সংসদ এখন ‘বোকাবাজদের আড্ডাখানা’ :আসম আবদুর রব
লুৎফর রহমান: আসম আবদুর রব। মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম পতাকা উত্তোলক। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও বর্তমানে একাংশের সভাপতি। স্বাধীনতার আগে ও পরে জেল-জুলুমের শিকার হওয়া এ নেতা এ পর্যন্ত দু’বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ছিলেন মন্ত্রী। জাতির ক্রান্তির সময় থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণের পথে রাজনীতির ধারা-উপধারার অভিজ্ঞতালব্ধ এই নেতা সামপ্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন মানবজমিন-এর সঙ্গে। একান্ত সাৰাৎকারে তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার দুই বছরেও মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। আর দেশে আবার যে সংঘাতের পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, তা দেশের দ্বি-দলীয় রাজনীতির ফল। বিরোধী দলের সংসদ বর্জন আর বাড়ি নিয়ে রাজনীতির বিষয়ে তিনি বলেছেন, অতীতে বাড়ির রাজনীতি বড় দুই দলই করেছে। রাষ্ট্রের সম্পদ কাউকে বিনা পয়সায় বা এক টাকায় দেয়ার অধিকার যেমন কারও নেই, তেমনি এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পদ নিয়ে দেশের মানুষকে বিব্রত করার অধিকার কারও নেই। বর্তমান সংসদের মূল্যায়ন করে তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে এটি ‘বোকাবাজদের আড্ডাখানা’। সংসদে এমপিরা যেসব আচরণ করেন এর জন্য দেশের মানুষ তাদের ভোট দিয়ে সংসদে পাঠায়নি। যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৪০ বছরে এই বিচার না হওয়ার জন্য অতীতের সব সরকার দায়ী। এ বিচারের জন্য সরকারের উদ্যোগ ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। তবে বিচার যেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না হয়। দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ এই নেতা বলেন, গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ ঝকঝকে অন্ধকার। কোন এলাকা অসৎ লোকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হলে সেখানে সৎ লোকের বসবাস অত্যন্ত কষ্টকর। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে আগে পেশ করা তার ১০ দফা বাস্তবায়নে সরকারকে পরামর্শ দেন তিনি। বর্তমান সরকারের দুই বছরের মূল্যায়ন করে বলেন, জনগণ বিপুল আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ভোট দিয়েছিল, তারা এখন হতাশ। অনেক ৰেত্রে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। রাজনীতিতে হঠাৎ সরব এবং নীরব থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নীরবতাও অনেক সময় ভয়ঙ্কর। আমি জীবনে কোন সময় রাজনীতিতে নীরব ছিলাম না। আন্তর্জাতিক, জাতীয় ও আঞ্চলিক বাস্তবতার নিরিখে অবস্থার পরিপ্রেৰিতে সরব-নীরবের কৌশল ও পদ্ধতি পরিবর্তন হয়। ১/১১ ও এর পরবর্তী রাজনীতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ওনাদের (ওয়ান-ইলেভেনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার) দেশের জনগণ আসতে বলেনি। একটি নির্বাচিত সরকারের বিকল্প অনির্বাচিত সরকার হতে পারে না। পৃথিবীর কোথাও এমনটি হয়নি। তাদের দায়িত্ব নেয়ার প্রথম দিকে মানুষ কিছুটা আশান্বিত হলেও সর্বশেষ পরিস্থিতি বলে দিচ্ছে ওনারা ব্যর্থ হয়েছিলেন। ১/১১-এর প্রেৰিতে দেশের রাজনীতির কোন পরিবর্তন হয়েছে কিনা জানতে চাইলে আসম রব বলেন, দ্বি-দলীয় রাজনীতির মধ্যে দেশকে আবদ্ধ রাখার চেষ্টা করলে এর চেয়ে উন্নত কিছু হওয়া সম্ভব না। এর বিকল্প হলো জনগণকে রাষ্ট্রৰমতার মালিক করা। যার জন্য প্রয়োজন ফেডারেল পদ্ধতির সরকার। প্রাদেশিক ব্যবস্থা, প্রাদেশিক সংসদ ও সরকার। বিকেন্দ্রীকরণ প্রশাসনিক ব্যবস্থা। স্বশাসিত স্থানীয় সরকার। প্রধান বিরোধী দলের হরতাল এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে কোন ঔপনিবেশিক আধা উপনিবেশিক শাসন বা সামরিক একনায়কতন্ত্রের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য হরতাল বা আন্দোলন আর নির্বাচিত সরকারের আমলের আন্দোলনের রূপ এক হতে পারে না। গণতান্ত্রিক সরকারের সময় আন্দোলন গণতান্ত্রিক অধিকার ও পরিবেশ-পরিস্থিতি এবং বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত। মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি যে কোন দল যে কোন সময় চাইতে পারে। তবে এটি জনগণের স্বার্থে না দলের স্বার্থে তা বিবেচিত হবে জনগণের রায়ে। তিনি বলেন, বাক, ব্যক্তি, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকারসহ জনগণ যে রাষ্ট্রৰমতার মালিক তা প্রতিষ্ঠিত করা গেলেই সংঘাতময় রাজনীতির পথ থেকে উত্তরণ করা সম্ভব। দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সামনে জাসদ কোন দলকে নিয়ে জোট করবে কিনা-এমন প্রশ্নে এক কথায় উত্তর দেন রব। বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশ, জাতি এবং জনগণের স্বার্থে যা করণীয়, তাই করবো। মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ হয়েছে, স্বাধীনতার ৪০ বছর পর এখন প্রত্যাশাই বা কি- জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধকালে মুজিব বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় সেক্টর প্রধান রব বলেন, এতদিন আমরা দলীয় শাসন, একদলীয় শাসন, ব্যক্তি, গোষ্ঠী এবং সামরিক শাসন, ফ্যাসিবাদী শাসন, বিদেশী কলকাঠি নাড়ানোর মধ্যে ৰমতায় আসা এবং চলে যাওয়া দেখেছি। আমরা যে বাংলাদেশ চেয়েছিলাম, সে বাংলাদেশ এখনও পাইনি। প্রত্যাশা যা ছিল, তাই এখনও আছে। আর তা হলো জনগণের মুক্তি আর প্রয়োজন হলে তার জন্য, দেশের জনগণের জন্য আরেকটি রাজনৈতিক যুদ্ধ করতে হবে। তা শুধু দল দিয়ে হবে না। এর জন্য প্রয়োজন জাতীয় ঐকমত্য। এ আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং চেতনার জন্য দেশের লাখ লাখ মানুষ প্রাণ দিয়েছে, যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। এর জন্য, জনগণের ৰমতায়নের জন্য। তাদের চেতনার বাস্তবায়নের জন্য এখন দ্বিকৰবিশিষ্ট পার্লামেন্টের কোন বিকল্প নেই। একজন সাবেক ছাত্রনেতা এবং স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি আসম রবের কাছে বর্তমান ছাত্র রাজনীতির মূল্যায়ন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের নির্বাচন হচ্ছে না ২০ বছর ধরে। এটি নিয়ে আন্দোলন বা হরতাল হচ্ছে না। আন্দোলন-হরতাল হচ্ছে কোন দলকে ৰমতা থেকে সরানোর জন্য, আবার কোন দলকে ৰমতায় বসানোর জন্য। কোন নেত্রীকে ৰমতায় বসানোর জন্য বা ৰমতা থেকে নামানোর জন্য। এখানে ছাত্ররা ৰমতার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। এই লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি তো আমরা চাইনি। এখানে শিৰক, অভিভাবক এবং পুরো জাতির দায়িত্ব রয়েছে ছাত্রদের দলীয় লেজুড়বৃত্তি থেকে বের করে আনা। স্বাধীন ও স্বকীয়ভাবে পরিচালিত হয়ে আগামী প্রজন্মের তীক্ষ্ণ প্রখর গুণসম্পন্ন ছাত্রসমাজকে অদলীয়ভাবে রাজনীতি করতে উদ্বুদ্ধ করা। এ দায়িত্ব সবার। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি নিয়ে রাজনীতিতে যে আলোচনা-পর্যালোচনা চলছে এ সম্পর্কে জানতে চাইলে জেএসডি সভাপতি বলেন, বাড়ি দখল করার রাজনীতি এ দেশের বড় দল যারা অতীতে একের অধিকবার ৰমতায় ছিলেন তারা সবাই করেছে। রাষ্ট্রের সম্পদ বিনা পয়সা বা এক টাকায় হোক তা কোন সরকারের দেয়ার অধিকার নেই। এই অনাকাঙ্ক্ষিত সম্পত্তি নিয়ে দেশের জনগণকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার কোন অধিকার আছে বলেও আমি মনে করি না। যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রসঙ্গে রব বলেন, যারা অতীতে ৰমতায় ছিলেন, তারা যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেননি। ৪০ বছর পরও এই উদ্যোগ নেয়ার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। তবে এটাকে আগামী নির্বাচনের ইস্যু করার জন্য ঝুলিয়ে না রাখলে খুশি হবো। যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়টি যখন আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের অধীন, তখন এটি নিয়ে সরকার বা বিরোধী দলের কোন প্রকার মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা উচিত। এ বিচার যেন দলীয় স্বার্থে ব্যবহার না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ কি-এমন প্রশ্নে এই মুক্তিযোদ্ধার কণ্ঠে হতাশার সুর। বলেন, আজ থেকে আট বছর আগে এ অবস্থার উত্তরণের জন্য ১০ দফা কর্মসূচি দিয়ে রেখেছি দেশ এবং জনগণের কাছে। এই ১০ দফার মধ্যে আছে ফেডারেল পদ্ধতির সরকার, দ্বিকৰবিশিষ্ট পার্লামেন্ট, ৮ থেকে ৯টি প্রদেশ, প্রাদেশিক পার্লামেন্ট, স্বাধীন ও নিরপেৰ বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, নির্বাচন কমিশন, জুডিশিয়াল কাউন্সিল এবং শক্তিশালী স্বশাসিত স্থানীয় সরকার। স্তরে স্তরে সর্বত্র জবাবদিহির ব্যবস্থা। জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত মহাজোট সরকারের সময়ে জাতীয় সংসদের কার্যক্রমের মূল্যায়ন করে তিনি বলেন, এখন সংসদ সদস্যদের অনেকে পড়াশোনাই করেন না। আমি যখন সংসদ সদস্য, বিরোধী দলের নেতা এবং মন্ত্রী ছিলাম তখনকার প্রসিডিংগুলো এখনকার এমপিদের দয়া করে পড়ার অনুরোধ করবো। এক দল আরেক দলের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধারে, মা-বাপ তুলে গালি দেয়, উলঙ্গ অশালীন আচরণ ও শব্দ ব্যবহার করে। এর জন্য দেশের মানুষ এমপিদের ভোট দিয়ে সংসদে পাঠায়নি। এমপিদের শতকরা ৯৯ জনই তো সংসদে যান না। সীমান্ত এলাকা থেকে বাণিজ্য এলাকা, বন্দর, দেশে-বিদেশে যেখানে ব্যবসা-বাণিজ্য হয়, টাকা-পয়সা লেনদেন হয় সেখানে, দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করার কাজে ব্যস্ত অনেকে। ভোটের সময় ভোটারদের এ বিষয়গুলো চিন্তা করা উচিত। জনগণকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা রাষ্ট্রীয় রাজনীতির জন্য, রাজনীতির মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য অভিজ্ঞতাসম্পন্ন, যারা দেশ-জাতির জন্য জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত, আদর্শের জন্য প্রতিশ্র্বতিবদ্ধ, যারা রাষ্ট্র পরিচালনায় নীতিনির্ধারণ, আইন প্রণয়ন ও বিশ্বায়নের প্রতিযোগিতায় জাতিকে মাথা তুলে দাঁড়াতে ভূমিকা রাখতে পারবেন, তাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন-নাকি যারা চোরাকারবারি, দুর্নীতিবাজ, দেশের সম্পদ পাচারকারী, তাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। মানবজমিন
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections
- Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান
- সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের