মিলাদ মাহফিলে অংশ নেন।
প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে নুহাশপল্লীতে হুমায়ুন আহমেদের মা, ভাই, বোন, প্রথম পক্ষের কোন সন্তান আসেননি। তবে গত শনিবার প্রথম পক্ষের বড় ছেলে নুহাশ হুমায়ূন, মেয়ে শিলা আহমেদ, নোভা আহমেদ বাবার কবর জিয়ারত করেছেন বলে জানান নুহাশপল্লীর ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বুলবুল।
গতকাল শুক্রবার সকাল এগারটার দিকে হুমায়ুন পত্নী মেহের আফরোজ শাওন তার দুই ছেলে নিষাদ ও নিনিত, শাওনের পিতা ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী, মা তহুরা আলী এমপি, অসংখ্য ভক্ত হুমায়ূন আহমেদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তারা এ সময় কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করে দোয়া-দূরুদ পাঠ করেন। মোনাজাতে তারা হুমায়ূন আহমেদের আত্মার মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করেন।
গতকাল সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হুমায়ূন ভক্তরা নুহাশপল্লীতে আসতে থাকেন। তারা তাদের প্রিয় লেখকের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং কবর জিয়ারত করেন। জুম্মা নামাজের পর নুহাশপল্লীতে হুমায়ূন আহমেদের কবর জিয়ারত করতে আসেন তার অসংখ্য দর্শনার্থী, ভক্ত ও শুভান্যুধায়ী। হুমায়ূন আহমেদের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন বন্ধু, লেখক, নাট্যকার, প্রকাশক, অধ্যাপক, অভিনেতা তার কবর জিয়ারত করেন। এদের মধ্যে রয়েছেন অন্যপ্রকাশের স্বত্বাধিকারী মাজহারুল ইসলাম, অবসর প্রকাশনীর আলমগীর হোসেন, সময় প্রকাশনীর ফরিদ হোসেন, অনুপম প্রকাশনীর মিলন কান্তি নাগ, কাকলী প্রকাশনীর নাসির আহমেদ সেলিম, অন্যদিনের আব্দুল্লাহ নাসের, অন্বেষা প্রকাশনীর শাহাদাত্ হোসেন, জ্ঞানকোষ প্রকাশনীর সাইদ আহমেদ, নাটক নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী, প্রচ্ছদ শিল্পী ধ্রুব এষ, অনন্যা প্রকাশনীর মনিরুল ইসলাম, লেখক ও স্থপতি শাকুর মজিদ, হুমায়ূন আহমেদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আর্কিটেক্ট ফজলুল করিম, অধ্যাপক মনিরুজ্জামান ও টিএন্ডটি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মনির আহমেদ, অভিনেতা ডাঃ এজাজুল ইসলাম, সৈয়দ হাসান সোহেল, আশরাফ হোসেন টুলু, সঙ্গীত শিল্পী এসআই টুটুল, অভিনেত্রী তানিয়া আহমেদ, অন্যদিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মাসুম রহমান প্রমুখ।
কবর জিয়ারত শেষে শাওন সাংবাদিকদের কাছে হুমায়ূন আহমেদের বিভিন্ন স্মৃতিচারণ করেন। তিনি জানান, হুমায়ূন আহমেদ কখনো দুঃখের কোন অনুষ্ঠানকে আড়ম্বরপূর্ণ ভাবে উদযাপন করেননি। তিনি আনন্দ অনুষ্ঠানকে আড়ম্বরপূর্ণ ভাবে উপভোগ করতেন। তিনি বলেন, হুমায়ূন আহমেদ প্রতিটি রমজানে এলাকার বিভিন্ন এতিম শিশুদের নিয়ে নুহাশপল্লীর মাঠে কার্পেট বিছিয়ে ইফতার করতেন। তার মৃত্যুর এক বছর পরও ঠিক একই ভাবে কোন প্রকার আড়ম্বর ছাড়াই সাদামাটা ভাবে পালন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সব সময় তার মাঝে হুমায়ূন আহমেদের শূন্যতা বিরাজ করে। একটি বছর কেবল দিন গণনা মাত্র। প্রতিটি দিন ও মুহূর্তই তার কাছে সমান। তিনি বলেন, ‘আমার বাচ্চারা যখন তাদের বাবার কথা জানতে চায় তখন আমি তাদের কোন প্রশ্নের জবাব দিতে পারি না। বাচ্চারা সারাক্ষণ তার বাবাকে স্মরণ করে এবং তার অভাব অনুভব করে।’ শাওন বলেন, হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্ন ছিল একটি ক্যান্সার হাসপাতাল গড়ে তোলা। তার সে ইচ্ছা পূরণ করার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে। তিনি বলেন, তার প্রিয় দুই সন্তান নিষাদ ও নিনিতকে তার পিতার আদর্শে বড় করে তোলাই হবে আমার প্রধান কাজ। এদিকে হুমায়ুন আহমেদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গাজীপুর হুমায়ূন আহমেদ স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে শহরের দীঘিরচালার বুলবুল টাওয়ারে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
নেত্রকোনায় হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী পালন
হুমায়ূন আহমেদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার জন্মস্থান নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করে। হুমায়ূন আহমেদ স্মৃতি সংসদ, অগ্রপথিক সংগঠন, সমকাল সুহূদ সমাবেশ, যুগান্তর স্বজন সমাবেশ, যায়যায়দিন, ফ্রেন্ডস ফোরাম ও হুমায়ূন আহমেদের হাতে গড়া শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ বিস্তারিত কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে তাকে স্মরণ করে। সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি শোক র্যালি বের করে সদরের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করে। র্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন, হুমায়ূন আহমেদ স্মৃতি সংসদের সভাপতি মজিবুর রহমান।ইত্তেফাক
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV