Wednesday, 28 October 2026 |
শিরোনাম
Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাস্তবায়ন উপলক্ষে নিউইয়র্কে সমাবেশ, আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার প্রত্যয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান নিউইয়র্কে হিউম্যান সাপোর্টের বিনামূল্যে ফ্লু টিকাদান কর্মসূচি New York Attorney General James Announces Election Protection Hotline Ahead of November General Election ASAAL’s 19th Annual Convention Draws Nearly 500, Calls for Stronger Civic Engagement and Workers’ Rights নিউইয়র্কে ট্রাফিক এজেন্ট ইউনিয়নের সভায় দুই বাংলাদেশি নেতাকে ঘিরে সংঘর্ষ, আসন্ন নির্বাচন ঘিরে নেতৃত্বের বিরোধ প্রকাশ্যে দেহের মেহরাবে অনন্তের দীপ
সব ক্যাটাগরি

আমেরিকান সিটিজেনশিপের জন্য প্রস্তুতি : ইমিগ্র্যান্টদের সেবায় নিউইয়র্কের পাবলিক লাইব্রেরি

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 5 বার

প্রকাশিত: December 6, 2013 | 6:37 PM

সেলিনা শারমিন: আমেরিকান সিটিজেন হওয়ার জন্য প্রথমেই করণীয় বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নির্ভুলভাবে ঘ-৪০০ ফর্মটি পূরণ করা। এই ফর্মটি ইউনাইটেড স্টেটস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (িি.িঁংপরং.মড়া) ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া যাবে। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই আরও জানা যাবে সিটিজেনশিপ দরখাস্তের উপযুক্ত নিয়মাবলীসমূহ। প্রথমেই সিটিজেনশিপের দরখাস্ত যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে। তারপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দরখাস্তের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। ইউনাইটেড স্টেট অব ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসে কোনোরকম ক্যাশ গ্রহণযোগ্য নয়। মানি অর্ডার অথবা পারসোনাল ব্যাংক চেক ব্যবহার করতে হবে যথাযথ ফি-এর জন্য। দরখাস্ত পূরণের পর সঙ্গে পাসপোর্ট সাইজের ছবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ফি ডাকযোগে ইউনাইটেড স্টেটস অব ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস সেন্টারে পাঠাতে হবে। সব কাগজপত্র ডাকযোগে পাঠানোর পূর্বে অবশ্যই কপি করে রাখা ভালো। তারপর ইউএসসিআইএস থেকে একটি চিঠি দিয়ে দরখাস্তকারীকে ফিঙার প্রিন্টের জন্য হাজির হতে জানানো হবে নির্ধারিত স্থানীয় অফিসে ফিঙার প্রিন্ট দেওয়ার জন্য। ফিঙার প্রিন্ট দেওয়ার পর সিটিজেনশিপের ইন্টারভিউয়ের সাক্ষাৎ নির্ধারণ করা হয় করা হয় যে কোনো স্থানীয় অফিসে। যখন ইন্টারভিউয়ের জন্য যাওয়া হয় তখন অবশ্যই মনে করে একটি ফটো আইডি যেমন ড্রাইভার লাইসেন্স, স্টেট আইডি অথবা গ্রিনকার্ড অথবা পাসপোর্ট সঙ্গে রাখতে হবে। ইন্টারভিউ শেষে ইংরেজি এবং সিভিক টেস্ট দিতে হয়। ইংরেজি এবং সিভিক টেস্টে পাস করার পর ইমিগ্রেশন অফিস থেকে সিটিজেনশিপের শপথ নেওয়ার পর আমেরিকান পাসপোর্টের জন্য দরখাস্ত করতে হয়। সাধারণত পাসপোর্ট দরখাস্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আমেরিকান পোস্ট অফিসগুলো অত্যন্ত জরুরি ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে নিউইয়র্ক সিটিতে একমাত্র ব্রুকলিন পাবলিক লাইব্রেরিতে সম্পূর্ণ পাসপোর্টের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সার্ভিস চালু রয়েছে। এছাড়াও নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরিতে রয়েছে অনলাইন টেস্টের প্রস্তুতি এবং প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা দেওয়ার সুবিধা যা কিনা সিটিজেনশিপ দরখাস্তকারীকে ইউএস ইতিহাস এবং সিভিক জ্ঞান বর্ধিত করতে সাহায্য করবে। কুইন্স লাইব্রেরিতে রয়েছে ফ্রি সিটিজেনশিপ পাস।

ফ্রি সেবাদানের পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটির প্রতিটি পাবলিক লাইব্রেরিতে রয়েছে বিপুল সংখ্যক সিটিজেনশিপের বইয়ের সমারোহ। উদাহরণস্বরূপ কিছু বইয়ের নাম এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে :

১. ইউএস সিটিজেনশিপ টেস্ট রিভিউ। ২. বিকামিং ইউএস সিটিজেন, এ গাইড টু দ্য ল, এক্সাস এবং ইন্টারভিউ ৩. হাউ টু বিকাম এ ইউএস সিটিজেন ইত্যাদি। ইমিগ্র্যান্টদের সেবামূলক কর্মকা-ের ওপর লক্ষ্য রেখেই বিভিন্ন নন প্রফিট এবং গভর্নমেন্ট সংস্থা পাবলিক লাইব্রেরির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সিটিজেনশিপের জন্য তথ্য, কর্মশালা এবং সেবাদান করে আসছে। সেলিনা শারমিন, কুইন্স সেন্ট্রাল লাইব্রেরি, জ্যামাইকা কুইন্স।

ইমিগ্র্যান্টদের সেবায় নিউইয়র্কের পাবলিক লাইব্রেরি

সেলিনা শারমিন : জনসংখ্যার আদমশুমারি পাবলিক লাইব্রেরিগুলোকে অনেক সুবিধা প্রদান করে ইমিগ্র্যান্ট জনগোষ্ঠীকে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে। ২০১০ ইউএস আদমশুমারি অনুযায়ী নিউইয়র্কের কুইন্স কাউন্টির জনসংখ্যা বেড়েছে ১৪.২%। এদের মধ্যে ৪৬.১% জনসংখ্যা বাড়িতে ইংরেজিতে নয় বরং অন্য ভাষায় কথা বলে।

যে কোনো দেশের ইমিগ্র্যান্ট যখন অভিবাসী হিসেবে আমেরিকাতে আসে তখন বেশিরভাগই তাদের ফ্যামিলি এবং ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে করে নিয়ে আসে। এই সকল ফ্যামিলির প্রয়োজনের ওপর লক্ষ্য রেখেই নিউইয়র্কের পাবলিক লাইব্রেরিগুলো পরিষেবা বা পরিকল্পনা করে থাকে। অনেক ছোটবেলায় বাবার কাছে শুনেছিলাম ভারতীয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত নোবেল বিজয়ী কবি, সাহিত্যিক কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, ‘আগে চাই মাতৃভাষার গাঁথুনি পরে চাই ইংরেজি শিক্ষার পত্তন।’ এখানে এই কথাটা বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে যে কোনো দেশের অভিবাসীদের তাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি এবং সাহিত্য রয়েছে। নিউইয়র্কের পাবলিক লাইব্রেরিগুলোতে রয়েছে বিপুল সংখ্যক সংগ্রহ শুধুমাত্র বই নয়, রয়েছে অডিও বই, রেকর্ড করা সিডি, শিক্ষামূলক গেমসের সিডি এবং আরও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের অনলাইন সার্ভিসেস। ইংরেজি ভাষার সাথে সাথে অন্যান্য ভাষার সামগ্রী পাবলিক লাইব্রেরিগুলোতে সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ চাইনিজ, কোরিয়ান স্প্যানিশ, রাশিয়ান, ফ্রান্স, হেইশিয়ান, হিন্দি, উর্দু, নেপালি, পাঞ্জাবি এবং সর্বোপরি বাংলাভাষার বিপুল সংগ্রহ রয়েছে। পরিসংখ্যান দেখা গেছে, নিউইয়র্ক সিটিতে একশ আশি দেশের একশ ষাটটি ভাষাভাষীর ইমিগ্র্যান্ট রয়েছে।

নিউইয়র্ক সিটির বোর্ড অব এডুকেশনের কারিকুলামের ওপর ভিত্তি করে আরলি লিটারেসি সার্ভিস সবগুলো পাবলিক লাইব্রেরিতে চালু রয়েছে। বাচ্চারা যাদের বয়স ০-১৮ মাস তাদের জন্য রয়েছে শিক্ষামূলক ওয়ার্কশপ। যে কোনো কেয়ারগিভার অথবা বা মা এই সব বাচ্চাদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষামূলক ফ্যামিলি লিটারেসি ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ করতে পারেন। প্রফেশনাল ডিগ্রিধারী লাইব্রেরিয়ান দ্বারা এই সকল ওয়ার্কশপগুলো পরিচালনা করা হয়। প্রতিটি সেশনে নার্সারি রাইমঞ্চ, গান কবিতা এবং ভিজ্যুয়াল দ্রব্যাদির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ছড়া, কবিতা, গান এবং ভাষা শিক্ষার জন্য বর্ণমালা শেখানো হয়ে থাকে। এতে করে শুধুমাত্র বাচ্চাদেরই মানসিক পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে তাই নয়, সাথে সাথে কেয়ার গিভার এবং ধারা মায়েরাও বাচ্চাদের কিভাবে লালন-পালন করতে হয় এবং তাদের মানসিক বিকাশে সাহায্য করতে হয় এই বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করে থাকে।

বাচ্চারা যাদের বয়স ১৮-৩৬ মাস তাদের টোডলার বলা হয়। এই বয়সের বাচ্চাদের ছড়াগান অথবা বর্ণমালা শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের রং নম্বর এবং কনসেপ্ট শিক্ষা দেওয়াহয়ে থাকে। পাশাপাশি কেয়ারগিভার এবং বাবা মাকে ট্রেনিং দেওয়াহয় কিভাবে লাইফ লং লারিং, রিডার গড়ে তোলা যায় সেই সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণার পাশাপাশি পড়ার অভ্যেস গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। বলা হয়ে থাকে যে, বাচ্চারা তাদের বাবা-মাকে দেখে তাদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলে।

যাদের বয়স ৩ বছর থেকে ৫ বছর তাদের স্কুলের যাওয়ার আগে কিভাবে প্রস্তুতি নিতে হয় সেই বিষয়ে পাবলিক লাইব্রেরিগুলোতে বিভিন্ন ধরনের ওয়ার্কশপ রয়েছে। এই সকল ওয়ার্কশপের দ্বারা পাবলিক লাইব্রেরিগুলো শিশুদের মানসিক বিকাশকে সমুন্নত রাখে বিভিন্ন দেশের, বিভিন্ন ভাষার লেখক, সাহিত্যিক, জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রী, শিল্পী, মিউজিশিয়ান ফ্যাশন ডিজাইনার দ্বারা প্রদর্শনী, বক্তৃতা এবং এমনকি কনসার্টের মাধ্যমে বাচ্চাদের এবং তাদের পরিবারকে সুযোগ করে দেওয়া হয় প্রবাসে ইমিগ্র্যান্টদের নিজস্ব ভাষা, সাহিত্য এবং সংস্কৃতিকে ধারণ এবং বর্ধিত করার প্রয়াসে। এতে করে এই সকল শিল্প চর্চার কারণে ইমিগ্র্যান্ট এবং তাদের বাচ্চাদের প্রতিভা, সৃজনশীলতা, এবং যে কোনো বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ করার জন্য উৎসাহ এবং ভালোবাসা জন্মায়। এই সকল নানা কারণে নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক লাইব্রেরির গুরুত্ব অপরিসীম।

আগামী সংখ্যায় থাকবে কিভাবে পাবলিক লাইব্রেরিগুলো বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতিকে উদযাপন করে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং কর্মকা-ের মাধ্যমে অন্য ভাষাভাষীর জনগোষ্ঠীকে শ্রদ্ধা এবং সম্মান প্রদর্শন করে।

সেলিনা শারমিন, কুইন্স সেন্ট্রাল লাইব্রেরি, জ্যামাইকা কুইন্স।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ