যুক্তরাষ্ট্র ও আমিরাতে কয়েক লাখ বাংলাদেশীর বৈধতা লাভের সুযোগ!

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে কয়েক লাখ বাংলাদেশীর বৈধতা লাভের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুনর্নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ওবামা ইমিগ্রেশন আইন সংশোধন করে সেখানে অবস্থানরত অবৈধ অভিবাসীদের সে দেশের নাগরিকত্ব দেয়ার ঘোষণা দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশীর উত্কণ্ঠার অবসান হয়েছে। ঘরে ঘরে বইছে আনন্দবন্যা। ডিপোর্ট হওয়ার ঝুঁকির মুখে থাকা বাংলাদেশীসহ এক কোটির বেশি অবৈধ অভিবাসী যে আশায় বুক বেঁধে ওবামার বিজয় কামনা করছিল এবং জয়ের পর বিজয় উল্লাসে মেতে উঠেছিল, তাদের স্বপ্ন সার্থক হতে চলেছে। এদিকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাত অবৈধ অভিবাসীদের জন্য দুই মাসের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে। আগামী ৪ ডিসেম্বর থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দুই মাসের এই সাধারণ ক্ষমার আওতায় বাংলাদেশীসহ অবৈধ অভিবাসীরা সেখানে কোনো দণ্ডভোগ ছাড়াই দেশ ত্যাগ অথবা জরিমানা দিয়ে ভিসা নবায়ন করতে পারবেন। আমিরাতে বাংলাদেশীদের ভিসা প্রদানে সাম্প্রতিক সময়ে যে কড়াকড়ি চলছিল এবং ধরপাকড় করা হচ্ছিল তার মধ্যে হাজার হাজার বাংলাদেশী চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছিল। বহুল কাঙ্ক্ষিত সাধারণ ক্ষমা ঘোষণায় অন্যান্য দেশের মতো অবৈধ বাংলাদেশীরা স্বস্তিতে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বৈধতার ঘোষণা : গত ১৪ নভেম্বর বুধবার হোয়াইট হাউজের ইস্ট রুমে নির্বাচনোত্তর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যদানকালে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা অবৈধ ইমিগ্রান্টদের বৈধতা দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে তার আন্তরিক আগ্রহের কথা জানিয়ে বলেছেন, আমার অভিষেকের পর কংগ্রেস ব্যাপকভিত্তিক ইমিগ্রেশন রিফর্ম বিল উত্থাপন করবে বলে আশা করছি এবং তা আইনে পরিণত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। ঐতিহাসিকভাবেই এটি দলীয় কোনো ইস্যু নয়। তিনি বিশেষ করে ড্রিম অ্যাক্ট পাস করে অনিবন্ধিত তরুণদের বৈধতা দেয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি গত জুন মাসে অবৈধভাবে বসবাসকারী তরুণদের বৈধতা প্রদানের ঘোষণার প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, যেসব তরুণকে এদেশে আনা হয়েছিল এবং এজন্য তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না, এখানে তারা স্কুলে গেছে, আমেরিকার পতাকার প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছে, যারা আমাদের সামরিক বাহিনীতে যেতে চায়, উচ্চশিক্ষা নিয়ে সমাজের জন্য অবদান রাখতে আগ্রহী, তাদেরকে ডিপোর্ট করার আশঙ্কার মধ্যে রাখা সঙ্গত নয়। আমরা তাদেরকে আমেরিকার নাগরিকত্ব অর্জনের সব ধরনের সুযোগ দেবো। জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে ওবামা বলেন, নির্বাচনে ল্যাটিনোদের ভোটদানের হার ছিল অত্যন্ত উত্সাহব্যঞ্জক। তারা এদেশে দ্রুত বর্ধিষ্ণু ইমিগ্রান্ট গ্রুপ। কিন্তু জনসংখ্যার তুলনায় তাদের মধ্যে ভোটারের সংখ্যা কম। এ অবস্থার পরিবর্তন শুরু হয়েছে। তাদের মধ্যে ক্ষমতায়ন ও নাগরিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আমেরিকার জন্য একটি ভালো দিক। সেজন্য আমি অত্যন্ত আশাবাদী যে, আমরা ইমিগ্রেশন রিফর্ম করতে সক্ষম হবো। নির্বাচনের আগেও আমি বলেছিলাম, ল্যাটিনো ভোট একটি ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে এবং রিপাবলিকানদের ওপর এর প্রতিফলন ঘটেছে ইমিগ্রেশন ইস্যুতে তাদের অবস্থানের কারণে। এটি একটি ইতিবাচক দিক। অতীতেও প্রেসিডেন্ট বুশ, জন ম্যাককেইন এবং অন্যরা কম্প্রিহেনসিভ ইমিগ্রেশন রিফর্মের পক্ষে ছিলেন। প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, এরই মধ্যে এ বিষয়ে কংগ্রেসম্যানদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। আমরা সবদিক খেয়াল রাখছি। আমি যখন কম্প্রিহেনসিভ ইমিগ্রেশন রিফর্মের কথা বলছি তখন তা পূর্ববর্তী রিফর্মগুলোর চেয়ে ব্যতিক্রমী কিছু বলছি না। আমাদের সীমান্ত সুরক্ষার চলমান প্রক্রিয়ার পদক্ষেপ হিসেবে আমরা এ সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছি। কারণ, যে কোনো মূল্যে আমাদের সীমান্তকে নিরাপদ করতে হবে। যেসব কোম্পানি উদ্দেশ্যমূলকভাবে অনিবন্ধিত লোকদের কাজে নিয়োগ করে তাদের কাছ থেকে ফায়দা আদায় করে, সেসব কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া নতুন ইমিগ্রেশন রিফর্মে অন্তর্ভুক্ত রাখা উচিত বলে মনে করি। তিনি আরও বলেন, যারা আমেরিকায় বাস করছে এবং যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের রেকর্ড নেই তাদের বৈধতা দেয়ার উপায় থাকা উচিত। তাদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ যে, তারা কর দেবে, তারা ইংরেজি শিখবে এবং কোনো আইন লঙ্ঘনের কারণে জরিমানা প্রদান করবে। কিন্তু এসবের মধ্য দিয়েই তারা এদেশে বৈধতার পথে এগিয়ে যাবে। আমরা তরুণদের বৈধতা দেয়ার জন্য ড্রিম অ্যাক্ট অনুমোদন করাও জরুরি বলে আমি মনে করি। ইমিগ্রেশনের সঙ্গে আরও কিছু বিষয় সংশ্লিষ্ট রয়েছে বলে উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, ব্যবসায়ীরা পর্যাপ্ত সংখ্যক অতি দক্ষ শ্রমিক পাওয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী এবং আমি বিশ্বাস করি ফিজিক্স বা কম্পিউটার সায়েন্সে পিএইডি ডিগ্রি অর্জনকারী কেউ যদি আমেরিকায় থাকতে চায়, এখানে ব্যবসা করতে চায়, তাহলে এদেশে তাদের বসবাস কঠিন করে তোলা আমাদের উচিত নয়। আমাদের উচিত তাদেরকে উত্সাহিত করা, যাতে তারা আমেরিকান সমাজে অবদান রাখতে পারে। কৃষিখাত নিয়ে আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে ভাবা প্রয়োজন, যাতে কৃষিখাত এমন জনশক্তি পায় যাতে আমাদের টেবিলে ঠিকভাবে খাবার পৌঁছে। অতএব, বিষয়টির সঙ্গে অনেক কিছুই জড়িত। ইমিগ্রেশন ইস্যুতে যে প্রক্রিয়াই গ্রহণ করা হোক না কেন আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা। আরব আমিরাত : এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের জন্য কর্তৃপক্ষ দুই মাসের সাধারণ ক্ষমা অনুমোদন করেছেন। আমিরাতের সিনিয়র এক কর্মকর্তা গত মঙ্গলবার জানিয়েছেন, এ সুযোগে অবৈধ অভিবাসীরা সেখানে কোনো দণ্ডভোগ ছাড়াই দেশ ত্যাগ অথবা জরিমানা দিয়ে ভিসা নবায়ন করতে পারবেন। বুধবার আমিরাতের গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের উদ্ধৃতি দিয়ে বাংলাদেশের অনলাইন সংবাদপত্র নিউজমিডিয়াবিডি.কমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আমিরাতের ন্যাচারালাইজেশন, রেসিডেন্সি অ্যান্ড পাসপোর্ট অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয়ের অ্যাসিসট্যান্ট আন্ডার সেক্রেটারি মেজর জেনারেল নাসের আওয়াদি আল মেনহালি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এখানে অবৈধভাবে অবস্থানকারীরা আগামী ৪ ডিসেম্বর থেকে ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রেসিডেন্সি বিভাগে গিয়ে জরিমানা দিয়ে কোনো শাস্তি ছাড়াই আউটপাস (দেশত্যাগের অনুমতি) সংগ্রহ করে দেশ ত্যাগ করতে পারবেন অথবা নির্ধারিত জরিমানা দিয়ে তাদের ভিসা নবায়ন করে নিতে পারবেন’। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ‘এপ্রিলে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত এ ক্ষমা প্রস্তাবটি যারা সেখানে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবস্থান করছেন তাদের জন্য প্রযোজ্য। অনুপ্রবেশকারীদের জন্য এ ক্ষমা প্রযোজ্য নয়। তাদেরকে অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করা হবে’। তিনি বিলম্ব না করে অবৈধ অভিবাসীদের তাদের ভিসা নবায়ন করিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কেননা, এ ক্ষমার সময়সীমা আর কোনোভাবেই বাড়ানো হবে না। মেনহালি বলেন, মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও যারা বসবাস করছেন তারা তাদের পাসপোর্ট ও বিমান টিকিট নিয়ে এলেই কোনো জরিমানা ছাড়াই আউটপাস পেয়ে যাবেন এবং দেশত্যাগ করতে পারবেন। রেসিডেন্সি বিভাগ যাদের পাসপোর্ট জব্দ করে রেখেছে তাদের পাসপোর্টও ফেরত দেয়া হবে। কিন্তু যারা তাদের ভিসা নিয়মিতকরণ করতে চাইবে তাদেরকে পুঞ্জিভূত জরিমানা দিতে হবে। ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু হবে। তিনি জানান, অবৈধভাবে অবস্থানের কারণে যাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদেরকেও দেশত্যাগের অনুমতি দেয়া হবে, যদি অন্য কোনো মামলায় তাদের আটক রাখার প্রয়োজন না হয়। আমিরাত চতুর্থবারের মতো এই ক্ষমা ঘোষণা করল। ২০০৭ সালে আমিরাতে এ ধরনের ক্ষমা ঘোষণা করায় তখন প্রায় ৩ লাখ ৪২ হাজার অবৈধ অভিবাসী এর সুযোগ নিয়েছিলেন। এ সময় ৯৫ হাজার অভিবাসী তাদের ভিসার মেয়াদ বৈধ করে নেয়।আমার দেশ
সর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কে আমেরিকান ট্রাভেল এজেন্ট এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান
- BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY”
- নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল
- নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল
- নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত








