হোয়াইট হাউসে ব্রিফিংয়ে নিজেকে ‘জয়ী’ ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক : প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের বললেন, নির্বাচনে তিনিই ‘জয়ী’ হয়েছেন। জনগণ এই ফল বের করে আনবে। অবশ্য নিজের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির না করেই ট্রাম্প নিজের জয় দাবি করলেন। আবার তাঁর দাবি নিয়ে সাংবাদিকদেরও কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ দিলেন না।শুক্রবার হোয়াইট হাউসে ব্রিফিংয়ে মূলত ওষুধের দাম কমানোর বিষয়ে ট্রাম্পের ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ব্রিফিংয়ে তিনি সেই বিষয়টিকে ফোকাস না করে ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ের ভুয়া দাবি করে বসেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাটপ্রার্থী জো বাইডেনের কাছে বিপুল ব্যবধানে তাঁর পরাজয় হয়।
দ্য নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের খবরে বলা হয়, ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘নির্বাচনের আগে বড় বড় ওষুধ কোম্পানি আমার বিরুদ্ধে প্রচারণায় লাখ লাখ ডলার ব্যয় করেছে…যে নির্বাচনে আমি জয়ী হয়েছি। যাই হোক, আমরা সেটি খুঁজে বের করব। প্রায় ৭ কোটি ৪০ লাখ ভোট…।’
বাস্তবতা হচ্ছে, ইলেকটোরাল কলেজের হিসাবে বাইডেন ৩০৬–২৩২ ব্যবধানে ট্রাম্পের বিপক্ষে জয়ী হয়েছেন। ২০১৬ সালে জর্জিয়া, অ্যারিজোনা, মিশিগান ও উইসকনসিনসহ যেসব সুইং স্টেট বা দোদুল্যমান রাজ্যে তিনি জিতেছিলেন এবার সেগুলোতে হেরেছেন। ২০১৬ সালে যখন হিলারি ক্লিনটনের বিপক্ষে প্রায় একই ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন, তখন তিনি সেটিকে তাঁর ‘ভূমিধস বিজয়’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।
শুধু ইলেকটোরাল ভোট নয়, পপুলার ভোটেও বাইডেনের চেয়ে অনেক পিছিয়ে ট্রাম্প। বাইডেন তাঁর চেয়ে ৬০ লাখ বেশি পপুলার ভোট পেয়েছেন।
কিন্তু ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই অব্যাহতভাবে অভিযোগ করে যাচ্ছেন, ডাকযোগে আসা বিপুল বেআইনি ভোটই বাইডেনকে জয়ী করেছে।
ব্রিফিংয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিযোগের আঙুল তুলেন ওষুধ কোম্পানি ফাইজার ও মডার্নার দিকে। বলেছেন, তাদের কোভিড–১৯ ভ্যাকসিন ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় যে সফল হয়েছে, সেটি ইচ্ছা করেই তারা নির্বাচন পর্যন্ত গোপন করে রেখেছিল। তাদের কোভিড–১৯ ভ্যাকসিন ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় যে সফল হয়েছে, সেটি ইচ্ছা করেই তারা নির্বাচন পর্যন্ত গোপন করে রেখেছিল।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফাইজার ও মডার্নার দিকে অভিযোগ তুলে ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘তারা অপেক্ষা করেছে আর অপেক্ষা করেছে। কে জানে, নির্বাচনে এটির প্রভাব থাকতেও পারে। তবে এই দুর্নীতিগ্রস্ত খেলা আমাদের দমাতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকের জন্য সঠিক কাজটি আমরা করবই।’
৫০টি অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তাদের দ্ব্যর্থহীন বক্তব্যের কারণে ইতিমধ্যে ট্রাম্পের দাবি মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। সব রাজ্যের কর্মকর্তারা বলেই দিয়েছেন, ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে বড় ধরনের কোনো অনিয়ম বা ভোট জালিয়াতির ঘটনা ঘটেনি। এমন প্রমাণও তাঁরা পাননি।
এমনকি ট্রাম্প প্রশাসনের সাইবার নিরাপত্তা কর্মকর্তা ক্রিস্টোফার ক্রেবস নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই নির্বাচন সবচেয়ে নিরাপদ বলে প্রমাণিত হয়েছে।’ তাঁর এই বক্তব্যের জবাবে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন।
শুক্রবার মিশিগান অঙ্গরাজ্যের কয়েকজন আইনপ্রণেতার সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ব্রিফিংয়ে হাজির হন। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর খুব কমই জনসমক্ষে এসেছেন তিনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প মিশিগানের রিপাবলিকান আইন প্রণেতাদের শুক্রবার হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানান। তিনি আশা করছেন, তাদের বুঝিয়ে নিজের পক্ষে আনা গেলে তাঁর সমর্থিত ইলেকটোরাল কলেজকে নিয়োগ দিয়ে ওই রাজ্যে বাইডেনের জয় উল্টে দেওয়া যাবে।
ট্রাম্প তাঁর নির্বাচনী প্রচার শিবির দিয়ে মিশিগানে চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ। তারপরও তিনি কোনোভাবে মিশিগানের ভোটের ফল উল্টে দিতে সমর্থ হলেও হার এড়াতে পারবেন না। বিভিন্ন রাজ্যে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ট্রাম্প শিবিরের করা একের পর এক মামলা আদালত খারিজ হওয়া বা আদালত মামলা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোর পর তাদের লড়াই অনেকটা স্তিমিত হয়ে পড়েছে।
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় জল খাবার রেস্টুরেন্ট এর গ্র্যান্ড ওপেনিং
- New York Attorney General James Secures $375,000 from 1-800-Flowers for Deceiving Consumers About Automatic Subscription Renewals
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030