ডাইনোসররা যেভাবে পাখি হয়ে গেল!
জুরাসিক পার্কের অতিকায় ডাইনোসররা বিলুপ্ত হয়ে গেছে বলেই শিশুদের বলে আসছি আমরা। কিন্তু এখনো ডাইনোসরের প্রায় ১০ হাজার প্রজাতি টিকে আছে পাখি হয়ে! বিজ্ঞানীরা এমনটাই বলছেন। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও রয়্যাল ওনটারিও মিউজিয়ামের এক যৌথ গবেষণার পর সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, কীভাবে ডাইনোসরের অনেক প্রজাতির খুব দ্রুত বিবর্তন ঘটেছে এবং কীভাবে তারা পাখি হয়ে গেল। ইন্দো-এশিয়ান নিউজ এ খবর জানিয়েছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, আদিম যুগে ব্যাপক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নতুন বাস্তুসংস্থানে খাপ খাইয়ে নিতে একটা নির্দিষ্ট সময় ধরে ডাইনোসরের শরীর দ্রুত সংকুচিত হয়েছে। এভাবে বিবর্তনের মধ্য দিয়ে এদের অনেকগুলো প্রজাতি পাখিতে পরিণত হয়ে টিকে থেকেছে। জুরাসিক পার্কে দেখা যাওয়া ভেলোসিরাপটোর এবং অন্যান্য রূপের ডাইনোসররাও বিবর্তনের এই দলভুক্ত। ১৫ গ্রাম থেকে তিন টন ওজনের এই প্রজাতিগুলো প্রায় সর্বভূক শ্রেণীর এবং তারা মাংস, উদ্ভিদসহ অনেক কিছুই খেত।
অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির আর্থ সায়েন্সেস বিভাগের রজার বেনসন বলেন, ‘ডাইনোসর থেকে পাখি হয়ে যাওয়া প্রজাতিগুলোর দেহাবশেষের মধ্যে বিপুল আকৃতিগত পার্থক্য দেখতে পেয়েছি আমরা, বিশেষ করে পালকবিশিষ্ট ম্যানিরেপটোরানস প্রজাতির মধ্যে।’
এই গবেষণার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক দলের নেতৃত্বে ছিলেন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও রয়্যাল ওনটারিও মিউজিয়ামের বিজ্ঞানীরা। তাঁরা ৪২৬ প্রজাতির ডাইনোসরের দেহাবশেষের নানা মাপজোখ করেন। পায়ের হাড়ের পুরুত্ব ও ওজনের তারতম্যের ওপর ভিত্তি করে এই পার্থক্য বিশ্লেষণ করেন বিজ্ঞানীরা। তাঁরা দেখতে পেয়েছেন, প্রজাতির উদ্ভবের একটা নির্দিষ্ট সময় পর এখন থেকে প্রায় ২২ কোটি বছর আগে দ্রুতগতিতে পাল্টাতে থাকে ডাইনোসরের আকৃতি।
অবশ্য, একটা সময় পর ডাইনোসরের এই দ্রুত বিবর্তন ধীর হয়ে আসতে থাকে। কিন্তু পাখিকুলে বিবর্তিত হওয়া এই প্রজাতিগুলোর বিবর্তন চলতেই থাকে আরও প্রায় ১৭ কোটি বছর ধরে। আর এই পাখিকুলে বিবর্তিত ডাইনোসরই পৃথিবীজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট নতুন বাস্তুসংস্থানের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম হয়।
গবেষক দলটির সদস্য সুইডেনের উপসালা ইউনিভার্সিটির নিকোলাস ক্যামপিয়নে জানান, ডাইনোসরের ওজন নির্ণয়ের ক্ষেত্রে তাঁরা পায়ের হাড়ের পুরুত্ব ও আকৃতিকে ভিত্তি হিসেবে ধরে প্রথমে ওই হাড়ের ওজন বের করেন। পরে আনুপাতিক হিসাব কষে আস্ত ডাইনোসরটির আনুমানিক ওজন বের করেন। নিকোলাস বলেন, ‘দেখা গেছে, আরজেনটিনোসোরাস নামের সবচেয়ে বড় আকৃতির ডাইনোসরের ওজন প্রায় ৯০ টন, যা কিনা সবচেয়ে ছোট প্রজাতির ডাইনোসরের ওজনের প্রায় ৬০ লাখ গুণ বেশি। চড়ুইপাখির মতো ছোট আকৃতির সবচেয়ে ছোট প্রজাতির ডাইনোসরের নাম কিলিয়ানা। এদের ওজন মাত্র ১৫ গ্রাম। এগুলোকে মেসোজায়িক ডাইনোসর বলা হয়।
পৃথিবীতে ডাইনোসর যুগের প্রথম ১৬ কোটি বছরজুড়ে নানা প্রজাতির ডাইনোসরের সম্পূর্ণ বংশধারার নমুনা থেকে ওই প্রজাতিগুলোর দেহকাঠামো ও আকৃতির বিবর্তন বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছে গবেষক দলটি। প্লস বায়োলজি সাময়িকীতে ছাপা হয়েছে বিজ্ঞানীদের এই গবেষণা প্রতিবেদনটি। প্রথম আলো
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ ইনকের শরৎ উৎসব ও ফ্যামিলি নাইট
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে ‘কল সেন্টার’ চালু
- নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের নয়া কমিটির বর্ণাঢ্য অভিষেক এবং ১৩তম চার্টার বার্ষিকী উদযাপন
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About Student Loan Scams
- Justice, equality and human rights essential to building a lasting culture of peace: Irene Khan
- ন্যায়বিচার, সমতা ও মানবাধিকারই টেকসই শান্তির সংস্কৃতি গড়ার ভিত্তি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
- যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে চায় : স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক সারাহ
- নিউইয়র্কে মুসলিম কমিউনিটি ও আহলে সুন্নাতুল জামাতের ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) মাহফিল