সাংবাদিক শাহীন রেজা নূর চলে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং আগামী প্রজন্ম – যুক্তরাষ্ট্রে শোক সভায় বক্তারা
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক: নির্ভীক দেশপ্রেমিক সাংবাদিক শাহীন রেজা নূর চলে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং আগামী প্রজন্ম। মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবী সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনের সন্তান, প্রজন্ম ৭১ এর সাবেক সভাপতি, অসাধারণ প্রতিভাবান সাংবাদিক শাহিন রেজা নূর-এর মৃত্যুতে শোক সভায় একথা বলেন বক্তারা।
গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি জুম কনফারেন্সে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদ এবং একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের আয়োজনে শোক সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরুন নবী ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের সভাপতি, সাংবাদিক শাহীন রেজা নূরের ছোট ভাই ফাহিম রেজা নূর। সভায় সংযুক্ত হয়েছিলেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল ডা. সাদিয়া ফয়জুন্নেসা, কানাডার টরেন্টোতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল নাইম উদ্দীন আহমেদ, শাহীন রেজা নূরের বড় ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা শামীম রেজা নূর, ছোট ভাই সেলিম রেজা নূর ও তৌহিদ রেজা নূর সহ আরও অনেকে।
সভাপতির বক্তব্যে ড. নুরুন নবী বলেন, বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে জাগ্রত করতে শাহীন রেজা নূরের অবদান অপরিসীম। তিনি তার কথার মাধ্যমে, তার লেখনীর মাধ্যমে স্বাধীনতা বিরোধীদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দেশের প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আলোকিত করার চেষ্টা করে গেছেন মৃত্যুর আগে পর্যন্ত। তার অসাধারণ স্মৃতিশক্তি এবং দেশ প্রেম আমাকে অভিভূত করেছে।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল ডা. সাদিয়া ফয়জুন্নেসা বলেন, সাংবাদিক শাহীন রেজা নুর অকালেই চলে গেলেন, যদি আর কিছুদিনও তিনি আমাদের মাঝে থাকতেন তাহলে দেখে যেতে পারতেন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। একাত্তরের ঘাতকদের বিরুদ্ধে আমি তার যে দৃপ্ত পদক্ষেপ দেখেছি, সেই পদক্ষেপকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। উনি প্রজন্ম’৭১ এর সভাপতি থাকাকালীন পোস্টারে ছাপিয়েছিলেন “তোমাদের যা বলার ছিল, বলছে কি তা বাংলাদেশ? যা স্বাধীনতার স্বপক্ষের সকলের বুকে ছুরির মত বিদ্ধ হয়েছিল, সবাইকে আবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিল। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত শাহীন রেজা নূরের প্রত্যয় ছিল বাংলাদেশ যেন ধর্মান্ধ, সাম্প্রদায়িক বা রাজাকারদের দেশে পরিণত না হয়।
কানাডার টরেন্টোতে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল নাইম উদ্দীন আহমেদ বলেন, শাহীন রেজা নূর আমাদের মাঝে আর নেই, কিন্তু আমরা যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমর্থন করি, আমরা যদি দেশকে বঙ্গবন্ধুকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়াটা সমর্থন করি, তাহলেই শাহীন রেজা নূরের আত্মার প্রতি যথাযত শ্রদ্ধা জানানো হবে।
শোক সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক শাহীন রেজা নূরের বড় ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা শামীম রেজা নূর, ছোট ভাই ফাহিম রেজা নূর, সেলিম রেজা নূর ও তৌহিদ রেজা নূর। তারা বলেন, আমাদের ভাই শাহীন রেজা নূর স্বেচ্ছায় আমাদের বাবা শহীদ সিরাজুদ্দীন হোসেনের সাংবাদিকতার পথ বেঁচে নিয়েছিলেন দেশের মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগ্রত করার জন্য এবং তার মেধা, তার স্পৃহা এবং তার সুপরিকল্পনায় আমাদের পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছিলেন। কিন্তু ১৯৭১ সালে জীবন আমাদেরকে যেভাবে প্রতারিত করেছিল, আজ স্বাধীনতার ৫০ বছরের দ্বারপ্রান্তে এসে জীবন আমাদেরকে আবার প্রতারিত করল। শাহীন ভাই চলে যাওয়াতে আমাদের পরিবারের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা কখনোই পূরণ হবার নয়। আমরা তার আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং সাথে সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে পরিবারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি শাহীন ভাইকে দেশে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য।
শোক সভায় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন অস্ট্রেলীয়া থেকে কামরুল হাসান, কানাডা থেকে আওয়ামী লীগ নেতা শাহিদ রহমান ও তাজুল মোহাম্মদ, যুক্তরাষ্ট্রের নিউঅরলিন্স থেকে ডঃ মুস্তাফা সরোয়ার, বোস্টন থেকে ডঃ বামন দাস বসু, জর্জিয়া থেকে সাংবাদিক রুমি কবির, ফ্লোরিডা থেকে সাংবাদিক শামীম আল আমিন, নিউইয়র্ক থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা খান মিরাজ, বীর মুক্তিযোদ্ধা শরিফ, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রাফায়েত চৌধুরী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তাহমিনা শহীদ, কলামিস্ট কামাল হোসেন মিঠু, আলমগীর ভুঁইয়া প্রমুখ। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক শীতাংশু গুহ, মাহবুবুর রহমান ভুঁইয়া ও অধ্যক্ষ শাহদাত হোসেন। শোক সভাটি পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক স্বীকৃতি বড়ুয়া।
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030