নিউইয়র্কের স্মরণ সভায় বক্তারা: হুমায়ূন আহমেদ তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমে বেঁচে থাকবেন
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম, নিউইয়র্ক: হুমায়ূন আহমেদ তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমে বেঁচে থাকবেন। সেটা কতদিন সময় বলবে। কাল বলবে। তবে তিনি তাঁর সময়ে বাংলাদেশের প্রকাশনাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছে দিয়েছেন। এই অনুষ্ঠানে এখনো তাঁর প্রতি, গত বছরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীর মতোই আবেগ রয়েছে। আস্তে আস্তে সুপারস্টার হুমায়ূন আহমেদ থেকে লেখক হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য নিয়ে কথা হবে, একাডেমিক আলোচনা হবে। গত ১৯ জুলাই মুক্তধারা ফাউন্ডেশন আয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে ‘হুমায়ূন আহমেদ স্মরণে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের শ্রদ্ধার্ঘ্য’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তারা উপরোক্ত মতামত ব্যক্ত করেন। ১৯ জুলাই সকাল ১০টা থেকে হুমায়ূন আহমেদের লেখা গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে দুদিনব্যাপী অনুষ্ঠান শুরু হয় জ্যাকসন হাইটসের মুক্তধারায়। লেখকের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দুশতাধিক গ্রন্থের প্রদর্শনী ছাড়াও লেখকের ওপর জাপানের হুজ হু কর্তৃক প্রচারিত ডকুমেন্টারিটি প্রদর্শন শেষে হুমায়ূন আহমেদের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয় সন্ধ্যা ৭টায়। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেখক প্রবান্ধিক হাসান ফেরদৌস, বাংলাদেশ থেকে আগত শিশু সাহিত্যিক হুমায়ূন কবীর ঢালী, সাংবাদিক মঞ্জুর আহমেদ এবং নাসিমুন নাহার নিনি। অনুষ্ঠানের শুরুতে হুমায়ূন আহমেদো প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
হাসান ফেরদৌস বলেন, হুমায়ূন আহমেদ চমৎকার গল্প বলতেন। এই কৃতিত্ব তাঁকে দিতে হবে। তবে তাঁর লেখা কতটুকু সাহিত্য হয়ে উঠেছে তা আলোচনার বিষয়। গল্প বলা একজন সাংবাদিকের কাজ। সাহিত্যিকের নয়। সাহিত্যিক মানুষের অন্তরজগৎ উদ্ভাসিত করে। সে কারণেই লেখককে ¯্রষ্টার সঙ্গে তুলনা করা হয়। হাসান ফেরদৌস আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধ কোন কল্প কাহিনী নয়। মুক্তিযুদ্ধ জনজীবনের গল্প। সে গল্পকে হুমায়ূন আহমেদ সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য ও পাঠযোগ্য হিসেবে আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন।
লেখক-সাংবাদিক ও মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বজিত সাহার সঞ্চালনে অনুষ্ঠিত সভায় সাংবাদিক মঞ্জুর আহমেদ বলেন, এখন সময় এসেছে আবেগের বাইরে গিয়ে হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য নিয়ে একাডেমিক আলোচনার। হুমায়ূন আহমেদ কলকাতা কেন্দ্রীক সাহিত্য থেকে বাংলাদেশে একটি নতুন সাহিত্য জগৎ সৃষ্টি করেছেন। সাংবাদিক নাসিমুন নাহার নিনি বলেন, হুমায়ুন আহমেদ বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছে দিয়েছেন। বাংলাদেশ আগত শিশু সাহিত্যক হুমায়ূন কবীর ঢালী বলেছেন, হুমায়ূন আহমেদ এমন একজন লেখক অনেকেই তাঁর সমালোচনা করেছেন জীবদ্দশায়। মৃত্যুর পর আবার সবচেয়ে বেশী হুমায়ূনপ্রেমী হয়ে উঠেছেন। আবার অনেকে হুমায়ূন আহমেদের মতো হওয়ার চেষ্টাও করেছেন। আসলে হুমায়ূন ছিলেন তাঁর সা¤্রাজ্যের স¤্রাট।
বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ও টাইম টেলিভিমনের সিইও আবু তাহের তাঁর স্মৃতিচারণে হুমায়ূন আহমেদের সাথে তাঁর বিভিন্ন স্মৃতি তুলে ধরেন। স্মরণসভায় অধ্যাপিকা হুসনে আরা বলেছেন, হুমায়ূন আহমেদ তাঁর লেখা দিয়ে নীরবে বহমান নদীর মতো বয়ে যাওয়ার সৃষ্টিকে মুগ্ধ করেছেন। লেখক গাজী কাশেম বলেন, হুমায়ূন আহমেদ নীরবে একাকী কাঁদতেন। তাঁর এই কান্না আমি অনেক দেখেছি। তাঁর শেষ জীবনে অনেক কষ্ট পেয়েছিলেন তিনি। এছাড়া সভায় বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মেজর অবঃ এহসান উল্লাহ, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাল্হাউদ্দীন আহমেদ, শিল্পকলা একাডেমীর সভাপতি মনিকা রয়, ব্লগার তানভীর রাব্বানী, লেখক-প্রকাশক এবিএম সালেহউদ্দীন, সাংস্কৃতিক কর্মী গোপাল সান্যাল প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।
প্রায় সারাদিনই নিউইয়র্কের বিভিন্ন বরো থেকে হুমায়ূন ভক্তরা মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। উল্লেখ্য, জন্মদিন, মৃত্যু বার্ষিকীতে হুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ করা ছাড়াও ২০১২ সালে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন লেখকের উপস্থিতিতে নিউইয়র্কে দুদিনব্যাপী হুমায়ূন মেলার গোড়াপত্তন করে। আগামিকাল ২০ জুলাই সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত হুমায়ূন আহমেদের গ্রন্থ, চলচ্চিত্র ও গানের প্রদর্শনী চলবে। কাল বিকেল ৫টায় থাকছে হুমায়ূন আহমেদের লেখা, কবিতা পাঠ ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনী।
- New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners
- এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ
- নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া
- নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব
- Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone
- যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট
- Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan