যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের ১৯টি দেশের অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড আবার যাচাই করবে
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের ১৯টি দেশের অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড আবার যাচাই করবে। যেসব দেশ নিয়ে উদ্বেগ আছে, সেসব দেশ থেকে আসা প্রতিটি বিদেশির গ্রিন কার্ড পূর্ণাঙ্গ ও কঠোরভাবে পুনঃপর্যালোচনা করবে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংস্থার প্রধান জোসেফ এডলো এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর বিবিসির।
তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে এ ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রাম্পের নির্দেশ, যেসব দেশ নিয়ে উদ্বেগ আছে, সেসব দেশ থেকে আসা প্রতিটি বিদেশির গ্রিন কার্ড পূর্ণাঙ্গ ও কঠোরভাবে পুনঃপর্যালোচনা করতে, বলেন এডলো।
বিবিসি’র পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিল কোন দেশগুলো তালিকায় রয়েছে, তখন সংস্থাটি হোয়াইট হাউসের জুন মাসের একটি ঘোষণার দিকে ইঙ্গিত করে, যেখানে ১৯ টি দেশের নাম ছিল।
গত ৪ জুনের সেই ঘোষণার শিরোনাম ছিল – রেসট্রিক্টিং দ্য এন্ট্রি অফ ফরেন ন্যাশনালস্ টু প্রটেক্ট দ্য ইউনাইটেড স্টেটস্ ফ্রম ফরেন টেররিস্টস্ অ্যান্ড আদার ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড পাবলিক সেফটি থ্রেটস্।
মানে, বিদেশি সন্ত্রাসী এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষার জন্য বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশে বিধিনিষেধ।
সেখানে ১২টি দেশের নাগরিকদের প্রবেশে ওপর বিধিনিষেধ পুরোপুরি আরোপের কথা বলা হয়েছিল। দেশগুলো হলো – আফগানিস্তান, বার্মা বা মিয়ানমার, শাড, রিপাবলিক অফ দ্য কঙ্গো, ইকোয়েটোরিয়াল গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান এবং ইয়েমেন।
আর সাতটি দেশের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়া হয়। সেগুলো হলো – বুরুন্ডি, কিউবা, লাওস, সিয়েরা লিওন, টোগো, তুর্কমেনিস্তান ও ভেনেজুয়েলা।
সর্বশেষ বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে এক আফগান নাগরিকের গুলিতে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্য গুরুতর আহত হওয়ার অভিযোগ ওঠার পর গ্রিন কার্ড পুনরায় যাচাই করার ঘোষণাটি আসে। গুলিবিদ্ধ দুই জনের মধ্যে একজন পরে মারা যান।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত রহমানুল্লাহ লাখানওয়াল ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন।
আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর আফগানদের জন্য বিশেষ অভিবাসন সুরক্ষা কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল। সেই কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে আসেন লাখানওয়াল।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই হামলা একটি বড় জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির ইঙ্গিত দেয়।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংস্থার প্রধান জোসেফ এডলোর পোস্টে গ্রিন কার্ডের ব্যাপক পর্যালোচনার কথা বলা হলেও হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়নি।
আমেরিকা এবং তার জনগণের সুরক্ষা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ, এবং পূর্ববর্তী প্রশাসনের বেপরোয়া পুনর্বাসন নীতির খেসারত আমেরিকান জনগণ দেবে না, বলেছেন এডলো।
গ্রিনকার্ডের এই পুনঃপর্যালোচনা কীভাবে হবে, সে বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য সেখানে দেওয়া হয়নি।
জুন মাসের ঘোষণার ব্যাপারে বিবিসিকে ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের পাশাপাশি ব্যবসা, ছাত্র ও পর্যটক ভিসায় এসে অতিরিক্ত সময় আমেরিকা অবস্থান করার মতো কারণেও কোনো কোনো দেশকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ওই ঘোষণায় আফগানিস্তানের ব্যাপারে বলা হয়েছে, স্পেশালি ডেজিগনেটেড গ্লোবাল টেররিস্ট গ্রুপ (বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী) তালেবান আফগানিস্তান নিয়ন্ত্রণ করে। সেখানে পাসপোর্ট বা নাগরিক নথি ইস্যু করার জন্য দক্ষ বা সহযোগী কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ নেই এবং যথাযথ স্ক্রিনিং ও যাচাই ব্যবস্থা নেই।
অতএব অভিবাসী ও অনভিবাসী আফগান নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকার বাতিল করা হলো, যোগ করা হয় ঘোষণায়।
মার্কিন সেনা সদস্যদের ওপর বুধবারের হামলার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া আসে।
ট্রাম্প বলেন, এই হামলা আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মুখে থাকার ইঙ্গিত দেয়।
“পূর্ববর্তী প্রশাসন সারা বিশ্ব থেকে দুই কোটি অজানা ও যাচাই-বাছাইবিহীন বিদেশিকে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। এমন সব জায়গা থেকে তারা এসেছে যেগুলোর নামও আপনি জানতে চাইবেন না। কোনো দেশ তার অস্তিত্বের প্রতি এমন ঝুঁকি সহ্য করতে পারে না।”
গ্রিন কার্ড রিভিউয়ের কাজে যুক্ত মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংস্থা গত সপ্তাহের ঘোষণা দিয়েছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময়কার সব শরণার্থীর অনুমোদন পর্যালোচনা করে দেখবে তারা।
বুধবার, আফগানদের সব অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে “নিরাপত্তা ও যাচাই প্রোটোকল” পর্যালোচনার মাধ্যমে।
নিজের প্রথম মেয়াদের শুরুতে সাতটি মুসলিম-প্রধান দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
২০১৫ সালে তিনি যে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন- “আসলে কী ঘটছে সে বিষয়ে আমাদের দেশের প্রতিনিধিরা বুঝতে না পারা পর্যন্ত মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে”, সেই ঘোষণারই ধারাবাহিকতা ছিল এটি।
এর ফলে ওই সময় বিশ্বব্যাপী হাজার হাজার পর্যটক, অভিবাসী, ব্যবসায়ী এবং মার্কিন গ্রিন কার্ডধারীরা তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দরেই প্রতিকূলতার মধ্যে পড়েন, কারণ বিমান সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত তথ্য বের করার চেষ্টা করে।
অনেককে মাঝপথে ফেরত পাঠানো হয় অথবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রগামী ফ্লাইটে উঠতে বাধাও দেওয়া হয়।
চলতি বছরের জুন মাসে আরোপিত প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত জানাতে হোয়াইট হাউসের দেওয়া বিবৃতির শুরুতে, ২০১৭ সালে নিজের প্রথম মেয়াদে জারি করা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। তখন এটিকে অনেক সময় ‘মুসলিম নিষেধাজ্ঞা’ বলা হতো।
নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের মানুষের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনা তখন বিভিন্ন আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল এবং অনেকবার সংশোধনও করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত উচ্চ আদালত এটি সম্পূর্ণরূপে কার্যকর করার রায় দেয়।
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030
- বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর
- ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি
- Dr. Titumir calls for UN-led debt relief mechanism to safeguard investment in children and women
