
হয়তো আজ ঘুম থেকে উঠতে একটু বাড়াবাড়ি রকমের দেরি হয়ে গেছে। এদিকে স্কুল, কলেজ কিংবা অফিসে যাওয়ার সময়ও প্রায় হয়ে এসেছে। এ অবস্থায় দ্রুততম সময়ে তৈরি হওয়ার দৌড়ে সবার আগে যেটি বাদ পড়ে সেটি হলো সকালের নাশতা। এ ছাড়া যারা মুটিয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাদেরও যত নিয়ন্ত্রণ যেন এই সকালের নাশতার ওপরই। এভাবে আমাদের অনেকের শরীর এই ‘নাশতাহীনতা’র সাথে দিব্যি মানিয়ে নিলেও এটা যে মানবশরীরের স্বাভাবিকতার জন্য কতটা হুমকিস্বরূপ তা আরও একবার মনে করিয়ে দিলেন হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথের একদল গবেষক। তাদের দাবি যারা দিনের পর দিন ধরে সকালের নাশতাকে ভুলে বসে আছেন তাদের জন্য হূদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নাশতা করা লোকেদের চাইতে ঢের বেশি। এ ছাড়া একই গবেষণায় ধূমপান, অসময়ে ব্যায়াম বা অতিরিক্ত ব্যায়ামের সাথে হূদরোগের সম্পর্কও খুঁজে দেখেছেন গবেষকরা। এ জন্য গেল ১৬ বছর ধরে প্রায় ২৭ হাজার লোকের কাছ থেকে এই নিয়ামকগুলোর ভিত্তিতে নানা ধরনের তথ্য সংগ্রহ করেন গবেষকরা। এ ছাড়া তাদের রোগের ইতিহাস ও জীবনাচরণও পর্যবেক্ষণ করা হয়। আর এইসব পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই গবেষকরা জানিয়েছেন যে, সকালে নাশতা না করা হলে শরীর খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিস হারায় এবং দিনের পর দিন নাশতা না করার কারণে মানুষের হূদরোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। এদিকে হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথের গবেষকদের এই দাবির কারণ ব্যাখ্যা করতে যেয়ে ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, যারা সকাল বেলা ভালোভাবে নাশতা করেন তারা সাধারণত দুপুরের খাবারের আগে হালকা নাশতা বা স্ন্যাকস্ খাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন না। ফলে তাদের রক্তে শর্করা বা চিনির মাত্রা তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং এ সংক্রান্ত বিপত্তি থেকেও শরীর সুরক্ষিত থাকে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অপর একদল গবেষক ১৬ বছর ধরে ৪৫ থেকে ৮২ বছর বয়সী ১৫শ’রও বেশি হূদরোগে আক্রান্ত ও স্থূলকায় ব্যক্তির ওপর জরিপ চালিয়ে দেখেছেন যে এদের মধ্যে যারা সকালে ঠিকমতো নাশতা খেয়ে দিনের কাজ শুরু করতেন না, তাদের হূদরোগে আক্রান্ত হওয়ার হার যারা ঠিকমতো নাশতা করে দিনের কাজ শুরু করতেন তাদের চেয়ে ২৭ ভাগ বেশি। যদিও এখানে হূদরোগে আক্রান্ত হবার অপর কিছু নিয়ামক যেমন ধূমপান বা ব্যায়ামের সময় ও পরিমাণের মতো বিষয়গুলোও সম্পৃক্ত ছিল।ইত্তেফাক