বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নিউইয়র্ক স্টেট কমান্ড ইউএসএ’র উদ্যোগে বাংলাদেশের ৫৩তম বিজয় দিবস উদযাপন (ভিডিও সহ)
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, নিউইয়র্ক স্টেট কমান্ডের উদ্যোগে গত ১৬ ডিসেম্বর উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলাদেশের ৫৩তম মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জ্বীবিত হোক আগামী প্রজন্ম’ এ স্লোগানে নিউইয়র্কে ব্রঙ্কসের ইউনিয়ন পোর্টরোড ও গোল্ডেন প্যালেস পার্টি হলে এদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নানা আয়োজনে দিবসটি উদযাপন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ, প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা, স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা সহ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। খবর ইউএসএনিউজঅনলাইন’র।
এদিন দুপুরে ইউনিয়ন পোর্টরোড এলাকায় দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা লেখক-বিজ্ঞানী ড. নূরান নবী অন্যান্য অতিথি ও সংগঠনের কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে বেলুন ও শান্তির প্রতীক কবুতর উড়িয়ে আনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এসময় বীরমুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব:) মনজুর আহমেদ বীর প্রতীকসহ উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধা, লেখক, কমিউনিটি নের্তৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
পরে গোল্ডেন প্যালেস পার্টি হলে নিউইয়র্ক স্টেট কমান্ডের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী মো: আব্দুস ছালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কাজী রবি-উজ-জামান। অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আব্দুল মতিন, গীতা পাঠ করেন ঠাকুর রতন চক্রবর্তী। এরপর বাংলাদেশ ও আমেরিকার জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিজয় দিবস উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর আলম।
বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা লেখক-বিজ্ঞানী ড. নূরান নবী ও গেস্ট অব অনার সিনেটর নাথালিয়া ফার্নান্ডেজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব:) মনজুর আহমেদ বীর প্রতীক, ডা. মোহাম্মদ এনামুল হক, ডা. জিনাত নবী, সিটি কাউন্সিল মেম্বার এ্যামান্ডার প্রতিনিধি এ্যান্থনি রোজারিও, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট আব্দুর রহিম বাদশা, সিরাজ উদ্দিন সোহাগ, সালেহ আহমেদ সাল (পার্কচেস্টার রিয়েলিটি), রোকন হাকিম, হাসান আলী, সাইদুর রহমান লিংকন, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল খালেক (সারা হোম কেয়ার), নাসির উদ্দিন চিনু (সাবেক চেয়ারম্যান), মোস্তাক চৌধুরী (সাবেক চেয়ারম্যান), রেদওয়ানা রাজ্জাক সেতু (সারা হোম কেয়ার), মিয়া মোহাম্মদ দাউদ, আবুল খায়ের আকন্দ, বিজয় কৃষ্ন সাহা, আয়শা সিদ্দিকা প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম মুন্সি (সার্বিক তত্বাবধানে), বীর মুক্তিযোদ্ধা জিল্লুর রহমান (প্রধান সমন্বয়কারী), বীর মুক্তিযোদ্ধা বশির মুন্সী (আহ্বায়ক), বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহানগীর আলম (সদস্য সচিব), বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. এ নাসির কমান্ডর (অর্থ), বীর মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী (প্রচার)। স্বেচ্ছা সেবকের দায়িত্বে ছিলেন নুরুল ইসলাম মিলন, সেলিম রেজা, মাইজুর লস্কর জুয়েল, নূরুল আম্বিয়া, বদরুল হক, মকবুল মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কাজী রবিউজ্জামান, রজত ঘোষ বাপ্পী, এস এম মঈনুল, জিল্লুর রহমান প্রমুখ।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর মুজিবর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু কায়সার চিশতী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ, বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর তফাদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা আহমেদ ভুঁইয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর, বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুজ্জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ খলিলুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আব্দুল মতিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মনির হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মনসুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাছির উদ্দিন নাছিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু জাফর, তোফায়েল চৌধুরী, খবির উদ্দিন ভুঁইয়া, অধ্যাপক সানা উল্লাহ, লালদার হোসেন, বিলাল ইসলাম, শ্যামল কান্তি চন্দ, শামীম আহম্মেদ, জামাল উদ্দিন আহম্মেদ কাওছার (চেয়ারম্যান), গণেশ ভৌমিক, সমিত্রা সেন, কাজীরুল ইসলাম শিপন, ইকবাল আহম্মেদ, সুবেদার (অবঃ) সফিক উল্লাহ, কর্পোরাল (অবঃ ) আব্দুল মতিন, মঞ্জু চকদার, সুনিল চন্দ ভৌমিক, মোস্তাকুর রহমান লিটন, রেজাউল হক রুহেল, রাজ্জাক মোহাম্মদ, জামাল আহম্মেদ বক্স, মোহাম্মদ বাদল, শহিদুল ইসলাম, ভবেশ রয়, বিভূতি রায়, সুনিল অধিকারী, প্রদীপ কুমার বৈদ্য, শফিকুর রহমান, শহিদুল্লাহ চৌধুরী, আশিকুল হক, এসএম মিজানুর রহমান, শেখ আনসার আলী, ফেরদৌস হোসেন আইয়ুব, আব্দুল সত্তার, ইসলাম খন্দকার, মনোরঞ্জন পন্ডিত, ডা. মোক্তার আহম্মেদ, আজম খান, আশ্রফ আলী, আফজাল, আঃ হালিম, মেসবাহ, মীর উল্লা সুমন, মাকসুদা আহমেদ, মফিজ উদ্দিন মাছুম, সরাফ উদ্দিন পাটোয়ারী স্বপন, জাহানগীর হোসেন, শহিদুল হক, ভবেশ রায়, সুনিল ভৌমিক, আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, আব্দুল করিম মিয়া, হীরা লাল দাস, রন্জিত কান্ত রায়, সাইফুল ইসলাম, মোঃ তোজাম্মেল হক, নবী হোসেন প্রধান, আজিজুল হক, লুৎফুর রহমান, এমডি আকরাম হোসেন, মকবুল মিয়া, আশিষ কুমার বিশ্বাস প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধারা ছাড়াও নিউইয়র্কের নানা শ্রেণী পেশার বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি উপস্থিত ছিলেন।
৫৩তম বিজয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নিউইয়র্ক স্টেটের পক্ষ থেকে কবি আবু তাহের চৌধুরী (সম্পাদক) ও কবি সুধাংশু কুমার মন্ডল (উপ সম্পাদক) এর সম্পাদনায় ‘সূর্য্য উদয় ২০২৩’ নামে একটি স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়।
প্রধান অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নূরুন নবী অন্যান্য অতিথিদের সাথে নিয়ে বিপুল করতালীর মাধ্যমে স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন।
সাংস্কৃতিক পর্বে প্রবাসের জনপ্রিয় শল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করেন। শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন ন্যান্সী খান, আনোয়ার হোসেন, রাশেদ হিরা, এম.এ নাসির প্রমুখ। অসাধারণ নৃত্য পরিবেশন করে নতুন প্রজন্মের মায়া এঞ্জেলিকা। সাউন্ডে সহায়তা করেন সৈয়দ ফয়েজ। শিল্পীদের মনোজ্ঞ পরিবেশনা দর্শক-শ্রোতারা দারুণভাবে উপভোগ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নূরুন নবী মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি এবং স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তিনি মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহিদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের জন্য তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা মুক্তিযোদ্ধাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে অভিহিত করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছেন। এজন্য জাতি তাদের আজীবন কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার আহ্বান জানান।
সবশেষে নিউইয়র্ক স্টেট কমান্ডের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী মো: আব্দুস ছালাম সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। বিভিন্নভাবে সহযোগিতাকারীদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ ইনকের শরৎ উৎসব ও ফ্যামিলি নাইট
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে ‘কল সেন্টার’ চালু
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের নয়া কমিটির বর্ণাঢ্য অভিষেক এবং ১৩তম চার্টার বার্ষিকী উদযাপন
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About Student Loan Scams
- Justice, equality and human rights essential to building a lasting culture of peace: Irene Khan
- ন্যায়বিচার, সমতা ও মানবাধিকারই টেকসই শান্তির সংস্কৃতি গড়ার ভিত্তি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
- যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে চায় : স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সারাহ
- নিউইয়র্কে মুসলিম কমিউনিটি ও আহলে সুন্নাতুল জামাতের ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল