Sunday, 25 October 2026 |
শিরোনাম
ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের
সব ক্যাটাগরি

হতাশ দেশবাসী রাজপথে নামতে পারেন

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 146 বার

প্রকাশিত: November 17, 2013 | 1:55 PM

নিশা দেশাই বিসওয়াল: এই শীতে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন হওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু কিভাবে এই নির্বাচন হবে তা নিয়ে বিরোধে লিপ্ত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এতে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বেড়েছে। ঘন ঘন হচ্ছে হরতাল, ধর্মঘট। তা অনেক ক্ষেত্রেই হয়ে উঠছে সহিংস। আগামী নির্বাচন তদারকের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের বিষয়ে দু’পক্ষে যত অনৈক্য বাড়বে তাতে ততই হতাশ হয়ে পড়বেন দেশবাসী। ফলে তারা হতাশার প্রকাশ ঘটাতে এক সময় রাজপথে নামতে পারেন। বাংলাদেশ, মালদ্বীপের বড় ধরনের পশ্চাৎমুখিতা ও নেপালের উদ্বেগজনক পরিস্থিতি ফুটিয়ে তুলেছে এসব দেশে গণতন্ত্র কতটা ভঙ্গুর ও দুর্বল। এতেই ফুটে উঠেছে কেন দক্ষিণ এশিয়ার গণতন্ত্রের জন্য অবশ্যই ভূমিকা রাখতে হবে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়কে। ১৫ই নভেম্বর বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এ ‘ফাইটিং ফর ডেমোক্রেসি ইন সাউথ এশিয়া’ শীর্ষক এক নিবন্ধে এসব কথা লিখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল। এতে তিনি আরও লিখেছেন, ঔপনিবেশিক ইতিহাসের পর এই প্রথমবারের মতো গণতন্ত্র এসেছে দক্ষিণ এশিয়ার সবগুলো দেশে। ভুটান থেকে বাংলাদেশ, কাবুল থেকে কাঠমান্ডু সব স্থানেই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্থান পাচ্ছে এবং এতে জনগণ তাদের মত প্রকাশ করছে যে, তারা কিভাবে শাসিত হতে চায়। কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের ক্ষেত্রে যে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে তাকে যদি দৃষ্টি এড়িয়ে যেতে দেয়া হয় তাহলে এই ঐতিহাসিক অর্জন হতে পারে ক্ষণস্থায়ী। আগামী ৬ মাসের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার ১০০ কোটিরও বেশি ভোটার তাদের নেতা নির্বাচিত করবেন। বিশ্বের সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় ও কর্মচঞ্চল দেশগুলোর কয়েকটিতে এমন ঘটনা ঘটবে। ভারতে ও আফগানিস্তানে নির্বাচন আসন্ন। পাকিস্তান ও ভুটানে সমপ্রতি সফল নির্বাচন হয়েছে। এর মাধ্যমে এ অঞ্চলের ভোটারদের নির্বাচনী গণতন্ত্রের প্রতি গভীর ধৈর্য ফুটে উঠেছে। দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপও রাজনৈতিক সঙ্কটের কিনারে। কয়েক সপ্তাহের দ্বন্দ্ব ও সন্দেহপূর্ণ অবস্থার মধ্য দিয়ে প্রথম দফা নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। বেশির ভাগ পর্যবেক্ষণ সেখানে অবাধ ও মুক্ত নির্বাচন দেখতে চান। তাই তারা শনিবার দ্বিতীয় দফা নির্বাচন করে। জনস্বার্থে ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিরাপদ করতে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় সব রাজনৈতিক নেতা ও সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোকে কাজ করার আহ্বান জানায়। আগামী ১৯শে নভেম্বর নেপালে গণপরিষদ নিয়ে কয়েক হাজার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২০১২ সালের মে মাসে এই গণপরিষদ ভেঙে দেয়া হয়। একটি স্থায়ী সংবিধানের খসড়া তৈরিতে নতুন প্রাথমিক গণপরিষদ দায়বদ্ধ থাকবে। এর মাধ্যমে নেপালের মানুষকে তাদের নানামতের প্রতিফলন ঘটানোর রাজনৈতিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করে দেয়া হবে। এ নিয়ে নেপালের ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও ভিন্ন মতাবলম্বী কিছু গ্রুপ অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এই অগ্রযাত্রাকে তারা থামিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ কোন গণতন্ত্রই রাজনৈতিক অন্তর্বিরোধ ও পক্ষপাতমূলক রাজনীতি থেকে মুক্ত নয়। সমপ্রতি যুক্তরাষ্ট্রে যে ‘শাটডাউন’ হয়েছে তা থেকে যুক্তরাষ্ট্র সুদূরপ্রসারী অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, ক্ষতিকর পরণিতি ভোগ করেছে। আদর্শগত পার্থক্য ও রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের উপরে দেশের সফলতাকে স্থান দিতে না চাইলেই এমন ঘটে। কিন্তু এরই মধ্যে আমাদের রাজনৈতিক নেতারা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সমঝোতার পথে গিয়েছেন। তারা পথ খুঁজে পেয়েছেন। দক্ষিণ এশিয়ায় কি ঘটছে তা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। একুশ শতকের অনেক কাহিনীই লেখা হবে এই অঞ্চলে। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৬ ভাগের ১ ভাগের বসবাস এখানে। বিশ্বের মোট মুসলিম জনগোষ্ঠীর এক-তৃতীয়াংশের বাসও এখানে। ৩০ বছরের কমবয়সী ৮০ কোটি যুবক রয়েছে এ অঞ্চলে। দক্ষিণ এশিয়ানরা যে সিদ্ধান্ত নেবেন তার ওপর উল্লেখযোগ্য পরিণতি থাকবে তাদের দেশের ওপর, এ অঞ্চলের ওপর এবং বিশ্বের ওপর। এ জন্যই নির্বাচনী সংস্কার, প্রতিষ্ঠান গঠন, জাতীয় সংসদকে শক্তিশালী করা এবং এ অঞ্চলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাকে যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয়ভাবে সমর্থন করে। গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক অর্জনকে সংহত করতে এবং জনগণকে দারিদ্র্য থেকে তুলে আনতে সফলতার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদল গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে আফগানিস্তান হবে সবচেয়ে বড় প্রমাণ। আগামী বছরের এপ্রিলে সেখানে প্রেসিডেন্ট ও প্রাদেশিক নির্বাচন হওয়ার কথা। এ নির্বাচনের  মধ্য দিয়ে ফুটে উঠবে যে সেখানে সফলতার সঙ্গে নিরাপদে ক্ষমতার পালাবদলকে সমর্থন করা হয় নাকি গত দশকের অর্জনকে খর্ব করে দেয়া হয়। সেখানে নির্বাচনী প্রস্তুতি চলছে। তাই আফগানিস্তানকে অবশ্যই এমন একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে যেখানে নাগরিকরা অবাধে, ভোট কারচুপি ও অন্যান্য রকম জালিয়াতি ছাড়া নেতা নির্বাচত করতে পারেন। ভারতে আগামী বসন্তে ৬০ কোটি নাগরিক বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইলেকটোরাল প্রক্রিয়ায় তাদের নেতা নির্বাচিত করবেন। এখনই এ বিষয়ে তীব্র ও উন্মুক্ত বিতর্ক চলছে। আর এসব দেশের প্রতিটির ইতিহাস এবং পাকিস্তান ও ভুটানের সামপ্রতিক সফল নির্বাচন থেকে গুরুত্বপূর্ণ অনেক কিছু শিক্ষা নেয়ার আছে। পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছে। আর জুলাইতে হয়ে যাওয়া জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে ভুটানেও শান্তিপূর্ণভাবে নতুন প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছে। ঘটনাগুলো এ অঞ্চলের গণতান্ত্রিক বিবর্তনের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো, দক্ষিণ এশিয়াবাসীকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার দাবি ওঠাতে হবে। যেখানে শান্তিপূর্ণ উপায়ে জনসাধারনের দাবির প্রতিফলন ঘটবে। গণতন্ত্রের মূলতন্ত্র হলো প্রতিটি নাগরিকের অধিকারকে সংরক্ষণ করা। বিশেষ করে তাদের ভোটাধিকার এবং মুক্তভাবে মত প্রকাশের অধিকার। এগুলো মার্কিন মূল্যবোধ নয় বরং বৈশ্বিক মূল্যবোধ। আর যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের সহায়তা অব্যাহত রাখবে, যেন এ অঞ্চলের সম্ভাবনাময় দেশগুলো সর্বোচ্চ সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও প্রগতি নিশ্চিত করবে।মানবজমিন

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ