Friday, 5 June 2026 |
শিরোনাম
Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes নিউইয়র্কে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হৃদয় বীণা সংগীতালয়’র যাত্রা শুরু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে নিউইয়র্কে ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র দোয়া মাহফিল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বিজয় নিউইয়র্কে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পরিবার নিউইয়র্ক সিটি’র উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন নিউইয়র্ক স্টেট এসেমব্লি ডিস্ট্রিক্ট ৮৭’র নির্বাচনে কারিনা-জাকির মুখোমুখি NYIC Action Endorses Immigrant Champions and New Voices for NYS Legislature নিউ ইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা ২০২৬ সম্পন্ন, ২০২৭ সালের বইমেলা ২১-২৪ মে নিউ জার্সিতে এস্টোরিয়া ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ইউএসএ’র সাধারণ সম্পাদক জাবেদ উদ্দিনকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান
সব ক্যাটাগরি

বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশের আইন পাস করুন,মার্কিন আইন প্রণেতাদের প্রতি শেখ হাসিনা

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 144 বার

প্রকাশিত: September 22, 2010 | 11:31 PM

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার নিউইয়র্কে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর সরকারপ্রধানদের সভায় ভাষণ দেন- পিআইডি

ইউএসএনিউজএনওয়াই ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশকে শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার দিতে কংগ্রেস ম্যান জিম ম্যাকডারমট উত্থাপিত উন্নয়নের জন্য নতুন অংশীদারিত্ব আইন (নিউ পার্টনারশিপ ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাক্ট) পাস করতে মার্কিন আইন প্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, মেনুফ্যাকচার, জীবন বীমা, ব্যাংকিং ও সেবা খাতে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী। তিনি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে আরও মার্কিন বিনিয়োগের আহবান জানান। প্রধানমন্ত্রী গত বুধবার নিউইয়র্কের ফোর সিজনস রেস্টুরেন্টে মার্কিন চেম্বার অব কমার্সের সঙ্গে এক বিজনেস মিটিংয়ে এসব কথা বলেন। ইউএনবি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রকে পরীক্ষিত মিত্র এবং উন্নয়ন ও বাণিজ্য অংশীদার মনে করে। তিনি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই এবং নারীর ক্ষমতায়নে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহায়তার প্রশংসা করেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রফতানির পরিমাণ ৩২০ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশের বার্ষিক রফতানির ২৭ শতাংশ। তথাপি এর পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক আমদানির মাত্র ০ দশমিক ২৪ শতাংশ।
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে রফতানির ক্ষেত্রে কিছু দেশ যে জিএসপি সুবিধা পায় তা অত্যন্ত সহায়ক। আমরা এখন তাকিয়ে আছি এর আওতায় আমাদের রফতানি পণ্যের সংখ্যা আরও বাড়ানোর দিকে।’
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক রফতানি বাড়ানোর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাক খাতে শ্রমিকদের ৮৫ শতাংশই নারী। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং নারী শ্রমিকদের ক্ষমতায়নে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রফতানি বাড়ানো অত্যন্ত প্রয়োজন। মার্কিন বাণিজ্য নেতাদের তিনি আরও বলেন, নারীর কর্মসংস্থান নাটকীয়ভাবে তাদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনেছে। তারপর উন্নয়ন ঘটিয়েছে শিশুশিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ তৈরি পোশাক খাতে শ্রমিকদের উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বেশ অগ্রগতি সাধন করেছে। এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি তাদের নূ্যনতম মজুরি ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিম্যান্ট (টিফা) সম্পন্ন করার নতুন আগ্রহ এবং দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে ইউএস-বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন ফোরাম গঠনের প্রস্তাব অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিনিয়োগ বোর্ডে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিনিয়োগের তেরটি প্রকল্প নিবন্ধিত হয়েছে। বিনিয়োগের এসব প্রস্তাব বাংলাদেশের উদার বিনিয়োগ নীতিরই প্রতিফলন। এর মধ্যে রয়েছে ট্যাক্স হলিডে, মেশিনারি আমদানিতে শুল্ক ছাড়, ১০০ শতাংশ ফরেন ইকুইটি এবং ডিভিডেন্ট ও ক্যাপিটাল সুবিধা ফেরত নেওয়ার পুরো সুযোগ উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে মার্কিন ব্যবসায়ী নেতাদের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক বিশ্বমন্দায় বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি। যেমন বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রায় ৬ শতাংশ, পুঁজিবাজার স্থিতিশীল এবং ২০০৯-১০ অর্থবছরে রফতানি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১১ শতাংশ হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, রফতানি/জিডিপির অনুপাত ১৫ শতাংশের মধ্যে স্থির রয়েছে যা প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রায় কাছাকাছি। শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, গোল্ডমান সাচ বাংলাদেশকে তাদের নেক্সট ইলেভেনে অন্তর্ভুক্ত করেছে আর জেপি মর্গান বাংলাদেশকে রেখেছে ‘ফ্রন্টিয়ার ফাইভে’। এছাড়া স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওর এবং ‘মুডিস’ বাংলাদেশকে রেখেছে ভারতের পর দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের ওপরে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন দাঁড়িয়ে আছে একটি সুস্থ ম্যাক্রো অর্থনৈতিক কাঠামো, আর্থ-সামাজিক স্থিতিশীলতা, সস্তা শ্রম, ১৬ কোটি জনগোষ্ঠী এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেড়শ কোটি মানুষের বাজারের ওপর। তিনি বলেন, তার সরকার মহাসড়ক, পাতালপথ, মনোরেল, রেলপথ এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো অবকাঠামো নির্মাণে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) নীতি গ্রহণ করেছে। এছাড়া আইসিটিকে কার্যর্কর ব্যবহার এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পেঁৗছানোর নীতিও গ্রহণ করা হয়েছে। কানেক্টিভিটি ইস্যুতে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের নীতি হচ্ছে সড়ক, রেলপথ, মহাসড়ক দিয়ে আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি গড়ে তোলা। যাতে ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং মানুষে মানুষে সংযোগ স্থাপন করা যায়। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে কানেক্টিভিটি চুক্তি হয়েছে এবং যোগাযোগ ও পরিবহন খাতের উন্নয়ন এবং চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে ভারতের সঙ্গে ১০০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাস্ট্রদূত একরামুল কাদের, এফবিসিসিআই সভাপতি এ. কে. আজাদ, অ্যামচ্যাম প্রেসিডেন্ট আফতাব-উল ইসলাম, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির প্রেসিডেন্ট মোস্তাফা জব্বার।
জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আরও বিনিয়োগের আহ্বান
বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ এবং এ জন্য বিনিয়োগ বাড়াতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি গতকাল নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সম্মেলন কক্ষে জীববৈচিত্র্য বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের পূর্ণাঙ্গ বৈঠকে এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের কারণে পৃথিবী থেকে হাজার হাজার প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে এবং বিনষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক ভারসাম্য। অথচ কোটি কোটি বছরের বিবর্তনে পৃথিবীতে বিস্ময়কর পরিবেশগত ভারসাম্য তৈরি হয়, যেখানে লাখ লাখ প্রজাতি সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছে। মানব জাতির আবির্ভাবের পর থেকে তাদের অস্তিত্ব ও অগ্রগতি রক্ষায় প্রকৃতি প্রয়োজনীয় সম্পদ ও অত্যাবশ্যকীয় রসদ জুগিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতির আশীর্বাদের কারণেই পৃথিবীতে মানব সভ্যতা বিকাশ লাভ করেছে।
তিনি দুঃখ করে বলেন, ‘কিন্তু আমরা এ সৌভাগ্য ও প্রকৃতির আশীর্বাদকে ধরে রাখতে পারিনি। নিষ্ঠুরভাবে প্রকৃতির উদারতার অপব্যবহার করে পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করছি। এর ফলে আমাদের অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে।’
জীববৈচিত্র নষ্ট হওয়া ও দারিদ্র্যের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে উলেল্গখ করে তিনি বলেন, বিশ্ব জনসংখ্যার অধিকাংশই দরিদ্র। জীববৈচিত্র্যের ওপর তাদের দৈনন্দিন জীবন নির্ভরশীল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে উন্নয়নশীল দেশে নারী কৃষকরা খাদ্যের ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ উৎপাদন করেন। অথচ তারাই জীববৈচিত্র্য নষ্ট হওয়া, ভূমিক্ষয়, জলবায়ু পরিবর্তন এবং তীব্র দারিদ্র্যের সবচেয়ে বেশি শিকার। এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব নেই। তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমার বিশ্বাস একটি সফল নীতি ও কর্মসূচি প্রণয়নে তাদের মতামত সন্দেহাতীতভাবে সহায়ক হবে।’
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পরিকল্পনামন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, অ্যাম্বাসাডর অ্যাট লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত এ কে আবদুল মোমেন উপস্থিত ছিলেন। শেখ হাসিনা জীববৈচিত্র্য বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের পূর্ণাঙ্গ বৈঠক আয়োজন করার জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, বিশ্বে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, দারিদ্র্য ও অভাব, যথেচ্ছ প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনসহ নানা কারণে জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটেছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কৌশল নির্ধারণ এখন সময়ের দাবি। ‘আমাদের ভুলে গেলে চলবে না পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় পৃথিবীতে প্রত্যেক প্রজাতির নির্দিষ্ট ভূমিকা রয়েছে। এ ধরিত্রী রক্ষায় সব প্রজাতিই বিস্ময়কর ও রহস্যপূর্ণভাবে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই সব প্রজাতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার অর্থ পৃথিবীতে আমাদের অস্তিত্বই টিকিয়ে রাখা।’

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV