নিউইয়র্ক স্টেট ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি : ডিস্ট্রিক্ট ৮৭ (ব্রঙ্কস) থেকে অ্যাসেম্বলিম্যান প্রার্থী জাকির চৌধুরীর কিক-অফ র্যালি
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : নিউইয়র্ক স্টেটের আসন্ন ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি নির্বাচনে স্টেট অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ৮৭ (ব্রঙ্কস) থেকে অ্যাসেম্বলিম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশী কমিউনিটির মনোনীত প্রার্থী জাকির চৌধুরী সিপিএ। গত ১১ জানুয়ারি এ উপলক্ষ্যে এক বিশাল কিক-অফ র্যালির আয়োজন করা হয়। ব্রঙ্কসের স্টারলিং–বাংলাবাজার এলাকায় ‘জাকির ফর দ্য ব্রঙ্কস’ আয়োজিত এই কিক-অফ র্যালিতে বিপুল সংখ্যক কমিউনিটি সদস্য, স্থানীয় বাসিন্দা, তরুণ সমাজ, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। 
জাকির চৌধুরী সিপিএ নিজের সংগ্রাম-সফলতা এবং সিটির সমস্যা ও সমাধানের কথা তুলে ধরে বলেন, মাত্র ২১ বছর বয়সে আমি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে আসি। আমি বেসমেন্টে থেকেছি, ট্যাক্সি, উবার ও লিফট চালিয়েছি। কিন্তু কখনো লক্ষ্য থেকে সরে যাইনি। আমি বিশ্বাস করতাম শিক্ষাই এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ। পরবর্তীতে অ্যাকাউন্টিংয়ে ডিগ্রি অর্জন করে সিপিএ হই এবং নিজস্ব ব্যবসা শুরু করি।
ডিস্ট্রিক্ট ৮৭–তে বসবাসকারী সংখ্যালঘু, শিশু, যুবক, মা ও একক অভিভাবকদের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি শুধু আমার গল্প নয়, এটি এই ডিস্ট্রিক্ট’র প্রতিটি পরিশ্রমী মানুষের গল্প। তারা হৃদয় দিয়ে কাজ করলেও সঠিক নেতৃত্ব ও প্রতিনিধিত্বের অভাবে পিছিয়ে পড়ছে।
ডিস্ট্রিক্ট ৮৭’র প্রধান সমস্যা হিসেবে তিনি জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে জাকির চৌধুরী বলেন, মুদি বাজারের দাম বাড়ছে, শিশু পরিচর্যার খরচ আকাশচুম্বী। যখন আয়ের ৭৫ শতাংশই নিত্যপ্রয়োজনে চলে যায়, তখন পরিবার চালানো ও সন্তানের শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
নির্বাচিত হলে ডিস্ট্রিক্ট ৮৭–কে আরও সাশ্রয়ী করে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানো ও কার্যকর নীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমানো হবে।
জননিরাপত্তাকে দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে জাকির চৌধুরী বলেন, মানুষ এখন গাড়ি পার্ক করলেও নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকে। রাতে কাজ শেষে বাড়ি ফিরলে সন্তান নিরাপদে আছে কিনা ভয় কাজ করে। এনওয়াইপিডির ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি জানান, তাদের আরও সম্পদ ও বাজেট সহায়তা প্রয়োজন।
এছাড়া চাকরি ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিকে তৃতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের তরুণদের মধ্যে প্রতিভার অভাব নেই, অভাব সুযোগের। আফটার-স্কুল ট্রেনিং, ভোকেশনাল শিক্ষা ও ইন্টার্নশিপ বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, আমি নির্বাচিত হলে ডিস্ট্রিক্ট ৮৭–এর মানুষকে নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ দিতে লড়াই করব। এ ছাড়া ক্ষুদ্র ব্যবসার বিকাশের বিষয়ও তুলে ধরেন তিনি।
র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এলাকাবাসী জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, ভাড়াটেদের সুরক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যুব উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার বিকাশের মতো বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সমর্থকরা আশা প্রকাশ করেন, জাকির চৌধুরীর এই উদ্যোগ ডিস্ট্রিক্ট ৮৭-এর কমিউনিটিকে আরও সংগঠিত করবে এবং নির্বাচনী মাঠে একটি শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দেবে। পুরো আয়োজনটি প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়। র্যালিকে ঘিরে উপস্থিত সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায় এবং অনেকেই ডিস্ট্রিক্ট ৮৭-এর ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ার গর্বিত সন্তান জাকির চৌধুরী। দীর্ঘদিন ধরে নিউইয়র্কে কমিউনিটি ও প্রফেশনাল পর্যায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে আসার পর বারুক কলেজ থেকে অ্যাকাউন্টিংয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি নিউইয়র্ক স্টেট লাইসেন্সপ্রাপ্ত সিপিএ হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি জেপিমরগান ও এমইউএপজি ব্যাংক-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জাকির ট্যাক্স অ্যান্ড একাউনটিং পরিচালনা করছেন।
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030
- বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর
- ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি
- Dr. Titumir calls for UN-led debt relief mechanism to safeguard investment in children and women