Monday, 26 October 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় স্থগিত বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন; ওসমান চৌধুরীর সদস্যপদ প্রত্যাখ্যান নিয়ে মামলা, ৫ নভেম্বর পরবর্তী শুনানি; সংবাদ সম্মেলনে আইনি পরিস্থিতি তুলে ধরল নির্বাচন কমিশন হানি ট্র্যাপে হত্যার অভিযোগ, সাগরের মামলা পিবিআইতে দেওয়ার দাবি পরিবারের; প্রধান আসামির জামিনে উদ্বেগ, দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity
সব ক্যাটাগরি

যেকোনো বাধা জয় করা সম্ভব: কেট মিডলটন

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 123 বার

প্রকাশিত: July 27, 2013 | 11:57 PM

 

কেট মিডলটনজাহিদ হোসাইন খান : কেট মিডলটনকেট মিডলটন ১৯৮২ সালের ৯ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের বার্কশায়ারে জন্মগ্রহণ করেন। ২০১১ সালের ২৯ এপ্রিল তিনি ব্রিটিশ রাজপুত্র প্রিন্স উইলিয়ামকে বিয়ে করেন। কেট ২০০৫ সালে স্কটল্যান্ডের সেন্ট অ্যান্ড্রুস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘হিস্ট্রি অব আর্ট’ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ২০১৩ সালের ২৩ এপ্রিল ম্যানচেস্টারে অ্যাকশন অন অ্যাডিকশনের এক অনুষ্ঠানে এই বক্তব্য দেন।
সবাইকে ধন্যবাদ। এমন একটি অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা। আমাদের জীবনে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগ দেখা দেয়। কখনো কখনো সেই দুর্যোগ আমরা নিজেরা সৃষ্টি করি। আমাদের সৃষ্ট সেই দুর্যোগে আমাদের পরিবার, সমাজ ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। মাদকাসক্তি মানুষের জীবনে এমনই একটি দুর্যোগের নাম। এই জটিল ও ভয়ানক সমস্যা শুধু একজন মানুষের জীবনকেই নষ্ট করে না, সঙ্গে তার পরিবার, বন্ধুদেরও বিপর্যস্ত করে তোলে। মাদকাসক্তি থেকে সহজেই পরিত্রাণ করা সম্ভব নয়। তার পরও পরিশ্রম, ধৈর্য ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এই খারাপ অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসা যায়। আমি আমার আশপাশে এমনই বেশ কজন মানুষকে চিনি, যাঁরা এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। তাঁরা মাদকাসক্তি থেকে ফিরে এসেছেন স্বাভাবিক জীবনে। জয় করেছেন নতুন জীবনকে। আমি সত্যিই তাঁদের দেখে নিজেকে বেশ ভাগ্যবান বলে মনে করি। তাঁরা আমাকে বেশ উৎসাহ দেন। তাঁদের দেখে মনে হয়, যেকোনো বাধা জয় করা সম্ভব। মাদকাসক্তিকে পরাস্ত করা সম্ভব।
যাঁরা নেশার জগতে জড়িয়ে পড়েন, তাঁরা শুধু একা নিজের ক্ষতি করেন না। তাঁদের সন্তান, তাঁদের পরিবারও নেশার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নেশার কবলে ধ্বংস হয়ে যায় সেই পরিবার। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় সেই পরিবারের অবুঝ শিশুরা। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, যাঁরা মাদকে আসক্ত, তাঁদের চেয়েও তাঁদের পরিবারের সন্তানেরা সাত গুণ বেশি ঝুঁকিতে থাকে। নেশার প্রভাবে তাদেরও মানসিক সমস্যা, শারীরিক সমস্যা দেখা যায়। প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রণায় সর্বক্ষণ ভুগতে থাকে কোমলমতি সেই প্রাণগুলো। এই শিশুগুলো এমন একটি পরিবারে বড় হতে থাকে, যেখানে তারা সর্বদা ভয়, কোলাহল, ঝগড়া-বিবাদ দেখে দেখে বড় হয়। ছোটবেলা থেকেই তারা পরিবারের মাদকাসক্ত ব্যক্তির প্রভাবে অস্থির মানসিক অবস্থা নিয়ে বড় হতে থাকে, যা তাদের জন্য শুধুই নয়, সমাজের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। সেই শিশুরা একসময় নিজেরাই মাদকের জগতে পা রাখে। রুক্ষ মেজাজ, রাগী স্বভাবের হয়ে ওঠে এই শিশুরা। গত বছর থেকে আমি এসব শিশুর জন্য কিছু করা যায় কি না, তা নিয়ে ভাবছিলাম। উইলিয়াম ও হ্যারির সঙ্গে আমি আমার চিন্তার কথা ভাগ করি। আমি শিশুদের জন্য কিছু করতে চাই বলে জানাই।
যেসব পরিবারে মাদকাসক্ত বা নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি আছেন, তাঁদের পরিবারের সন্তানদের জন্য পরামর্শ দেওয়ার জন্য কাজ করা শুরু করি। পরিবারের শিশুদের যেন মানসিক ও শারীরিক ক্ষতি না দেখা দেয়, সে জন্য কী করা যায়, তার উপায় বের করি। সেই সব শিশু যেন নিজেরা মাদকাসক্তিতে জড়িয়ে না পড়ে, সেদিকে তাদের পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থা নিই। শিশুরা যেন মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত না হয়, তার জন্য তাদের স্কুলেও পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করি। শিশুর মাধ্যমে যেন তার পরিবারের সদস্যরা পরিবর্তিত হয়, সেদিকেও আমার খেয়াল আছে। শিশুরাই তো আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের ভবিষ্যৎ যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকে আমাদের সবার নিরন্তর খেয়াল রাখতে হবে। শিশুরা যেন মাদক ও নেশামুক্ত এক পৃথিবীতে বড় হয়ে উঠতে পারে, সে জন্য সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমাদের সামান্য উদ্যোগ আমাদের আগামী দিনের নাগরিকদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।
মাদকাসক্তির চক্র থেকে বড়দের বেরিয়ে আসার জন্য অনেক সংগ্রাম করতে হয়। পরিবারের সদস্যদের ভূমিকা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকদের পরামর্শের মাধ্যমে ব্যক্তিকে অনেক কষ্ট করে নিজের ওপর ভরসা রেখে মাদককে জীবন থেকে দূরে ঝেড়ে ফেলতে হয়। শিশুদের মাদকে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। শিশুরা সেই জীবনের প্রত্যাশা করে না। একটি সুন্দর, নির্মল পরিবার ও সমাজ প্রতিটি শিশু প্রত্যাশা করে। আমাদের সবার উচিত শিশুদের এই প্রত্যাশাকে বাস্তবে পরিণত করা।প্রথম আলো 

সূত্র: প্রিন্স অব ওয়েলস ডট গভ ডট ইউকে। ইংরেজি থেকে অনুবাদ: জাহিদ হোসাইন খান

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ