প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যাংক একটি দেশজ উদ্ভাবন
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক দেশে নতুন যে সাতটি ব্যাংককে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর অনুমতি দিয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো দুটি এআরবি (প্রবাসী বাংলাদেশি) ব্যাংক—এনআরবি ব্যাংক লিমিটেড ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড। আরেকটি এনআরবি ব্যাংক অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।
মূলত প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ ও তাঁদের আয়-আমানত দেশে বিনিয়োগে দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগানোর জন্যই এই বিশেষ ধরনের বাণিজ্যিক ব্যাংককে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
তবে প্রবাসীদের ব্যাংকের ধারণাটি পুরোপুরি একটি বাংলাদেশি উদ্ভাবন। ২০০৭ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ বায়েজীদ সরকার তাঁর উপস্থাপিত এক প্রবন্ধে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিশেষ ধরনের ব্যাংকের ধারণা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। মূলত সেখান থেকেই এনআরবি ব্যাংকের ধারণাটি একটি তাত্ত্বিক ভিত্তি খুঁজে পায়।
‘বৈদেশিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকের বিকল্প তহবিল: প্রবাসী-আয় ব্যবহার করার পথ’ শীর্ষক প্রবন্ধে বায়েজীদ সরকার বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করতে একটা বিশেষ ধরনের ব্যাংক গঠন করা যেতে পারে, যা কিনা দীর্ঘমেয়াদি ঋণের জন্য বিশ্বব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরতা কমাতে পারে।
ওই সেমিনারে বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ, অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি মঈনুল ইসলাম প্রমুখ এই প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করেন।
অবশ্য এর আগেই এ বিষয়টি নিয়ে একাধিক পত্র-পত্রিকায় বায়েজীদ সরকারের লেখা প্রকাশিত হয়। প্রবাসী-আয়বিষয়ক সেমিনারেও তিনি এই প্রস্তাব দেন। পরবর্তী সময়ে ২০০৮ সালে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে আরেকটি সেমিনারে উপস্থাপিত প্রবন্ধে বায়েজীদ সরকার বিষয়টি ভিন্নমাত্রায় উপস্থাপন করেন, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়।
এরপর ২০০৯ সালে অর্থমন্ত্রীর কাছে এক আনুষ্ঠানিক পত্রে বায়েজীদ সরকার প্রবাসী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবটি পর্যালোচনার অনুরোধ জানান। অর্থ মন্ত্রণালয় তা পর্যালোচনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রেরণ করে। ইতিমধ্যে বায়েজীদ সরকার তাঁর প্রবন্ধটি কপিরাইট অফিসে নিবন্ধন করান।
অন্যদিকে প্রবাসী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার বিষয়টি প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন মহল থেকেও উচ্চারিত হতে থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা শেষে ২০১১ সালের ৭ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবাসী বাংলাদেশ ব্যাংক এনআরবি ব্যাংকের জন্য আবেদনপত্র আহ্বান করে।
উল্লেখ্য, নব্বইয়ের দশকের শেষ ভাগ থেকেই প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যাংক স্থাপনের বিষয়টি বিচ্ছিন্নভাবে আলোচনায় উঠে আসতে থাকে। তবে বায়েজীদ সরকার তথ্য-উপাত্ত ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ সহযোগে সুনির্দিষ্ট গবেষণার মাধ্যমে এনআরবি ব্যাংকের একটি তাত্ত্বিক কাঠামো তৈরি করেন।প্রথম আলো
- Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency
- New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes
- নিউইয়র্কে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হৃদয় বীণা সংগীতালয়’র যাত্রা শুরু
- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে নিউইয়র্কে ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র দোয়া মাহফিল
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বিজয়
- নিউইয়র্কে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পরিবার নিউইয়র্ক সিটি’র উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন
- নিউইয়র্ক স্টেট এসেমব্লি ডিস্ট্রিক্ট ৮৭’র নির্বাচনে কারিনা-জাকির মুখোমুখি
- NYIC Action Endorses Immigrant Champions and New Voices for NYS Legislature