Thursday, 23 July 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’ ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030 বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি Dr. Titumir calls for UN-led debt relief mechanism to safeguard investment in children and women Commerce Minister meets ECOSOC President and Vice-President to advance Bangladesh’s smooth LDC graduation
সব ক্যাটাগরি

হুমায়ূন আহমেদের চিত্রকর্ম নিয়ে শাওনের মামলা প্রসঙ্গে বিশ্বজিত সাহা

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 9 বার

প্রকাশিত: July 1, 2021 | 7:07 PM

নিউইয়র্ক: হুমায়ূন আহমেদের কোন চিত্রকর্মের প্রদর্শনী বা তাঁর কোন চিত্রকর্ম চুরি হওয়ার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। হুমায়ূন আহমেদের ২৪টি চিত্রকর্মের মধ্যে ২০টি  তাঁর মায়ের কাছে হস্তান্তর করেছি ২০১৩ সালে। ১টি ছবি মেলার স্থান থেকে হারিয়ে যায়। যা জ্যামাইকার পুলিশ প্রিসিংকট জিডি করে, তাও হুমায়ূন আহেমদ এর মায়ের কাছে হস্তান্তর করি। এছাড়া ১টি চিত্রকর্ম হুমায়ূন আহমেদ জাতিসংঘে নিযুক্ত তৎকালীন স্থায়ী প্রতিনিধি বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেনকে উপহার দেন। আরেকটি বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনকে উপহার দেয়া হয়। ২৪ নং ছবিটি উপহার দেন হুমায়ূন আহমেদ নিউইয়র্কে নিযুক্ত তৎকালীন বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সাব্বির আহমেদকে। হুমায়ূন আহমেদের আঁকা সকল ছবি ও প্রাসঙ্গিক তথ্য-উপাত্ত বাংলাপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত হুমায়ূন আহমেদের শেষদিনগুলি গ্রন্থে লিপিবদ্ধ রয়েছে। হুমায়ূন আহমেদের মায়ের কাছে চিত্রকর্মগুলো হস্তান্তরের ৮ বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। এতদিন পর আবেগঘন বক্তব্য দিয়ে মামলা দায়ের করে শাওন হুমায়ূন আহমেদের সম্মান বা মর্যাদা কিভাবে বৃদ্ধি করলেন এ প্রশ্ন যাঁদের মনে উদয় হবে এর উত্তরও নিশ্চয় তাঁরাই খুঁজে নেবেন।  

হুমায়ূন আহমেদের আাঁকা ছবি আত্মসাতের অভিযোগে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী শাওন মামলা করায় আমি অবাক হইনি। অবাক হইনি মামলার নথিপত্রে তাঁর মিথ্যাচার দেখেও। শাওন অভিযোগ করেছেন, ‌‌২০১২ সালে চিকিৎসার জন্য নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় থাকাকালে অবসরে হুমায়ূন আহমেদ বেশ কিছু ছবি আঁকেন। সে সময়েই নাকি তাঁর সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠতা হয়। হুমায়ূন আহমেদ যেদিন বেলভিউ হাসপাতালে মৃতুবরণ করেন সেদিন সকালে ভয়েস আমেরিকাকে দেয়া সাক্ষাৎকারেও মিথ্যা বলেছিলেন শাওন। তিনি বলেছিলেন, হুমায়ূন আহমেদ সুস্থ হয়ে উঠছেন, তাঁকে বাসায় নিয়ে আসা হবে। সাক্ষাৎকারে তাঁর এই কথা বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নন্দিত লেখক হুমায়ূন আহমেদের অকাল প্রয়াণ ঘটে।

হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে কখন থেকে আমার পরিচয় তা শাওনের জানার কথা নয়। ১৯৯৪ সাল থেকে যতবার হুমায়ূন আহমেদ নিউইয়র্কে এসেছেন, প্রধানত আমার সাংগঠনিকতায় মুক্তধারা নিউইয়র্ক ও  নিউইয়র্ক বাংলা বইমেলাকে ঘিরেই ছিল তাঁর সকল আনন্দ-উদ্‌যাপন। শাওনের সঙ্গে হুমায়ূন আহমেদের পরিচয়েরও অনেক আগের ঘটনা সেটা। ১৯৮৫ সালে আমি যখন মোস্তফা জব্বার সম্পাদিত সাপ্তাহিক আননন্দপত্রে কাজ করি, তখন থেকেই হুমায়ূন আহমেদের সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠে।  এ কথাও শাওনের জানা যে, চিকিৎসা নিতে নিউইয়র্কে এসে হুমায়ূন আহমেদ আমারই তত্ত্বাবধানে ছিলেন। বেঁচে থাকা অবস্থায় স্বজ্ঞানে তিনি হাসপাতালসহ সর্বত্র আমার ঠিকানাই ব্যবহার করেছেন। এমনকি তাঁর মৃতুর আগে ও পরে বেলভিউ হাসপাতাল থেকে যে বিল এসেছিল তার অর্থ আমিই হুমায়ূন আহমেদের ডেথ সাটিফিকেটসহ জমা দিয়ে মওকুফ করার ব্যবস্থা করেছি। এসব কথা জানা থাকা সত্ত্বেও প্রসঙ্গটি এড়িয়ে গেছেন শাওন!

হুমায়ূন আহমেদের আঁকা ছবিগুলো আত্মাসাৎ করার যে লক্ষ্য তাঁর ছিল তা আমি হতে দিইনি বলেই তাঁর যত উষ্মা। হুমায়ূন আহমেদের মা আয়শা ফয়েজ জীবিত থাকাকালে মুহম্মদ জাফর ইকবাল সহ তাঁর অন্যান্য পুত্র-কন্যাদের উপস্থিতিতে হুমায়ূন আহমেদের মা আয়েশা ফয়েজের মিরপুরের পল্লবীর বাসায়  গিয়ে ১টি ছাড়া হমায়ূনের আঁকা অন্য সবগুলো ‍চিত্রকর্ম তাঁর কাছে হস্তান্তর করি। আমার এই পদক্ষেপের কারণে শাওন হমায়ূন আহমেদের আাঁকা ছবিগুলো গ্রাস করতে পারেননি, সেটাই আমার অপরাধ। আমার লেখা হমুায়ূন ‌আহমেদের শেষ দিনগুলো’ প্রকাশিত হওয়ায় নিউইয়র্কের বেলিভউ হাসপাতালে হুমায়ূন আহমেদের চিকিৎসায় যে কোনো অর্থব্যয় হয়নি সে খবর জানাজানি হয়ে যাওয়ায় মানুষের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করতে শাওনের অসুবিধা হয়ে পড়ে। আমার লেখা বইটির প্রকাশনা রুদ্ধ করতে সেই ক্ষোভেই মরিয়া হয়ে শাওন মামলা করেছিলেন। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, নিউইয়র্কের পত্র-পত্রিকায় শাওনের বিভিন্ন কেলেংকারীর খবর প্রকাশিত হতে শুরু করে। বাংলাদেশের কয়েকজন লেখক-বুদ্ধিজীবীকে দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের সম্মান ক্ষুণ্ণ না করার অজুহাত তুলে তিনি এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে একটি বিবৃতি দেয়ার ব্যবস্থা করেন। আরো মর্মান্তিক ঘটনা হচ্ছে, চেয়ার থেকে পড়ে হুমায়ূন আহমেদের সেলাই খুলে যাওয়ার ঘটনা জানতে পেরে রুষ্ট হয়ে একজন হুমায়ূনপ্রেমী চট্টগ্রাম থেকে মামলা করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। অনেক অনুরোধ-উপরোধ করে তাঁকেও বিরত রাখা হয় হুমায়ূন আহমেদের সম্মান ক্ষুণ্ণ হবে এ অজুহাত তুলে। আমি পরিস্কার ভাবে বলতে চাই, শাওনের হাতে না দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের চিত্র প্রদর্শনীর সকল ছবি হুমায়ূনের পরিবারের সকলের অভিভাবক হিসেবে তাঁর মায়ের কাছে আমি নিজ হাতে হস্তান্তর করে এসেছি। যেহেতু হুমায়ূন আহমেদ এর দুই সংসারে সন্তানেরা রয়েছেন তাই আমার বিবেচনায় কোন এক পক্ষের কাছে না দিয়ে তাঁর মায়ের কাছে চিত্রকর্মগুলো দেয়া শ্রেয় মনে হয়েছে।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV