নিউইয়র্কে বাংলাদেশী দীন মোহাম্মদ খানের আত্মহত্যা: স্ত্রী ও দু’সন্তানের বিলাপ, কোনভাবেই এ মৃত্যুকে মেনে নিতে চাচ্ছেন না
এনাঃ সবগুলো লাগেজ এখনও খোলা হয়নি-এমনি অবস্থায় স্ত্রী ও দু’সন্তান রেখে মানিকগঞ্জ শহরের এলজিআরডি অফিস সংলগ্ন বেউথার অধিবাসী দীন মোহাম্মদ খান (৫২) গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করলেন। ২৪ অক্টোবর সকালে নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে ৩৭-২২ ৭৩ স্ট্রীটে অবস্থিত খাবার বাড়ি সংলগ্ন ভবনের তৃতীয় তলার সিড়ির উপর থেকে দীন মোহাম্মদ খানের লাশ উদ্ধার করা হয়। সিড়ির র্যালিংয়ের সাথে বাধা একটি কাপড় পেচানো ছিল তার গলায়।

খবর পেয়ে পুলিশ, মেডিক্যাল এক্সামিনার এবং ক্রাইম ইনভেস্টিগেশনের স্পেশাল টিম এসে লাশের পরীক্ষা করে এবং আশপাশের পরিস্থিতি অবলোকন করেন। মাত্র সাড়ে ৩ মাস আগে ডিভি লটারীতে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে আগত দীন মোহাম্মদ খানের এহেন মৃত্যুকে কেউই মেনে নিতে চাইছেন না। যদিও অনেকে মনে করছেন যে স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় এসে নিজেকে খাপ খাওয়াতে না পেরে অথবা প্রত্যাশিত আয়-রোজগারের পথ না দেখে এক ধরনের হতাশা থেকে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। মেডিক্যাল এক্সামিনারের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন সকলে। এরপরই নিশ্চিত হওয়া যাবে যে তিনি আত্মহত্যা করেছেন নাকি কেউ তাকে হত্যা করেছে। দীন মোহাম্মদ খান এ ভবনের চতুর্থ তলায় ডাবল বেডরুমের বাসা ভাড়া নেন মাস খানেক আগে। সাথে নেন ছোট ভায়রা আনিসুর রহমান কায়সারকে। তার বাড়ি মানিকগঞ্জে এবং তাদের শশুর বাড়িও মানিকগঞ্জে। জানা গেছে, দীন মোহাম্মদ খানের দাদার বাড়ি চুয়াডাঙ্গা এবং তার বাবার বাড়ি রাজবাড়ি জেলার পাংশা উপজেলায়। বিবাহ সূত্রে তিনি বসতি গড়েন মানিকগঞ্জ শহরে। উল্লেখ্য যে, দীন মোহাম্মদ খানের ছোট ভায়রাও ডিভি লটারীতে জয়ী হয়েই ১৬ মাস আগে নিউইয়র্কে এসেছেন সপরিবারে। তার এ বাসা ভাড়া হচ্ছে ১৯০০ ডলার। দীন মোহাম্মদ কাজ পেয়েছিলেন ব্রুকলীনে একটি জুইস কোম্পানীতে। কিন্তু বেতনে তার পোষাচ্ছিল না। এছাড়া সপ্তাহে ৪ দিনে মাত্র ৪০ ঘন্টা কাজ করতেন তিনি। তার ছোট ভায়রা আনিস কায়সার বার্তা সংস্থা এনাকে বলেন, ডিভি লটারীতে জয়ী হবার পর ব্র্যাকের চাকরি ছেড়ে দেন দীন মোহাম্মদ খান। তিনি নারায়নগঞ্জস্থ ব্র্যাকের এরিয়া ম্যানেজার ছিলেন। তার স্ত্রীও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের চাকরি থেকে অবসর নেন। উল্লেখ্য যে, মিসেস খানই জিতেছিলেন লটারীতে। বড় ছেলে আসিফ খান মুন্না (১৭)ঢাকা বোর্ড থেকে বিশেষ কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পাশ করে এসে নিউইয়র্কে ভর্তি হয়েছে একাদ্বশ গ্রেডে। ছোট ছেলে ভর্তি হয় চতুর্থ গ্রেডে। তার নাম সাকিব খান অনির (৯)। এ বাসায় উঠার আগে পার্শ্ববর্তি ৭২ স্ট্রীট এবং ৩৭ এভিনিউতে একটি রুম ভাড়া করে ছিলেন। বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশী আয়-রোজগার হবে-এ প্রত্যাশা লালন করতেন এ দম্পতি। কিন্তু সাড়ে ৩ মাসেই তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে আমেরিকার জীবন অতটা সহজ নয়-যতটা বাংলাদেশে ভেবেছিলেন। এ নিয়ে প্রচন্ড হতাশায় ভুগছিলেন তারা সকলেই। কয়েক সপ্তাহ আগে দীন মোহাম্মদ খান এল্মহার্স্ট হাসপাতালে গিয়েছিলেন। তাকে ঘুমের ট্যাবলেট দেয়া হয় মানসিক দুশ্চিন্তা থেকে দূরে রাখার অভিপ্রায়ে-এ তথ্য জানিয়েছেন তার কয়েকজন আত্মীয়। আরো জানা গেছে, সামনের মাসেই তারা এ বাসা ছেড়ে আরো কম ভাড়ায় অর্থাৎ মাসে ১৩০০ ডলারে জ্যাকসন হাইটসেরই সব্জিমন্ডির উল্টো পাশের এপার্টমেন্টে উঠার কথা। তার আগেই ঘটে গেল এ বিপত্তি। আনিস কায়সার এনাকে আরো বলেন, আমার ভায়রা দীন মোহাম্মদ খান ২৩ অক্টোবর সকাল ৯টায় বাসা থেকে বের হন। সন্ধ্যা নাগাদ বাসায় না ফেরায় স্ত্রী-সন্তান এবং পরিচিতজনেরা সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারা নিকটস্থ ১১৫ নম্বর প্রেসিঙ্কটে যান। পুলিশ অফিসার বিস্তারিত অবহিত হন কিন্তু তাৎণিকভাবে কোন পদপে নেননি বলে জানা যায়। যে ভবন থেকে দীন মোহাম্মদ খানের লাশ উদ্ধার করা হয় সে ভবনের নীচে অবস্থিত খাবার বাড়ি রেস্টুরেন্ট। সে রেস্টুরেন্টের মালিক কম্যুনিটি লিডার হারুন ভূইয়া এনাকে বলেন, ২৪ অক্টোবর সকালে ঐ ভবনের সুপার জনাব আলী আমাকে ডাকেন, সাথে ছিল ইলেকট্রিসিয়ান। তিনি খুঁজে পাচ্ছিলেন না ইলেকট্রিক সার্কিটের বক্স। জনাব আলী এ পেশায় নতুন বলে আমি তাকে সহযোগিতা করতে যাই। সবগুলো তলায় সিড়ি বেয়ে দেখতে দেখতে তৃতীয় তলায় ফায়ার স্ক্যাপ এক্সিটের দিকে যেতেই দেখি একজন পড়ে রয়েছেন। বিল্ডিং সুপার আঁৎকে উঠেন এবং বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। প্রত্যদর্শীরা মনে করছেন, সিঁড়ির উপর যেভাবে তার লাশ পড়েছিল তা দেখে কখনোই বিশ্বাস হয় না যে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে এলমহার্স্ট হাসপাতালের আশপাশে আরো কয়েকটি মৃত্যু এভাবেই ঘটেছে-যেগুলোর হদিস নিয়ে কম্যুনিটিতে জল্পনা-কল্পনার অবসান এখনো ঘটেনি। যদিও তাদের মৃত্যুর কারণ আত্মহত্মা বলে সার্টিফিকেট দেয়া হয়েছে। দীন মোহাম্মদ খানের মৃত্যু রহস্য সেভাবেই অনুদ্ঘাটিত হয়েই থাকবে কিনা সে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এদিকে সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় জ্যাকসন হাইটসে আগত সকল প্রবাসী গভীর কৌতুহল নিয়ে ঐ ভবনের কাছে যাচ্ছেন, পরিচিতজনদের কাছে বিষয়টি জেনে প্রচন্ড হতাশা ব্যক্ত করছেন। সকলেই ভেবে অবাক হচ্ছেন, সাড়ে ৩ মাস প্রবাস জীবনে এমন কি ঘটলো, যে জন্য স্ত্রী-সন্তান রেখে আত্মহত্যার পথ বেঁছে নিতে হবে? নাকি এটা কোন হত্যাকান্ড-এ জিজ্ঞাসাও অনেকের। আবার কেউ কেউ মন্তব্য করছেন, এত স্বল্প সময়ে এমন ভয়ংকর শত্রু তৈরী হওয়া কি সম্ভব? নাকি বাংলাদেশ থেকেই অনুসরণ করা কোন শত্রুতার জীবন কেড়ে নিল আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে? দীন মোহাম্মদ খানের স্ত্রী এবং তার ছোটবোন বিলাপ করছেন এবং তারা কোনভাবেই এ মৃত্যুকে মেনে নিতে চাচ্ছেন না। কী হবে এখন স্কুলগামী মুন্না আর অনির-এ শংকা গ্রাস করছে তাদের মাকে। দীন মোহাম্মদ খানের লাশ প্রেরণ থেকে শুরু করে যাবতীয় ব্যয়ভার কম্যুনিটির সুহৃদদের বহন করতে হবে বলে জানান সকলে। লাশের সাথে তার সন্তান অথবা স্ত্রীকে পাঠাতে হলেও টিকিটের ব্যবস্থা করতে হবে হৃদয়বান প্রবাসীদের-এ অভিমত ঐ ভবনের লোকজনের। এদিকে সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দীন মোহাম্মদ খানের লাশ রাখা হয়েছে কুইন্স হাসপাতাল সেন্টারের মর্গে। ২৪ ঘন্টা পর নিউইয়র্ক সিটি মেডিক্যাল এক্সামিনার কর্তৃক যাবতীয় পরীা শেষে লাশ হস্তান্তর করা হবে। প্রবাসী মানিকগঞ্জবাসী এবং চুয়াডাঙ্গাবাসী সম্ভাব্য সবধরনের অর্থ সহায়তা দিতে অঙ্গিকার করেছেন।
- Bangladesh Secures Historic Victory in UNGA Presidency
- New York Attorney General James Secures Refunds for All New Yorkers Cheated by Nissan Dealerships’ Lease Overcharge Schemes
- নিউইয়র্কে নতুন সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘হৃদয় বীণা সংগীতালয়’র যাত্রা শুরু
- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে নিউইয়র্কে ‘জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী’র দোয়া মাহফিল
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বিজয়
- নিউইয়র্কে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পরিবার নিউইয়র্ক সিটি’র উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন
- নিউইয়র্ক স্টেট এসেমব্লি ডিস্ট্রিক্ট ৮৭’র নির্বাচনে কারিনা-জাকির মুখোমুখি
- NYIC Action Endorses Immigrant Champions and New Voices for NYS Legislature