হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর আগের ঘটনা নিয়ে ‘হুমায়ূন আহমেদের শেষ দিনগুলো’ প্রকাশ করায় আদালতের নোটিস
গত ২২ মে কুরিয়ার সার্ভিসের এবং ২৫ মে ই-মেইলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নোটিসটি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ এন্ড এসোসিয়েটস এর ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান।
লিগ্যাল নোটিসে বলা হয়, ‘বইটির ৭১ ও ৮৮ নাম্বার পৃষ্ঠাসহ বিভিন্ন জায়গায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১২ সালের ১২ জুন অপারেশনের পর প্লাস্টিকের চেয়ার থেকে পড়ে যান হুমায়ূন আহমেদ। এরপর তার শীরের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত হয়। এ ঘটনার পর তাকে যখন হাসপাতালে নেয়া হয়, তখন চিকিত্সকের কাছে এ পড়ে যাওয়ার কথা গোপন করা হয়েছে। তার অবস্থা দিন দিন খারাপ হওয়ার এক পর্যাায়ে ২১ জুন তিনি আর কথা বলতে পারেননি।’ ‘বইয়ে লেখা ওই বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণের জন্য হুমায়ূন আহমেদের প্লাস্টিকের চেয়ারে বসা একটি ছবি ছাপানো হয়েছে।’
নোটিসে বলা হয়, ‘বইয়ে প্রকাশিত এ বক্তব্য আদৌও সত্য নয়। এটা লেখার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে হুমায়ূন আহমেদের প্রতি শাওনের দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। শাওনকে হেয় করার জন্য এ ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে। ২১ জুন হুমায়ূন আহমেদ কথা বলতে পারেননি অভিযোগ সত্য নয়। ২১ জুনের পর জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড.আব্দুল মোমেন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মঞ্জুরুল ইসলাম হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে কথা বলেছেন।’
‘এছাড়া হুমায়ূন আহমেদ চেয়ার থেকে পড়ে যাননি। প্লাস্টিকের চেয়ারে বসা ছবিটি ২০০৮ সালে ঢাকার ক্যান্টনমেন্টের মাটিকাটা এলাকায় স্যুটিংয়ের (জোত্স্না ও জননীর গল্প নাটকের স্যুটিং) সময়ে চেয়ারে বসে থাকার ছবি।’
নোটিসে আরো বলা হয়, ‘বইয়ে বলা হয়েছে-গত বছরের ২১ জুন সকাল ৯টা ১২ মিনিটে জ্যামাইকার একটি হাসপাতালের (মেমোরিয়াল স্লোন-ক্যাটারিং ক্যান্সার সেন্টার-) হুমায়ূন আহমেদকে ভর্তি করা হয় । সেখানে বিকেল ৫টা ২৩ মিনিট পর্যন্ত সময়ে হুমায়ূন আহমেদকে তিনবার চেকআপ করানো হয়েছে। কিন্তু সার্বক্ষণিকভাবে শাওন হুমায়ূন আহমেদের পাশে ছিলেন না। শাওনকে বার বার ফোন করে করে আনা হয়েছে। বইয়ে প্রকাশিত এ বক্তব্যও সঠিক নয়। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে শাওন হুমায়ূন আহমেদের পাশে ছিলেন।’ নোটিসে বলা হয়, ‘বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে-জ্যামাইকা হাসপাতালে ভর্তির পর হুমায়ূন আহমেদের পরিস্থিতর অবনিতর পর শাওনের ধারণা হয়, হুমায়ূন আহমেদ আর ভালো হবেন না। এ ধারণার পর হাসপাতালে জমা দেওয়া টাকা থেকে ২০ হাজার ৪’শ ৫২ দশমিক ৬৯ মার্কিন ডলার তুলে নেয় শাওন। এ অভিযোগও সত্য নয়। প্রকৃত সত্য হচ্ছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ টাকা ফেরত দিয়েছে। হাসপাতালে ভর্তির সময় এক লাখ ১৬ হাজার ৪’শ ১৫ মার্কিন ডলার জমা দেওয়া হয়েছিলো। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিল বাবদ ৯৫ হাজার ৯’শ ৬২ দশমিক ৩১ ডলার রেখে বাকী ২০ হাজার ৪’শ ৫২ দশমিক ৬৯ মার্কিন ডলার ফেরত দেয়। এ টাকা ফেরত দিয়েছে চলতি বছরের মার্চ-এপ্রিলের দিকে।’
নোটিসে আরো বলা হয়, ‘হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর ২০ জুলাই জ্যামাইকার মুসলিম সেন্টারে জানাযা হয়। এ বিষয়ে বইয়ে বলা হয়, ওখানে হুমায়ূন আহমেদের ভাই জাফর ইকবাল ও তার স্ত্রী (ইয়াসমিন হক) উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু জানাযায় শাওন ও তার মা তহুরা আলী উপস্থিত থাকলেও বইয়ে তাদের কথা বলা হয়নি। এর মাধ্যমে বইয়ে হুমায়ূন আহমেদের প্রতি শাওনের অবহেলার চিত্র ফুটিয়ে তোলার অপচেষ্টা করা হয়েছে।’
‘বইটির ৯৫ , ৯৬ ও ২৫২ নাম্বার পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে, হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পরে শাওন এবং মাজহারুল ইসলাম বিমানের প্রথম শ্রেনীর টিকেট ছাড়া দেশে আসবেনা। এ কারণে হুমায়ূন আহমদের মরদেহ বাংলাদেশে আনতে দেরী হয়েছে। বইয়ে লেখা এ তথ্যও সত্য নয়।’
‘বইয়ে আরো বলা হয়েছে, হুমায়ূন আহমেদ যখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তখন শাওন রাতে তার পাশে থাকতো না। এ অভিযোগও সত্য নয়। বাস্তবতা হচ্ছে-যখন হুমায়ূন আহমেদ নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ছিলেন, তখন তার কাছে যেতে হলে র্মাকস পরে যেতে হতো। এ পরিস্থিতিতে তার দুটি সন্তানকে কাছে নিয়ে থাকার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করেছিলেন। এ কারণে কিছু সময়ের জন্য হুমায়ূন আহমেদের কাছে থাকতে পারেননি শাওন।’
‘বইয়ের ২৬০ নাম্বার পৃষ্ঠায় বলা হয়, প্রথম অপারেশনের পরে হুমায়ূন আহমেদকে পানীয় ও ভারী খাবার খেতে দেওয়া হতো বলে যে কথা উল্লেখ করা হয়েছে তাও ভিত্তীহীন।’ আমেরিকার জ্যাকসন হাইটসের মুক্তধারার সত্ত্বাধিকারী বিশ্বজিত সাহা এবং ঢাকার বাংলা প্রকাশের সত্ত্বাধিকারী ইঞ্জিনিয়ার মো.মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে এই লিগ্যাল নোটিস দেয়া হয়েছে।ইত্তেফাক
সর্বশেষ সংবাদ
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections
- Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান
- সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের