সমগ্র বিশ্ব গ্রামীণ ব্যাংক থেকে উপকৃত হয়েছে,বিশ্বকে তারা পথ দেখিয়েছে
ইলিয়ট ডালে: যেকোন আমেরিকানকে জিজ্ঞেস করুন বাংলাদেশ সম্পর্কে তার কি ধারণা। আপনি দুটো জিনিস শুনতে পাবেন। প্রথমত. এলাকাটি দুঃখজনকভাবে অনগ্রসর। বন্যা, খরা, জনসংখ্যার আধিক্য আর দারিদ্র্যের কষাঘাতে বিপর্যস্ত। দ্বিতীয়ত. এই এলাকাটি খুবই সৌভাগ্যবান। কারণ সেখানে এমন একটি সামাজিক উদ্ভাবন ঘটেছে যা সমর্থন করছে দাতা, সরকার এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠী নিজেরাই। দরিদ্ররাই নেতৃত্ব দিচ্ছে বিশ্বকে। আর এ সবকিছুই যিনি সম্ভব করেছেন তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ইউনূসের কাজ বাংলাদেশের ৮০ লাখ দরিদ্র নারীকে পথের দিশা দিয়েছে। তারা ক্ষুদ্রঋণ নিয়েছে। কুটিরশিল্প শুরু করেছে। আর দারিদ্র্যের ছোবল থেকে নিজেদের পরিবারকে বাঁচিয়েছে। আর সে কারণেই ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংক, যা ড. মুহাম্মদ ইউনূসেরই সৃষ্টি, তারা ২০০৬ সালে পেয়েছে নোবেল পুরস্কার। তার চেয়ে বড় কথা অবশিষ্ট বিশ্বকে তারা পথ দেখিয়েছে। অনেকেই এটা মডেল হিসেবে নিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার অন্যতম। বেসরকারি উদ্যোক্তার দিক থেকে এটি একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এই নারীরা প্রায় শূন্য হাতে শুরু করেছিল। কিন্তু সেটাই কালক্রমে গ্রামীণ ব্যাংকের ৭৫ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা দিয়েছে। ব্যাংকটির পেইড ইকুইটি এখন ৯৬.৫ শতাংশ। তাদের সাফল্যগাথা সারা বিশ্বজুড়ে লক্ষ করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে ১২৫ মিলিয়নের বেশি ঋণগ্রহীতা প্রমাণ রাখছেন যে, আমাদের মধ্যে যারা সবচেয়ে দরিদ্র তারা শুধু ঋণলাভের যোগ্য নন, তারা হতে পারেন অসাধারণ উদ্যোক্তাও। এই যে এত মেধাবী সাফল্য তাকে কে-ই বা স্বীকৃতি না দিয়ে পারে। কে এমন আছেন যিনি এটাকে সাধুবাদ না দিয়ে পারবেন।
দুর্ভাগ্যবশত এর উত্তর হলো এমনও আছেন, আর তার নাম হলো ‘বাংলাদেশের সরকার’। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক যাদের কাজ হলো গ্রামীণ ব্যাংক দেখভাল করা। তারা সম্প্রতি ব্যাংকের বোর্ড সভাকে পরামর্শ দিয়েছে তারা যেন অবিলম্বে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অপসারণ করে।সে আদেশ ছিল আকস্মিক। গ্রামীণ বোর্ডের ৯ জন নারী আছেন। যারা একইসঙ্গে ব্যাংকের গ্রাহক আবার শেয়ার হোল্ডার। আরও আছেন তিনজন সরকারি কর্মকর্তা। এক দশক আগে এই ১০ সদস্যের বোর্ড ইউনূসকে স্বাভাবিক অবসরের বয়সসীমা থেকে রেহাই দিয়েছিলেন। ইউনূসের বয়স এখন ৭০। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বপদে বহাল থাকতে কোন বাধা নেই। এখন দেশটির সরকার যে হস্তক্ষেপ করল, সেটা তারই দীর্ঘকালীন অবস্থান ও ঘোষণার পরিপন্থী। কারণ সরকার বলেছিল গ্রামীণ ব্যাংক একটি স্বাধীন বেসরকারি খাতের সংগঠন। তাই তার স্বাধীনতায় তারা হস্তক্ষেপ করবে না।
ঢাকায় এখন কি ঘটছে, সেটা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা করতে চাইলে পাতার পর পাতা ভরে ফেলা যাবে। কিন্তু এখন এটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বোঝা যে, ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানের ওপর কি ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। যে রুগ্ণ পরামর্শের ভিত্তিতে এতবড় একটা ক্ষতি ঘটে গেছে, তা কি করে এখন পূরণ করা যায়, আর তাতে আমরা কতটা প্রভাব খাটাতে পারি।
সমগ্র বিশ্ব গ্রামীণ ব্যাংক থেকে উপকৃত হয়েছে। যদিও এটি বাংলাদেশে অবস্থিত, কিন্তু এটা একটি বিশ্ব আইকন এবং তা রক্ষা করে চলেছে বিশ্বের স্বার্থ। যুক্তির খাতিরে বলা যায়, ১২৫ মিলিয়নের বেশি ক্ষুদ্রঋণের গ্রাহক বিশ্বজুড়ে ক্ষুদ্রঋণের যে সুবিধা পেয়েছেন, সে জন্য তারা ড. ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংকের কাছেই ঋণী। কারণ গ্রামীণ ব্যাংকই মান বেঁধে দিয়েছে। আর সেই মানই সারা বিশ্বের ক্ষুদ্রঋণকে তরঙ্গায়িত করছে। এখন যদি সেখানে কোন বিষক্রিয়ার সংক্রমণ ঘটে যায়, তাহলে তা সারা বিশ্ব জুড়ে দরিদ্র নারীদের আশার উৎসকে পরাভূত করবে। উপরন্তু বিশ্বের আরও ১৩০টি দেশে ক্ষুদ্রঋণ আন্দোলনকে ব্যাহত করবে।
বর্তমানে অবশ্য এমন একটা সময় যাচ্ছে, যখন কতিপয় মুনাফাভোগী উদ্যোক্তা ক্ষুদ্রঋণকে তাদের পুঁজিপতি হওয়ার হাতিয়ারে পরিণত করতে চাইছে। তারা হলেন ঋণ-হাঙর। আমাদের এই হাঙর থেকে বাঁচতে হলে গ্রামীণ ব্যাংককে সুরক্ষা দিতে হবে।
গ্রামীণ ব্যাংকের সাফল্যগাথার মূলমন্ত্র হলো, তাদের ঋণ গ্রহীতাদের কাছে তাদের অঙ্গীকার। অন্য কারো কাছে নয়। সরকার যদি হস্তক্ষেপ করে, তাহলে ঋণ গ্রহীতাদের যে পারস্পরিক আশ্বাসের জায়গা তা বিঘ্নিত হবে। তারা যে ঋণ পরিশোধকারী হিসেবে অসাধারণ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখছে, সেখানে বিপদ ঘনিয়ে আসবে। ব্যাংকে তাদের জমানো প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলারের জামানত এবং তাদের অত্যন্ত প্রশংসনীয় ব্যবস্থাপনা ও তাদের পুরো লক্ষ্য বিনষ্ট হবে। বাংলাদেশ এই সেদিনও পর্যন্ত ব্যাংকের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতে সদিচ্ছার পরিচয় দিয়ে আসছিল। এখন বাংলাদেশ যদি সেই নীতির লঙ্ঘন ঘটায়, তাহলে তা হবে প্রত্যাশার বাইরে।
ইউনূস লিখেছেন, ‘ক্ষুদ্রঋণ আন্দোলন যা এখন দিকে দিকে অর্থের মানদণ্ডে প্রসারিত হয়েছে, সেটা কিন্তু পরিহাসভরে হলেও সত্য। এর গোড়াতে কিন্তু অর্থ অনুপস্থিত ছিল। এটা হলো তেমন একটা ব্যবস্থা, যাতে প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার সম্পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারে। এটা কোন নগদ পুঁজির বিষয় নয়, এটা হলো মানবপুঁজির বিষয়। অর্থ এখানে নিতান্তই একটি হাতিয়ার। যা শুধু মানুষের স্বপ্ন দেখার চাবি। যারা এই জগতের সবচেয়ে দুর্ভাগা, যারা হতদরিদ্র তারা যাতে সম্মান, মর্যাদা এবং বেঁচে থাকার অর্থ খুঁজে পায়, সেটাই হলো গ্রামীণ ব্যাংকের দর্শন।’
আসুন আমরা একটি উদাত্ত আহ্বান জানাই বাংলাদেশ সরকারের প্রতি, যাতে তারা তাদের দীর্ঘ ঐতিহ্য বজায় রেখে চলতে পারে। আর সেই ঐতিহ্য হলো গ্রামীণ ব্যাংককে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া। সরকারি হস্তক্ষেপ না করা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের কতিপয় সদস্য ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এবং আমরা, আমাদের নিজেদের জনপ্রতিনিধিদের এই প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার জন্য উৎসাহিত করা উচিত। আমাদের পক্ষে সম্ভব সব কিছুই করতে হবে। এটা স্পষ্ট করার জন্য যে, মুহাম্মদ ইউনূসের অসাধারণ অবিস্মরণীয় কণ্ঠ ও চেতনা জাগ্রত রাখতে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে তাকে অভিনন্দন জানাতে সারা বিশ্ব অপেক্ষা করে আছে।
ইলিয়ট ডালে : মাইক্রোফিন্যান্স বিষয়ক প্রিন্সটনভিত্তিক লেখক। ২৪শে মার্চ প্রকাশিত। খালিজ টাইমসের সৌজন্যে।মানবজমিন।
- SUSPENDED ATTORNEY CHARGED WITH GRAND LARCENY FOR STEALING MORE THAN $1 MILLION FROM BORROWERS, DIME COMMUNITY BANK
- Six Bangladeshi Peacekeepers Posthumously Awarded UN Dag Hammarskjöld Medal
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
- যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া স্টেট সিনেট নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকান শেখ রহমানের টানা পাঁচবার জয়
- A Star Dimmed: Mourning the Loss of Tofail Ahmed, Architect of Our History
- নিউইয়র্ক ষ্টেট অ্যাসেম্বলী ডিষ্ট্রিক্ট-৩০’র প্রাইমারী নির্বাচনে শামসুল হকের সমর্থনে জ্যামাইকায় ফান্ড রেইজিং
- Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency
- New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes