হাসিনা ও খালেদা আমার মুরব্বি, সাক্ষাৎকারে বৃটেনের হাউজ অব কমন্সের সদস্য, বাংলাদেশী বংশোদভূত রুশনারা আলী

মিজানুর রহমান: ‘পার্টি পলিটিক্স নয়, বৃটেনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে আরও ঘনিষ্ঠ করার মিশন নিয়ে এসেছি। দেশের রাজনীতির দুই ‘আইকন’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া, দুই প্রধান দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তারা আমার মুরব্বি। রাজনীতিতে আমি নবাগত। তাদের কাছে আগেও গিয়েছি, এবারও যাবো। বাংলাদেশের মেয়ে হিসেবে দেশের মানুষকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি- সেই পরামর্শই নেবো’। একনাগাড়ে কথাগুলো বলেন বৃটেনের হাউজ অব কমন্সের সদস্য, বাংলাদেশী বংশোদভূত রুশনারা আলী। গতকাল বিকালে রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে ১১ তলার লবিতে বসে মানবজমিন-এর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে রুশনারা তার রাজনীতি, দেশের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক, বাংলাদেশকে নিয়ে তার স্বপ্ন- সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে অত্যন্ত খোলামেলা কথা বলেন। এক সপ্তাহের সফরে রোববার ঢাকায় এসেছেন তিনি। লেবার পার্টি থেকে নির্বাচিত রুশনারা বৃটেনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক ছায়ামন্ত্রী। কেবল সংসদীয় এলাকা কিংবা দেশেই নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর দিক ও বিভাগ নিয়ে বিশ্বব্যাপী জনমত গঠনে কাজ করছেন তিনি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে তার উজ্জ্বল উপস্থিতি ইতিমধ্যে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বৃটিশ দাতব্য সংস্থা অক্সফাম-এর আমন্ত্রণে ঢাকায় জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক একটি সেমিনারে যোগ দিতেই তার এবারের ঢাকা সফর। আজই সিরডাপ মিলনায়তনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। ‘এক্সপেক্টেশন্স ফ্রম ডারবান: ইউকে অ্যান্ড বাংলাদেশ পার্সপেক্টিভ’- শিরোনামে আয়োজিত সেমিনারের অভিজ্ঞতা নিয়ে আগামী ২৮শে নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে অনুষ্ঠেয় জলবায়ু বিষয়ক জাতিসংঘ সম্মেলনে বাংলাদেশের অবস্থান গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরবেন রুশনারা। তিনি জানালেন, ওই সম্মেলনে প্রভাবশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেবেন আরেক বাংলাদেশী বংশোদভূত তরুণ রাজনীতিক কংগ্রেসম্যান হেনসেন হাশিম ক্লার্ক। সিলেটের বিশ্বনাথের ভুরকি গ্রামের কৃতী সন্তান রুশনারা বলেন, আমরা দু’জন মিলে বাংলাদেশের কথা বলবো। এদেশের প্রতিনিধিরা তো আছেনই। তারাও বাংলাদেশের অভাব-অভিযোগ তুলে ধরবেন। সবমিলে ডারবান সম্মেলনে বাংলাদেশ সোচ্চার হতে পারবে। বিকাল সাড়ে ৩টায় মানবজমিন-এর জন্য সময় নির্ধারিত ছিল তার সাক্ষাৎকারের। তার অবস্থানস্থলে যাওয়ার পর জানা গেল একের পর এক সাক্ষাৎকার তিনি দিচ্ছেন সকাল থেকে। দুপুরের খাবারের টেবিলেও এক প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে হয়েছে তার। হোটেলের লবিতে গিয়ে দেখা গেল আরও দু’জন সাংবাদিক অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে। তার ব্যক্তিগত সহকারী এলেক্স এসে জানালেন, অপেক্ষমাণ তিনজনকে একসঙ্গেই সাক্ষাৎকার দিতে চাইছেন রুশনারা। কারও যদি আপত্তি না থাকে। একই সঙ্গে সময়ও বেঁধে দিলেন। সাক্ষাৎকারের শুরুতেই রুশানারা জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কথা বলেন। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ইস্যুতে বাংলাদেশের জন্য বিশেষ কি করবেন? জবাবে তিনি বলেন, দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে চাই। বৃটেনের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে সিলেটের ভাষায় বলেন, ইলেকশনের আগেও আমি আইছি, দেশর মানুষর ক্যাম্পেইন আর সাপোর্টে আমি এমপি ওইছি (দেশের মানুষের প্রচারণা এবং সহযোগিতায় আমি এমপি হয়েছি)। রুশনারা বলেন, নির্বাচনের আগে-পরে আমি আমার গ্রামে গিয়েছি। মানুষের ভালবাসা দেখে সত্যিই আমি আনন্দিত। রুশানারা বলেন, আমি সুযোগ পেলেই দেশে আসবো, দেশের মানুষের জন্য কাজ করবো। দেশের বিদ্যমান রাজনীতি এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রত্যাশা সম্পর্কিত এক প্রশ্নে বলেন, আমি বাংলাদেশের একজন শুভাকাঙ্ক্ষী, বন্ধু। দেশকে সাহায্য করতে চাই, কিন্তু কোন বিশেষ রাজনৈতিক দল বা মতের সঙ্গে নয়। দুই প্রধান দলের দু’নেত্রীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব চমৎকার। অপর এক প্রশ্নে রুশানারা বলেন, তারা আমার মুরব্বি। আমি তাদেরকে কোন সুপারিশ বা পরামর্শ দিতে চাই না। আমি দেখা করবো- আমার কার্যক্রম নিয়ে বিশেষ করে বৃটেনের সঙ্গে এ দেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে তাদের পরামর্শ নেবো। বৃটেনের রাজনীতিতে তিনি কতদূর যেতে চান- এমন প্রশ্নে রুশানারা হেসে ওঠেন। বলেন, আমার এলাকার (বৃটিশ, বাঙালি এবং অন্যরা) জনগণ যে দায়িত্ব দিয়েছে তা সঠিকভাবে পালন করতে চাই। ভবিষ্যৎ বৃটেনের প্রধানমন্ত্রীর তালিকায় তার নাম দিয়েছে বিশ্বের একটি প্রভাবশালী ম্যাগাজিন। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে রুশানারা হাস্যোজ্জ্বল চেহারা আরও প্রস্ফূটিত হয়ে ওঠে। খানিকটা নীরবতাও চলে আসে। কয়েক সেকেন্ড পর আত্মবিশ্বাসী ওই রাজনীতিক বলেন, জানি না, এটা তাদের অনুমান। আমরা যারা বৃটেনের রাজনীতিতে তরুণ, ৪০-এর নিচে যাদের বয়স, তাদের নিয়ে ম্যাগাজিনটি ভবিষ্যদ্বাণী করেছে। এটা তাদের মূল্যায়ন, আমার না। রুশনারা আলী যুক্তরাজ্যের বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো সংসদীয় এলাকা থেকে হাউজ অব কমন্সের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ২০১০ সালের মে মাসে। পরাজিত করেন প্রভাবশালী রাজনীতিক রেসপেক্ট পার্টির জর্জ গ্যালওয়েকে। ২০১০ সালের অক্টোবরে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক ছায়া মন্ত্রী মনোনীত হন। এরপর থেকে তিনি এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন দেশ নিয়ে কাজ করছেন। বৃটেনে প্রথম বাঙালি এমপি রুশনারা তার বেড়ে ওঠা সম্পর্কে বলেন, ইস্ট এন্ড এলাকার বাংলাদেশীদের কাহিনীর মতোই আমার কাহিনী। টাওয়ার হ্যামলেটস-এ আমি বড় হয়েছি, ৭ বছর বয়সে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর। নিজের অর্জন সম্পর্কে বলেন, মুলবেরি স্কুল ও টাওয়ার হেমলেটস কলেজের শিক্ষক ও তরুণ কর্মীদের অর্জনই আমার সব অর্জন। তারা যে বিশ্বাস আমার মধ্যে সঞ্চারিত করেছেন সেটাই আমাকে সুযোগ করে দিয়েছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়ার- পার্লামেন্ট, ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চ, বৃটেনের হোম অফিস, ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিসে কাজ করার। এখন আমি এমপি, একই সঙ্গে বেথনাল গ্রিন ইয়ং ফাউন্ডেশনের সহযোগী পরিচালক। আমি জানি কি করে পরিবর্তন ঘটাতে হয়- এ ব্যাপারে আমার তৃণমূল পর্যায়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে। টাওয়ার হেমলেটস সামার ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠায় আমি সহায়তা করেছি। এতে হাজার হাজার তরুণ-যুবক উপকৃত হয়েছে। যুব অপরাধ হ্রাস পেয়েছে। আমি ল্যাঙ্গুয়েজ লাইনের উন্নয়নে সহযোগিতা করেছি। ফলে জরুরি অবস্থায় যাদের ভাষাগত অসুবিধা রয়েছে তারা এ টেলিফোন ভাষান্তর সার্ভিসের সহায়তা পাচ্ছেন।মানবজমিন
- ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা
- চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections
- Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity