রয়টার্সের বিশ্লেষণ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ভাষণ কংগ্রেসে প্রভাব ফেলবে সামান্যই
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে আবারও নিজের বাকপটুতা প্রমাণ করেছেন। উদ্দীপ্ত শ্রোতা-দর্শক বারবার উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে বাহবা দিয়েছেন। তবে মার্কিন কংগ্রেসে তাঁর কোনো ছাপ পড়েছে বলে মনে হচ্ছে না। সাহসী পদক্ষেপ নিতে কংগ্রেসকে সামনে চালিত করতে ওবামা যত্সামান্যই পেরেছেন। এ বিশ্লেষণ রয়টার্সের। কংগ্রেসের একটি যৌথ অধিবেশনে ওবামার গত মঙ্গলবার ওই বার্ষিক ভাষণ দেন। সামনের বছরটিতে ওয়াশিংটন কীভাবে এগিয়ে যাবে, এই ভাষণে তার দিকনির্দেশনার ছক থাকে। ভাষণে ওবামা বড় বড় সব পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, মধ্যবিত্তের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, বাজেট ঘাটতি কমানো, অভিবাসন-ব্যবস্থায় সংস্কার ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে আইন প্রণয়ন। এগুলোর সবই কংগ্রেসের সভাকক্ষের দৈনন্দিন আলোচ্য বিষয়। ওবামা প্রতিটি বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে আইনপ্রণেতাদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছেন। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, ওবামার ডেমোক্রেটিক পার্টি ও প্রতিপক্ষ রিপাবলিকান পার্টির আইনপ্রণেতাদের মধ্যে যত্সামান্য বিষয়েই বোঝাপড়া হবে। অধিকাংশ ব্যাপারেই মতানৈক্য রয়ে যাবে। সাউথ ডাকোটার রিপাবলিকান সিনেটর জন থুনের অনুমান, আসন্ন বছরটি মাঝারি মানের একটা বছর হতে চলেছে। সিনেটে রিপাবলিকানদের প্রতিনিধিত্বকারী এই নেতা বলেন, ‘কোনো কাজকে সঠিকভাবে সিদ্ধি করার কথা যদি বলেন, তবে আমি বলব এবার বেশ কিছু ক্ষেত্রে সে রকমটি হওয়ার আশঙ্কা নেই।’ থুনের এই ভবিষ্যদ্বাণী যদি সত্যি হয়, তবে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত সিনেট ওবামা প্রশাসনের যেসব পদক্ষেপে অগ্রগতির আলো দেখেছে, আসছে বছরে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত হাউসে সেগুলোর অকাল মৃত্যু ঘটবে, না হয় কাটছাঁট হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে বিষয়টি ভোটারদের হাতে চলে যাবে। এসব পদক্ষেপে তাঁরা খুশি কি না আগামী বছর কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে তার রায় দেবেন ভোটাররা। ওবামার ভাষণের পরের সকালটি শুরু হয় রিপাবলিকান হাউস স্পিকার জন বোহেনারের ওবামার একটি আহ্বান নাকচ করে দেওয়ার মাধ্যমে। ওবামা ন্যূনতম মজুরি সাত দশমিক ২৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে নয় ডলার করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে বোহেনার তা নাকচ করে দিয়েছেন। ওহাইও অঙ্গরাজ্যের সাবেক এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, ‘যখন আপনি মজুরি বাড়াবেন, তখন কী ঘটবে একবার অনুমান করেন? আপনি এটার সামান্যই পাবেন।’ অন্যদিকে সিনেট জুডিশিয়ারি কমিটির রিপাবলিকানরা ওবামার নিবিড় অভিবাসন সংস্কার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। এ ছাড়া ভাষণে ওবামা নিউটাউনসহ বিভিন্ন শহরে বন্দুকধারী গুলিতে মানুষ হতাহত হওয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তুলে ধরে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনের জন্য কাজ করতে আইনপ্রণেতাদের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে রিপাবলিকানরা এখানেও ওবামার সঙ্গে একমত নন। সিনেটর থুন বলেন, বন্দুকের বিষয়ে বিতর্ক আছে সত্যি। এ বিষয়ে সিনেটে আইন পাস হতে পারে। তবে বিষয়টি হাউসেও পাস হবে কি না সে বিষয়ে তিনি সন্দিহান। একমাত্র যে বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ কিছুটা পরিণতির দিকে এগোতে পারে তা হলো দেশের বাজেট ঘাটতি কমানো। কারণ, আগামী ২৭ মার্চেই সরকার তহবিল সংকটে পড়ছে। আর আগস্টের দিকে তা চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে যাবে। তবে রিপাবলিকানদের দাবি মোতাবেক একমাত্র ব্যয় কাটছাঁটের মাধ্যমে নাকি ডেমোক্র্যাটদের দাবি মোতাবেক ধনীদের ওপর কর দ্বিগুণ করার মাধ্যমে এই বাজেট ঘাটতি কমানোর আইন করা হবে তা নিয়ে বড় ধরনের যুদ্ধ অপেক্ষা করছে।প্রথম আলো
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030
- বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর
- ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি