যে কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ছুটছে হন্ডুরাসের শিশুরা
তারা বিপজ্জনক এক সফরে যাচ্ছে। কিশোর ক্রিস্তিয়ানকে বলেছিল তার ঘনিষ্ঠ দুই বন্ধু আলেকজান্ডার ও জাইরো। দেশজুড়ে অপরাধী দলগুলো যে সহিংস তাণ্ডব চালাচ্ছে, এর প্রভাববলয় থেকে রক্ষা পেতে তাদের দেশছাড়ার এই ঝুঁকি নেওয়া।
একসময় এই তিন কিশোরের বাড়ি হন্ডুরাসের রাজধানী তেগুচিগালপায়। এখন সেখানে শুধু ক্রিস্তিয়ানই থাকে, অন্য দুজন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পালানোর পথ বেছে নিয়েছে। শেষ পর্যন্ত দুই বন্ধুর ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা আর জানে না ক্রিস্তিয়ানো।
আজ সোমবার এএফপির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মারা সালভাতরুচা ও ব্যারিও ১৮ নামের আরেকটি সংঘবদ্ধ চক্র মিলে হন্ডুরাসে মাদক আর সন্ত্রাসের রাজ্য গড়ে তুলেছে। এই চক্রের সদস্যরা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে চালাতে শিশু-কিশোর-তরুণদের জোর করে নিজেদের দলে নেয়।
ক্রিস্তিয়ান জানায়, তারা শিশুদের দিয়ে মাদক বিক্রি করায়। শিশুদের নানাভাবে ভয় দেখায়। তারা তরুণদের তুলে নিয়ে গিয়ে মাদক বিক্রি করতে বাধ্য করে। আপত্তি জানালে হত্যার হুমকি দেয়, হত্যাও করে। এই ভয়ে তার দুই বন্ধু পালিয়ে গেছে বলে সে দাবি করল।
সম্ভবত এ কারণেই পালানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে দুই বন্ধু ক্রিস্তিয়ানকে বলেছিল, ‘এ কথা গোপন রেখো, কাউকে বলো না।’ বন্ধুরা না যাওয়া পর্যন্ত এ কথা কাউকে বলেনি এই কিশোর।
এই অপরাধ চক্রের দৃষ্টি থেকে দূরে থাকতে ক্রিস্তিয়ানকে অনেকটা বন্দীর মতো জীবনযাপন করতে হয় বলে জানাল সে। তার ভাষায়, ‘বিদ্যালয় থেকে দৌড়ে বাড়ি যাই। তারপর রাস্তায় কোথাও না থেমেই কমপারটির নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তরে যাই কাজ শিখতে।’ সেখানে ক্রিস্তিয়ান ঝালাইয়ের কাজ শিখছে।
ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সন্ত্রাস পর্যবেক্ষক দলের হিসাব মতে, হন্ডুরাসে প্রতি লাখে ৭৯ জন খুন হয়। এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ খুনের হার। আর মার্কিন বেসরকারি সংস্থা কাসা আলিয়াঞ্জার হিসাবে, ১৯৯৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে ২৩ বছরের কম বয়সী ৯ হাজার ৬৪১ জন খুন হয়েছে।
মাদক, খুন আর অপরাধের এমন বিভীষিকাময় জীবন ছেড়ে সুন্দর জীবনের স্বপ্নে বিভার হয়ে এখানকার শিশু-কিশোরো যেকোনো উপায়ে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যেতে চায়। তবে অবৈধ অভিবাসন নিরুৎসাহিত করতে তৎপর যুক্তরাষ্ট্র। বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা হোয়াইট হাউসে হন্ডুরাস, এল সালভাদর ও গুয়াতেমালার সরকারপ্রধানদের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। সীমান্তে সীমান্তরক্ষী ও অভিবাসন বিচারক বাড়াতে ওবামা ৩৭০ কোটি ডলার চেয়েছেন কংগ্রেসের কাছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই তিন দেশের শিশুরা দারিদ্র্য ও সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের কবল থেকে মুক্তি পেতে নানা কৌশলে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। মার্কিন সীমান্ত টহল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত বছরের অক্টোবর থেকে এ বছরের আগস্ট পর্যন্ত ৬১ হাজার ৫৮১টি শিশু সঙ্গীহীন অবস্থায় মেক্সিকোর সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকেছে।
তবে বন্ধুদের মতো পালাতে চায় না ক্রিস্তিয়ান। সে বড় হয়ে সৈনিক হতে চায়। আর নিজেকে ও আশপাশের শিশুদের রক্ষা করার জন্য সে একটি বন্দুক বহনের অধিকার চায়।
আর কমপারটির নামের বেসরকারি সংস্থাটির প্রশাসক ইয়াদিরা সাউচেদা মনে করেন, সমস্যার কারণগুলো চিহ্নিত করা না গেলে অভিভাসন ঠেকানো যাবে না।প্রথম আলো
- New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners
- এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ
- নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া
- নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব
- Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone
- যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট
- Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan