সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি, মামলা প্রত্যাহার ও দোষী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শাস্তির দাবিতে নিউইয়র্কে প্রতিবাদ সমাবেশ (ভিডিও)
https://www.facebook.com/USANewsNY/videos/496885468184652
https://www.facebook.com/USANewsNY/videos/1537547553303305
দৈনিক প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার রোজিনা ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তি, মামলা প্রত্যাহার ও দোষী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শাস্তির দাবিতে নিউইয়র্কে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে লেখক, সাংবাদিক এবং প্রবাসী জনসমাজ। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের মুক্তি দিয়ে তাকে হেনস্তাকারীদের শাস্তির দাবি জানানো হয়। ১৮ মে মঙ্গলবার জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে নিউইয়র্ক সহ আশেপাশের রাজ্য থেকে লেখক, সাংবাদিক এবং জনসমাজের প্রতিনিধিরা যোগ দেন।
বক্তারা বলেন, সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, তা কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। তারা বলেন, বাংলাদেশের সচিবালয়ে রোজিনা ইসলামকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একান্ত সচিবের কক্ষে যে ভাবে নিপীড়ন করা হয়েছে তা নজীরবিহীন। সৎ সাংবাদিকতার প্রতীক এই নারী সাংবাদিক তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জনৈক অতিরিক্ত সচিবের কোপানলে পড়েন। এরপর তার বর্বরতার সমস্ত ভব্যতার সীমা অতিক্রম করে। শুধু তাই নয় পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখার পর প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাকে থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে অসুস্থ এই নারী সাংবাদিককে সারারাত আটকে রেখে আদালতে হাজির করা হয়।

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের উপর হামলা, হেনস্থা ও মামলার মাধ্যমে বাংলাদেশে সাংবাদিকতার কণ্ঠ চেপে ধরার নগ্ন বাস্তবতা উঠে এসেছে। এ ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হয়েছে। আমরা তার মুক্তি চাই, তার সঙ্গে যারা এসব অন্যায় কাজগুলো করেছেন তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। অবিলম্বে রোজিনা ইসলামকে মুক্তি দিতে হবে। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
ডাইভারসিটি প্লাজার সমাবেশে হাতে লেখা পোস্টার হাতে লোকজন সমবেত হয়ে সমাবেশ শুরু করলে বিদেশী লোকজনকেও সংহতি জানাতে দেখা যায়। সাংস্কৃতিক সংগঠক তোফাজ্জল লিটনের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সমাবেশের শুরুতেই বক্তব্য রাখেন লেখক সাংবাদিক ইব্রাহীম চৌধুরী। প্রতিবাদ সমাবেশে সংহতি জানিয়ে আরো বক্তব্য রাখেন প্রবীণ আইনজীবী শেখ আখতারুজ্জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আব্দুল মুকিত চৌধুরী, লেখক সাংবাদিক নাজমুল আহসান, মাহফুজুর রহমান, সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, শামীম আহমেদ, মনিজা রহমান, এইচ বি রিতা, রওশন হক, এফ এফ এম মিসবাউজ্জামান, গোপাল সৈন্যাল, রোকেয়া দীপা, রওশন আরা নীপা, মনজুরুল হক, শিরিন হাসান, জাঁকির হোসেন বাচ্চু প্রমুখ।
প্রতিবাদ সমাবেশে সংহতি জানাতে উপস্থিত ছিলেন লেখক সাংবাদিক আবু তাহের, লাভলু আনসার, শহীদুল ইসলাম, শামিম আল আমীন, এ বি এম সালাহ উদ্দিন, নিহার সিদ্দিকী, বিশ্বজিত সাহা, মাহবুবুর রহমান, ফকু চৌধুরী, ইমাম কাজই কাইয়্যূম, এম বি তুষার, আব্দুশ শহীদ, শাহ জে চৌধুরী প্রমুখ।
সাংবাদিক ইব্রাহীম চৌধুরী দেশের একজন সাংবাদিকের উপর নিপীড়নের প্রতিবাদে প্রবাসী জনসমাজের প্রতিক্রিয়া এবং প্রতিবাদে নেমে আসার জন্য সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
বাংলদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী শেখ আখতারুজ্জামান তাঁর বক্তৃতায় বলেন, রোজিনা ইসলামের নামে যে মামলা দায়ের করা হয়েছে তার সারমর্ম দেখলেই ধারণা পাওয়া যায় এ মামলা বিদ্বেষ প্রসূত। এ মামলার কোন ভিত্তি নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত বিশ্বাস বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে একের এক এমন ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে আজ সত্যয় জানার এবং জানানোর সব পথ বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। এর ভয়াবহ পরিণামের কথা তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।
যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আব্দুল মুকিত চৌধুরী বলেন, আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি লুটেরাদের লুটপাটের জন্য নয়। যারা লুটপাট করছে, তাদের পরিচয় প্রকাশ করতে গিয়ে যখন সাংবাদিকতা বিপন্ন হয়ে উঠে তখন একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বসে থাকার সুযোগ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি রোজিনা ইসলামকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার দাবী জানান।
সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান বলেছেন, ওয়াশিংটন পোস্ট সহ আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে রোজিনা ইসলামকে গ্রেফতার ও হেনস্তা করা নিয়ে যেসব সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা দেশের ভাবমূর্তিকে বিনষ্ট করেছে। এ নিয়ে সরকারকে ভাবতে হবে এবং রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও হয়রানি করার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য তিনি বাংলাদেশ সরকারের কাছে দাবী জানান।

বর্ণমালা নিউজের সম্পাদক মাহফুজুর রহমান বলেন, রোজিনা ইসলামের উপর হামলা বাংলাদেশে সাহসী সাংবাদিকতার উপর হামলার নামান্তর। তিনি অবিলম্বে তাঁর মুক্তি দাবী করেন এবং এ ঘটনার জন্য দায়ীদেরও বিচারের মুখোমুখি করার দাবী জানান তিনি।
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম এবং সাপ্তাহিক জনতার কন্ঠ’র সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সেলিম রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও হয়রানি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবী জানান।
সাংবাদিক রওশন হক বলেন, আমরা সাংবাদিক নিপীড়নের তীব্র নিন্দা জানাই। সাংবাদিকতা করতে গিয়ে একজন নারী হেনস্তার শিকার হবে, এ কথা আমেরিকায় বসে ভাবতেও পারা যায় না উল্লেখ করে তিনি রোজিনার বিরূদ্ধে সাজানো মামালা প্রত্যাহারের দাবী জানান।
সাংবাদিক মনিজা রহমান রহমান বলেন, রোজিনা আমাদের সহকর্মিই শুধু নয়, আজ সারা বাংলাদেশের সব সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম হয়ে উঠেছে। তাঁর উপর হামলা মানে বাংলাদেশের সাংবাদিকতার উপর হামলা এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বক্তারা বলেন, রোজিনা ইসলামকে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের চিহ্নিত লুটেরাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
লেখক সাংবাদিক এইচবি রিতা বলেন, দেশের বাইরে থাকলেও আমরা রোজিনার ঘটনা নিয়ে নীরব থাকতে পারি না। সারা বিশ্বে নিপীড়িত সাংবাদিকদের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে রোজিনা ইসলামের ঘটনা।
সিনেমা পরিচালক রওশন আরা নীপা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশে, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশের এমন ঘটনা ঘটবে তা চিন্তাই করা যায় না। তিনি অবিলম্বে রোজিনা ইসলামের মুক্তি দাবী করেছেন।
ডাইভার্সিটি প্লাজার সমাবেশে কিছুক্ষণ পরপর রোজিনা ইসলামে মুক্তির দাবীতে স্লোগান দেয়া হয়। অবিলম্বে মুক্তি দেয়া না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে লেখক সাংবাদিক ও জনসমাজের প্রতিনিধিরা তাদের বক্তৃতায় উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ১৭ মে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা কর্মচারীদের দ্বারা হেনেস্তার শিকার হয়েছেন সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম। তাকে বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। এরপর রাতে তাকে শাহবাগ থানায় স্থানান্তর করে মামলা দেওয়া হয়। ১৮ মে তাকে আদালত কারাগারে প্রেরণ করে। এ ছাড়া তাঁকে কারাবিধি অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়ারও আদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৫ জুলাই দিন ঠিক করেছেন আদালত। ছবিঃ এম বি তুষার।
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030