নিউইয়র্কে শেখ হাসিনা : জেএফকে এয়ারপোর্টে বিএনপি-যুবলীগের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ
নিউইয়র্ক থেকে এনাঃ ৯ দিনের সফরে ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে (বাংলাদেশ সময় সোমবার সকালে) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্কে জেএফকে এয়ারপোর্টে অবতরণ করলে দলীয় নেতা-কর্মীরা তাকে বিপুলভাবে সংবর্ধনা জানান। ডেল্টা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ব্রাসেল্স থেকে ছোট বোন শেখ রেহানাসহ ২২ সফরসঙ্গি নিয়ে শেখ হাসিনা নিউইয়র্কে অবতরণের কয়েক ঘন্টা আগে আমিরাত এয়ারলাইন্সে অপর ৮০ সফরসঙ্গি আগমণ করেন। এয়ারপোর্টে শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে এ মোমেনসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা। এ সময় শেখ হাসিনাকে বেশ প্রফুল্ল দেখাচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, শেখ হাসিনা মঞ্চ প্রভৃতি সংগঠনের কয়েক শত নেতা-কর্মীও ছিলেন এয়ারপোর্টে। কঠোর নিরাপত্তা ভেদ করে নেতা-কর্মীদের বড় একটি অংশ শেখ হাসিনার কাছে যেতে চাইলে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। শেখ হাসিনা নিজেও সকলকে নিবৃত হওয়ার আহবান জানান। কিন্তু কেউ কারো কথায় কর্ণপাত না করায় সিকিউরিটি টিমের লোকজন তাঁকে ভীড়ের মধ্য থেকে গাড়িতে উঠতে সহায়তা করেন। এরফলে সমবেত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে কিছু বলতে পারেননি শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার গাড়ি এয়ারপোর্ট ত্যাগের পরই যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ধর রাজাকার ধর শ্লোগান দিতে দিতে দৌড়ে নীচে যায় এবং সেখানে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা-কর্মীদের সাথে সংঘর্ষ শুরু হয়। উভয়পক্ষের কয়েক ডজন নেতা-কর্মী বেশ খানিকক্ষন কিল-ঘুষিতে লিপ্ত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির একজন নেতার পুত্রকে এ সময় মারতে মারতে মেঝেতে ফেলে দিয়ে অবিরতভাবে লাথি দিতে দেখা যায়। ৬/৭ মিনিট চলে এহেন পরিস্থিতি। এরপর পুলিশ আসছে টের পেয়ে পরস্পর কোলাকুলি করে সবকিছু ভুলে যাবার ভান করেন। যদিও এর কিছুক্ষণ পরই এয়ারপোর্ট পার্কিং লটে বিএনপির নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়ে দাবি করেন যে, বিএনপির প্রতিরোধের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিকল্প পথে এয়ারপোর্ট ত্যাগ করেছেন। এ সমাবেশের সভাপতি আব্দুল লতিফ সম্রাট আরো অভিযোগ করেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল এবং অন্যতম যুগ্ম সম্পাদক আকতার হোসেন বাদলের নেতৃত্বে যেখানে শেখ হাসিনা সেখানেই প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শেখ হাসিনার হোটেল, সংবর্ধনা কেন্দ্র এবং জাতিসংঘে ভাষণের সময় বাইরে তুমুল বিক্ষোভ করা হবে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক আলহাজ্ব কমরউদ্দিন বার্তা সংস্থা এনাকে জানিয়েছেন, একদলীয় স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার লেলিয়ে লোকজন বিএনপির শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলা করে প্রকারান্তরে তারা বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে বিনষ্ট করছে। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, জেএফকে এয়ারপোর্টে প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জ্ঞাপনের শানিত্মপূর্ণ কর্মসূচি শেষে বিএনপি-জামাত জোটের লোকজন হট্টগোল করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের মদদে ওরা প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অভিপ্রায়ে জেএফকে এয়ারপোর্টে এহেন অপতৎপরতায় লিপ্ত হলে দেশপ্রেমিক প্রবাসীরা ওদের প্রতিহত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এবং শেখ হাসিনাকে নিউইয়র্কে নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির জন্যে গঠিত উপদেষ্টা পরিষদের প্রধান ড. সিদ্দিকুর রহমান বার্তা সংস্থা এনাকে আরো জানিয়েছেন, আমাদের নেতা-কর্মীরা অসীম ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরকে সর্বাত্মক সফল করতে যা প্রয়োজন তা করতে বদ্ধ পরিকর। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম চৌধুরী এবং যুবলীগ আহবায়ক মিসবাহ আহমেদ জানান, নিউজার্সী, পেনসিলভেনিয়া, বস্টন, কানেকটিকাট, ভার্জিনিয়া, ম্যারিল্যান্ড, ফ্লোরিডা এবং ওয়াশিংটন ডিসি থেকে দলীয় নেতা-কর্মীরা এসেছিলেন এয়ারপোর্টে। আমাদের শানি-পূর্ণ কর্মসূচিকে বানচালের মতলবে জামাত-বিএনপি গ্রুপের লোকজন এয়ারপোর্টে চরম উত্তেজনা সষ্টি করেছিল। সচেতন প্রবাসীরা ওদের গণধোলাই দিয়েছে।
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030
- বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর
- ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি