সমাজ বদলে দেয়ার মানুষ
|
ই উএসএনিউজ ডেস্ক: তাদেরকে বলা যেতে পারে সমাজ বদলে দেয়ার মানুষ। তারা অন্যের ব্যথায় ব্যথিত হন। ক্ষুধিত মানুষের যন্ত্রণা তাদেরকে অস্থির করে তোলে। তাই সিএনএন’র ‘হিরো অব দি ইয়ার’-এর সংক্ষিপ্ত তালিকায় ১০ জনের মধ্যে স্থান করে নিয়েছেন ভারতের ২৯ বছর বয়সী শেফ নারায়নন কৃষ্ণান। প্রতিদিন তিনি ৪০০ দুস্থ মানুষের খাবার যোগান দেন।
দুস্থদের খাবারের ব্যবস্থা করতে একটি অলাভজনক সংস্থাও প্রতিষ্ঠা করেছেন। সমাজ বদলে দেয়ার লক্ষ্যে যারা কাজ করেন, তাদের স্বীকৃতি দিতেই প্রতি বছর সিএনএন ‘হিরো অব দি ইয়ার’ সম্মাননা দিয়ে থাকে। সিএনএন’র বিশেষ প্যানেল ১০,০০০ প্রার্থীর মধ্য থেকে সংক্ষিপ্ত তালিকার এই ১০ জনকে নির্বাচিত করেছেন। আগামী ২৫শে নভেম্বর এই ১০ জনের ভেতর থেকেই হিরো অব দি ইয়ার ঘোষণ করা হবে। শীর্ষ দশে নারায়নন ছাড়াও রয়েছেন প্রতিদিন চার লাখ শিশুর জন্য বিনামূল্যে খাবার সরবরাহকারী স্কটিশ ম্যাগনাস ম্যাকফারলেন-বারো, কম্বোডিয়ার ভূমিমাইন অপসারণকারী সাবেক শিশুসেনা আকি রা এবং নেপালের মেয়েদের নারী পাচার ও যৌন নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা করতে তৎপর অনুরাধা কৈরালা। ভারতের নারায়নন ২০০৩ সালে অলাভজনক সংস্থা অক্ষয় ট্রাস্ট গঠন করেন। তিনি প্রতিদিন তিনবেলা করে এ পর্যন্ত ১২ লাখের বেশি বার মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করেছেন। তার খাবার গ্রহীতারা বেশির ভাগই বয়সে প্রবীণ এবং পরিবারের কাছ থেকে নিগৃহীত। সিএনএন তার সম্পর্কে বলেছে, নারায়নন বছরের ৩৬৫ দিনই গৃহহীন আর দুস্থদের মাঝে গরম খাবার বিতরণের মাধ্যমে তাদের সম্মান জানিয়েছেন। সিএনএন’র এই ১০ শীর্ষ ব্যক্তিকে বিশ্বের ১০০টি দেশের সিএনএন দর্শকরাই মনোনয়ন দিয়েছেন। এ শীর্ষ দশের প্রত্যেককেই আগামী ২৫শে নভেম্বর লস এঞ্জেলসে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্মান জানানো হবে। সেই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২৫০০০ ডলার করে পুরস্কার দেয়া হবে। অনলাইন ভোটের মাধ্যমে এ বছরের হিরো অব দি ইয়ার নির্বাচিত ব্যক্তিকে দেয়া হবে আরও এক লাখ ডলার। ফাইভ স্টার হোটেলের পুরস্কার জয়ী শেফ নারায়নন বেশ ভাল চাকরির প্রস্তাব পেয়ে সুইজারল্যান্ডস যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু ইউরোপ পাড়ি দেয়ার আগে তিনি নিজের বাড়িতে ঘুরে আসার পরিকল্পনা করেন। আর এতেই তার সব পরিকল্পনা বদলে যায়। সিএনএনকে নারায়নন বলেছেন, আমি দেখলাম অতি বৃদ্ধ এক ব্যক্তি পেটের ক্ষুধা মেটাতে নিজেরই মলমূত্র খাচ্ছেন। বিষয়টি আমাকে সাংঘাতিক আহত করে। এই ঘটনা পর তিনি এক সপ্তাহের মধ্যেই নিজের চাকরি থেকে ইস্তফা দেন। নিজের দেশের বৃদ্ধ এবং দুস্থদের সেবার জন্য তিনি অক্ষয় ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠা করেন। সহযোগীদের নিয়ে নারায়নন ইতোমধ্যে ১২৫ মাইল এলাকায় খাবার বিতরণ করেছেন। নিজের তৈরী এবং প্যাকেট করা খাবার দিয়ে তিনি প্রতিদিন ৪০০ মানুষের ক্ষুধা নিবারণ করেন। তার এ খাবারের পেছনে দৈনিক ৩২৭ ডলার খরচ হলেও দাতাদের দেয়া অর্থে মাত্র ২২ দিন চলে। বাকিটা তাকেই ব্যবস্থা করতে হয়।
|
সর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশি আমেরিকা পুলিশ কর্মকর্তার নামে সড়ক ‘ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলাম ওয়ে’
- ECOSOC recommends UN General Assembly to take decision on Bangladesh and Nepal’s LDC graduation extension requests
- ইকোসকের সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সাধারণ পরিষদ
- Bangladesh co-chairs multi-stakeholder panel session on Global Road Safety, calls for stronger institutions to save lives
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে বাংলাদেশের যৌথ-সভাপতিত্ব; প্রাণহানি কমাতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার আহ্বান
- Road Transport Minister reaffirms Bangladesh’s commitment to halving road traffic deaths by 2030
- বাংলাদেশে ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর
- ধুমকেতু ছিনিয়ে নেয় সম্মোহনী টিয়েম্পো: ইয়ামালের উদ্দেশ্যে ফুটবল পদাবলি