ইংরেজি
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান : সতেরো শতকের প্রথম ভাগেই বাংলা অঞ্চলে ইংরেজি ভাষার প্রচলন শুরু হয়ে যায়। ১৮৫৪ সালে প্রকাশিত চার্লস উডের এডুকেশনাল ডিসপ্যাচ-এ বলা হয়, নিম্নস্তরে শিক্ষাদানের ভাষা হবে নিজ নিজ মাতৃভাষা, আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে হবে ইংরেজি। বঙ্গে ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সংবাদপত্র ১৭৮০ সালে জেমস হিকি প্রকাশিত বেঙ্গল গেজেট।
ইংরেজির কেজো-ব্যবহার তো ছিলই, সেই সঙ্গে অনেক বাঙালি ইংরেজিতে সাহিত্য রচনা করেছেন। ব্রিটিশ আমলে বাংলার মানুষ ইংরেজিকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে তাদের দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে গ্রহণ করেছিল। ঢাকার নবাব শামসুদ্দৌল্লাহ্ (১৭৭০-১৮৩১) রাজদ্রোহের অভিযোগে কারারুদ্ধ হয়েছিলেন, অথচ ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে তাঁর ছিল অসীম অনুরাগ। নবাবের ইংরেজিতে সাহিত্যিক দক্ষতা ছিল, এ কথা বিশপ হেবার লিখেছেন তাঁর ন্যারেটিভ অব এ জার্নি (১৮২৭) গ্রন্থে। লালবিহারী দে (১৮২৪-১৮৯৪) ইংরেজিতে একাধিক বই লিখেছেন। সেসব লেখালেখি সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। আর মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪-১৮৭৩) তো ইংরেজিতে সাহিত্য রচনার জন্য প্রসিদ্ধ। দ্য ক্যাপটিভ লেডি তাঁর উল্লেখযোগ্য ইংরেজি রচনা। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস রাজমোহন’স ওয়াইফ লিখেছিলেন ইংরেজিতে। সৈয়দ আমীর আলী মুসলমান লেখকদের অন্যতম, যিনি ইংরেজি ভাষার গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন। ইংরেজিতে লেখা তাঁর দুটি উল্লেখযোগ্য বই: দ্য স্পিরিট অব ইসলাম (১৮৯১) এবং এ শর্ট হিস্টরি অব সারাসিন্স্ (১৮৯৮)। রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাড়িতে শেখা ইংরেজির জ্ঞান নিয়েই সুলতানা’স ড্রিম-এর (১৯০৮) মতো কালোত্তীর্ণ গ্রন্থ রচনা করেন।
আমরা যখন স্কুলে পড়ি, তখনকার সময়ে স্কুলের নাম ছিল মিডল ইংলিশ স্কুল আর হাই ইংলিশ স্কুল। ‘প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট, ১৯৯২’ পাস হওয়ার পর বাংলাদেশে যেসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেখানে শিক্ষার মাধ্যম ইংরেজি।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বরাবর মাতৃদুগ্ধসম মাতৃভাষার পক্ষে জোরালোভাবে বলে গেছেন। তিনি নোবেল পেয়েছেন ইংরেজি ভাষায় সং অফারিংস (১৯১৩) রচনার জন্য। নোবেল পুরস্কারের জন্য সুইডিশ একাডেমিকে ধন্যবাদ দিয়ে যে টেলিগ্রাম তিনি করেন, সেখানে নিজের কবিতা থেকে এই উদ্ধৃতি দেন: ‘Thou hast made me known to friends whom I knew not. Thou hast given me seats in homes not my own. Thou hast brought the distant near and made a brother of the stranger.’
গীতাঞ্জলির বাংলা সংস্করণে লাইনগুলো পাওয়া যাবে এভাবে:
‘কত অজানারে জানাইলে তুমি,
কত ঘরে দিলে ঠাঁই—
দূরকে করিলে নিকট, বন্ধু,
পরকে করিলে ভাই।’প্রথম আলো
- Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency
- New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes
- নিউইয়র্কে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হৃদয় বীণা সংগীতালয়’র যাত্রা শুরু
- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে নিউইয়র্কে ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র দোয়া মাহফিল
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বিজয়
- নিউইয়র্কে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পরিবার নিউইয়র্ক সিটি’র উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন
- নিউইয়র্ক স্টেট এসেমব্লি ডিস্ট্রিক্ট ৮৭’র নির্বাচনে কারিনা-জাকির মুখোমুখি
- NYIC Action Endorses Immigrant Champions and New Voices for NYS Legislature