Wednesday, 22 July 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030 বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি Dr. Titumir calls for UN-led debt relief mechanism to safeguard investment in children and women Commerce Minister meets ECOSOC President and Vice-President to advance Bangladesh’s smooth LDC graduation
সব ক্যাটাগরি

সাভারে ভবনধস : মৃতের সংখ্যা ৭০০ ছাড়িয়েছে

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 121 বার

প্রকাশিত: May 8, 2013 | 10:03 AM

আনোয়ার হোসেন ও অরূপ রায় : সাভারে রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ৭০০ ছাড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে গতকাল মঙ্গলবার রাত সোয়া ১০টা পর্যন্ত ৭১৯টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন নয়জন। সব মিলিয়ে ভবনধসে নিহতের সংখ্যা ঠেকেছে ৭২৮ জনে।
গত সোমবার রাত নয়টা থেকে গতকাল রাত সোয়া ১০টা পর্যন্ত ৫১টি লাশ উদ্ধার করা হয়। সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী দলের তালিকা অনুযায়ী, গতকাল সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া ৩৩টি লাশের বেশির ভাগই নারীর। তবে মুখমণ্ডল দেখে চেনার উপায় নেই। পাঁচটি লাশ এত বিকৃত হয়ে গেছে যে এগুলো নারী না পুরুষের তা শনাক্ত করা যায়নি।
উদ্ধারকর্মীরা জানান, এখনো ধ্বংসস্তূপে লাশ দেখা যাচ্ছে। টান দিলেই বেরিয়ে আসছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজে গতকালও সাভারের অধরচন্দ্র উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ভিড় করেন কয়েক শ স্বজন। গতকাল উদ্ধার হওয়া কয়েকটি লাশের সঙ্গে মুঠোফোন ও পরিচয়পত্র পাওয়া যায়। মুঠোফোন ও পরিচয়পত্র অনুযায়ী এসব লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শনাক্ত না হওয়া লাশগুলো মর্গে পাঠানো হবে বলে জানান অধরচন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়ে স্থাপিত ঢাকা জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মকর্তারা।
নিয়ন্ত্রণকক্ষের হিসাব অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত ৫৭৪টি লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হস্তান্তরের অপেক্ষায় অধরচন্দ্র উচ্চবিদ্যালয় মাঠ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে ৯০টি লাশ। আর সোমবার পর্যন্ত অজ্ঞাতনামা ৬৪টি লাশ জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
দুটি সিঁড়ির ধ্বংসস্তূপ সরানো হয়েছে: ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। রানা প্লাজার পেছনের দিকে পূর্ব-উত্তর ও পূর্ব-দক্ষিণ কোনার দুটি সিঁড়ির ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ গতকাল শেষ হয়েছে। তিন দিন ধরে এগুলো সরানো হয়।
উদ্ধারকর্মীরা জানান, এই দুই স্থান থেকে ১৭৫টির মতো লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ভবনটির পেছনের অংশে এখন প্রায় চারটি ছাদ একটির সঙ্গে অন্যটি মিশে আছে। বিকেলে সেগুলো সরানোর কাজ চলে। হাইড্রোলিক হ্যামার দিয়ে এই ছাদগুলোর স্ল্যাব ও বড় বিমগুলো কেটে বুলডোজার দিয়ে স্ল্যাবের অংশ টেনে নামানো হয়। উদ্ধারকর্মীরা জানান, বিমের আড়ালেও কিছু কিছু লাশ পাওয়া যাচ্ছে। এগুলো এমনভাবে চাপা খেয়েছে যে তা মানুষের বলে বুঝতে কষ্ট হয়। গতকাল রাত সোয়া ১০টার দিকে উদ্ধারকর্মীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া দুটি মাথা, দুটি পা ও একটি হাত উদ্ধার করেন।
গত ২৮ এপ্রিল রাতে ভারী যন্ত্র দিয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। এর পর থেকে গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত ৩১২টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
ভবনধসের পর দুই হাজার ৪৩৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
এক পরিবারের দুঃখ: ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের বাগুয়া গ্রামের আবুল কাশেমের চার মেয়ে রিজিয়া, জিয়াসমিন, শেফালী ও লিপি কাজ করতেন রানা প্লাজার চারতলার ফ্যান্টম গার্মেন্টসে। ভবনধসে চার বোনই আটকা পড়েন। ওই দিন বিকেল পাঁচটার দিকে শেফালীকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর শুরু হয় বাকি তিনজনকে জীবিত বা মৃত পেতে স্বজনদের অপেক্ষা। স্বজনেরা হাসপাতালসহ নানা স্থানে চষে বেড়ান। ভবনধসের চার দিন পর তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা জিয়াসমিনও জীবিত উদ্ধার হন। তাঁর পেটের বাচ্চা নষ্ট হয়নি।
গত রোববার সকালে উদ্ধার হয় লিপির লাশ। স্বজনেরা অধরচন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে গিয়ে পোশাক ও দেহের গঠন দেখে তাঁর লাশ শনাক্ত করেন। তবে জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণকক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সঙ্গে মুঠোফোন বা পরিচয়পত্র না থাকায় তাঁর লাশ হস্তান্তর না করে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠান। মর্গে গতকাল স্বজনেরা সেই পোশাক ও গঠন দেখে লিপিকে শনাক্ত করলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা লাশ হস্তান্তর করেন। পরিবারের অপর সদস্য রিজিয়া এখনো নিখোঁজ। রিজিয়ার স্বামী মো. রতন মিয়া বলেন, ‘২৪ এপ্রিল থেকে ঘুম, খাওয়া-নাওয়া কিছুই নাই। এখনো অপেক্ষা শেষ হয়নি। স্ত্রীর জন্য অপেক্ষা করছি।’প্রথম আলো

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV