স্টেট অব ইউনিয়নে আইনপ্রণেতাদের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা:দলমতের ঊধের্ব উঠে অর্থনীতি গতিশীল ও বিশ্ব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একসঙ্গে কাজ করুন

কংগ্রেসে বার্ষিক ভাষণ দিচ্ছেন ওবামা। এ সময় তার পেছনের সারিতে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও হাউস স্পিকার বুহেনের এএফপি। ইউএসএনিউজ ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দলমতের ঊধের্ব উঠে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।তিনি অর্থনীতি বেগবান, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অবৈধ অভিবাসীদের বৈধকরণ এবং বিশ্ব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তাদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উভয় কক্ষের যৌথ অধিবেশনে ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান। খবর এএফপি, বিবিসি, এনা ও এপি অনলাইনের।জ্বালানিনির্ভরতা কমাতে সৌরশক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে ওবামা বলেন, বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবাহকে বেগবান করতে হবে। তিনি বলেন, রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের সহযোগিতায় সীমান্ত সুরক্ষা, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং লাখ লাখ কঠোর পরিশ্রমী অবৈধ অভিবাসী সমস্যার সমাধান করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি অনেক কঠিন এবং অল্প সময়ে তা সমাধান সম্ভব নয় বলে বিশ্বাস করি।ওবামা বলেন, মেধাবীদের বহিষ্কার না করে তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। কেননা দায়িত্বশীল-উদ্যোমীরা গবেষকদের সহায়তা করতে পারে। এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে জাতিকে।ওবামা বলেন, সামনে যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে তা দলীয় রাজনীতি থেকে অনেক বড়। তিনি বলেন, এখন আমাদের কাজ হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পকারখানা গড়ে তোলা। তিনি আরও বলেন, গত দুই বছরে ভয়াবহ মন্দায় ক্ষত-বিক্ষত হয়েছি আমরা। এখন মার্কেট ঘুরে দাঁড়িয়েছে। করপোরেশনগুলো লাভের মুখ দেখছে।ওবামা বলেন, চীন ও ভারত নতুন পৃথিবীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। তাদের গণিত ও বিজ্ঞানের প্রতি ঝোঁক বেশি। তারা বিনিয়োগ করছে গবেষণা ও প্রযুক্তিতে। চীন বিশ্বের বৃহত্তম প্রাইভেট সৌর গবেষণাগারের গৌরব অর্জন করেছে।শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বেশি বিনিয়োগের গুরুত্ব আরোপ করে ওবামা বলেন, এর বিকল্প নেই। নতুন বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এ খাতে বিনিয়োগ অপরিহার্য। না হলে আমরা পিছিয়ে পড়ব। আমরা বায়োমেডিকেল, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষ করে ক্লিন এনার্জি খাতে বেশি বিনিয়োগ করব।ওবামা বলেন, আমরা সবাই লক্ষ্য করেছি কি-না জানি না, প্রতি বছর তেল কোম্পানিগুলো বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার নিয়ে যাছে। এ তেল ব্যবহারে যেমন অর্থনীতিতে চাপ পড়ছে, তেমনি পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। তাই ক্লিন এনার্জি ব্যবহার করতে হবে। রক্ষা করতে হবে পরিবেশ। তিনি বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করেন। ২০১৫ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রে কমপক্ষে ১০ লাখ বৈদ্যুতিক গাড়ি নামানোর কথা বলেন তিনি। আর শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে সূর্যকে বেছে নিতে বলেন। তিনি বলেন, এতে আমাদের গাছপালা রক্ষা পাবে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। বাড়বে নিরাপত্তা।মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, মার্কিনিদের ট্রেন ব্যবহারে অভ্যস্ত করতে এবং ৯৮ শতাংশ মার্কিনির জন্য দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার ব্যাপক বিনিয়োগ করবে। এ ভাষণে ওবামা পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে তেমন কথা বলেননি। তবে ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও আফগানিস্তান থেকেও প্রত্যাহারের পরিকল্পনার কথা বলেন। তিনি সন্ত্রাস দমনে তার শক্ত অবস্থানের কথা জানান।৬১ মিনিট ওবামা বক্তব্য রাখেন। সিনেটর-কংগ্রেসম্যানরা এক সারিতে বসে তার বক্তব্য শোনেন এবং করতালি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান। ওবামা সেখানে বেশিরভাগ আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে করমর্দন ও কোলাকুলি করেন। তখন দলীয় পার্থক্য দেখা যায়নি। বক্তব্যের শুরুতে ওবামা ১১২তম কংগ্রেসে নবাগতদের অভিবাদন জানান। অ্যারিজোনার টুসনে দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত কংগ্রেসেওম্যান গ্যাবি গিফোর্ডসকে তিনি পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন।
সর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030
- বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর
- ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি