জাতিসংঘে নারীদের জন্য অবারিত সুযোগ
নাশরাত আর্শিয়ানা চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র : জাতিসংঘে নারীদের জন্য অবারিত সুযোগ। কিন্তু আমরা সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছি না। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন চাইছেন জাতিসংঘের স্টাফদের মধ্যে বেশিরভাগই নারীকর্মী নিয়োগ দিতে। তার পরিকল্পনায় রয়েছে কমপক্ষে ৫০ ভাগ নারী হতে হবে। আর এই জন্য তিনি বিভিন্ন দেশের নারীদের এখানে নিয়োগ দিচ্ছেন। আমাদের বাংলাদেশের নারীরা এই ক্ষেত্রে তেমন এগিয়ে আসছে না। এই তথ্য দিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে তার কার্যালয়ে বসে তিনি আমাদের সময় ডটকম ও আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে এই সব কথা বলেন। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের ৮৫০০ জন জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশনে রয়েছেন। এই মিশনে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সৈন্য প্রেরণকারী দেশ। তা হলেও নারীদের সংখ্যার দিক থেকে আমরা পিছিয়ে আছি। মিশনে সেনাবাহিনীর ৬২ জন নারী সদস্য রয়েছেন। এছাড়াও পুলিশের ১২০০ জনের মধ্যে ৫৯১ জন মিশনে এসেছেন। কিন্তু এই সংখ্যা খুব কম। এখানে জাতিসংঘে কয়েক হাজার নারী পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তাকে সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সেটা পারছি না। চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশ দিতে পারছে না। নারী সেনা সদস্য সংখ্যা কম। আবার পুলিশের কাছ থেকেও নারী কর্মকর্তা ও নারী সদস্য মিলছে না। অথচ এই সেক্টরে অনেক বেশি সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ যদি আরো বেশিসংখ্যক নারী সেনা ও পুলিশ সদস্য দেয় আমি তাদেরকে জাতিসংঘে সম্পৃক্ত করতে পারবো।
এছাড়াও জাতিসংঘে বাংলাদেশের মেধাবী নারীদের চাকির দেয়ার সুযোগ রয়েছে। একজন নারী মেজর জেনারেল পেলে তাকে ডেপুটি মিলিটারি অ্যাডভাইজার করতে পারি। এটা অনেক সম্মানজনক পদ। কিন্তু সেটাতো পাচ্ছি না। কারণ নারী সেনা কর্মকর্তারা এখনও অতদূর পর্যন্ত যেতে পারেননি। আমাদের দেশের ১৫ জন সম্প্রতি জাতিসংঘে রেগুলার চাকরিতে ঢোকার সুযোগ পেয়েছেন। তারা অনেক প্রতিযোগিতা করেই ঢুকেছেন। তাদের সম্ভাবনা অনেক। এরমধ্যে একজন নারী কর্মকর্তা রয়েছেন। রেগুলার জবে নতুন কেউ ঢুকতে চাইলে কঠিন হবে। কারণ আমরা এই বছর আমাদের কোটা পূরণ করে ফেলেছি। নিয়ম অনুযায়ী আমরা যে পরিমাণ টাকা জাতিসংঘে দেই সেই অনুযায়ী কোটা পাবো। এখন আমরা দিচ্ছি দশমিক শূন্য শূণ্য ১৯ ভাগ। যে সব দেশ কম টাকা দেয় আমরা সেই দেশগুলোর মধ্যে একটি। তবে সবেচেয় কম নয়। তিনি বলেন, এই টাকার পরিমাণ বাড়ালে কোটা বাড়বে। তবে আমরা সেটা চাইছি না। আমরাই কেবল নই এই খাতে কেউ টাকার পরিমাণ বাড়াতে চাইছে না।
ড. আব্দুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশের একজন আইনজীবী কিংবা বিচারক নেই জাতিসংঘে। অথচ এটা দেওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে এই পদে লোক দেওয়ার জন্য কখনো কোনো নামই পাঠানো হয় না। যদি এই পদে একজন আইনজীবী কিংবা বিচারককে নিয়োগ পাওয়ার জন্য বাংলাদেশ উদ্যোগ নেয় এবং প্রার্থী যদি নারী হন তাহলে আরো ভালো হয়। আমি এর আগে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে বলেছি। কিন্তু তারা উদ্যোগ নেননি। এখনও মনে করি আইন মন্ত্রণালয় এই ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে পারে। এর আগে আমি প্রধান বিচারপতিকেও বিষয়টি জানিয়েছি।
এখানে আমাদের একজন লিগ্যাল জাজ থাকলে অনেক ভালো হতো। আমি এখানে আসার পর অনেক পদে নির্বাচন করে জয়ী হয়েছি। জাতিসঘে বিভিন্ন কমিটিতে ৪২টি পদ পেয়েছি। আরো ৮-৯টা কমিটিতে জয়েন করিনি। বাংলাদেশের এত পদে জয়ী হওয়ার পেছনের কারণ হলÑ বাংলাদেশকে মানুষ ভোট দেয়। তিনি বলেন, ভোট আমার ব্যক্তিগত ইমেজ বিবেচনা করে দেয় না। এটা দেয় বাংলাদেশকে ভালোবেসে। আমরা যদি একজন লিগ্যাল জাজ দিতে পারি এই পদে একবার একজন নির্বাচিত হলে তিনি সাত বছর থাকতে পারবেন। এটা একটা বড় সুযোগ।
আমি নারীদের বিষয়টাকে এখানে আরো গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে চাই। কোন কোন পদে বেশিসংখ্যক তাদের সম্পৃক্ত করা যায় সেই চেষ্টাই করবো।আমাদের সময়.কম
মোমেন – ক্রাউলীর বৈঠক! বাংলাদেশ অর্থনৈতিক
ও সামাজিক ক্ষেত্রে বিশেষ সাফল্য অর্জন করেছে :
জোসেফ ক্রাউলী
জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি ড.এ.কে আব্দুল মোমেন নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুরে মার্কিন কংগ্রেসম্যান জোসেফ ক্রাউলী এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হন। জোসেফ ক্রাউলী বাংলাদেশ সম্পর্কে বলেন, দেশটি অতি দ্রুতই উন্নতি লাভ করেছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে বিশেষ সাফল্যের জন্য তিনি স্থায়ী প্রতিনিধিকে স্বাগত জানান। এ সময় উভয়ে দু’দেশের স্বার্থে ‘উইন উইন’ অবস্থায় মধুর সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন।
কংগ্রেসম্যান জো ক্রাউলী বিশেষ করে ব্যবসা, বিনিয়োগ, ভ্রমন এবং যোগাযোগ ক্ষেত্রে দুটি দেশের মধ্যে বন্ধুত যেন আরো সুদৃঢ় হয় সে লক্ষ্যে মার্কিন কংগ্রেসে বাংলাদেশ ককাস প্রতিষ্ঠা করেন। ড. মোমেন ক্রাউলীকে বলেন, বাংলাদেশ এক সময় ছিল তলাবিহীন ঝুড়ি কিন্তু আজ তা পরিবর্তিত হয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশ্বের মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে এবং দেশটি দারিদ্রসীমা অর্ধেকেরও নীচে নামিয়ে এনেছে এবং মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল অর্জনের পথে রয়েছে। বিগত পাঁচ বছরে যেখানে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল শতকরা -০.৫ থেকে ১.৫, সেখানে বাংলাদেশ সব সময় জিডিপি বৃদ্ধির হার শতকরা ৬ এ রাখতে সক্ষম হয়েছে। এটা হচ্ছে স্পন্দনশীল অর্থনীতি এবং মার্কিন বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে দেশে-বিদেশে অধিকতর চাকরী তৈরী করতে পারত।
ড. মোমেন বলেন, ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পন্য বাংলাদেশে আমদানি বেড়েছে প্রায় ৪২% কিন্তু সে তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানীর পরিমান বেড়েছে মাত্র ৯%। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ এলডিসিভুক্ত দেশ হওয়া সত্ত্বেও রপ্তানীর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে ১৬% থেকে ৩২% পর্যন্ত শুল্ককর দিতে হয়। যেখানে উন্নত দেশ মাত্র ০.৫% থেকে ২% অথবা বিনা শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে পন্য রপ্তানী করে। যুক্তরাষ্ট্র গরীবের বন্ধু বলে পরিচিত কিন্তু এক্ষেত্রে তার ব্যাত্যয় লক্ষণীয়। এ প্রসঙ্গে ক্রাউলী স্থায়ী প্রতিনিধিকে আস্বস্ত করে বলেন, টেরিফ রেট নিয়ে কি করা যায় তা নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলবেন। বিশেষ করে তৈরী পোশাকসহ বাংলাদেশী পন্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানীর ক্ষেত্রে কেন ১৬% হারে শুল্ককর দিতে হচ্ছে সেটি তিনি খতিয়ে দেখবেন।
ড. মোমেন আরো বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিকারভাবে বাংলাদেশের দরিদ্র মহিলাদের সহায়তা করতে চায় তবে উচিত হবে বিনাশুল্কে পন্য রপ্তানীর সুযোগ দেওয়া। অন্ততপক্ষে ২/৩ বছরের জন্য হলেও এ সুযোগ পেলে বাংলাদেশী গার্মেন্ট মালিকেরা শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্র আরো বেশী নিরাপদ ও নিরাপত্তা দিতে পারতো। তিনি বলেন নব্বই দশকে শিশুশ্রম বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র – বাংলাদেশ একটি আদর্শ ব্যবস্থা গ্রহন করে যার ফলে শিশুশ্রম দূর হয় এবং তাদের পরিবারকে রাস্তায় অমানবিক জীবন পালন করতে হয়নি। বর্তমানে তৈরী পোষাক কারখানার নিরাপত্তার বিষয়টি এবং যাতে শিল্পশ্রমিক চাকরি না হারায় তার একটি মানবিক সমাধান প্রয়োজন।
কংগ্রেসম্যান জো ক্রাউলী বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ.কে আব্দুল মোমেনকে আশ্বস্ত করে বলেন নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও অর্থনীতির মত অন্যসব ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বার্থে তাদের এ ধরনের বৈঠক অব্যাহত থাকবে। স্থায়ী প্রতিনিধি জো ক্রাউলীকে বাংলাদেশ ভ্রমনের আমন্ত্রণ জানান। বৈঠকে বাংলাদেশ দূতাবাস ওয়াশিংটনের চার্জ দ্যা এফেয়ার্স মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত উপস্থিত ছিলেন।
- New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners
- এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ
- নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া
- নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব
- Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone
- যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট
- Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan
