টাওয়ার হ্যামলেটসে ‘অনিয়ম ও অস্বচ্ছতা’, কমিশনার নিয়োগের সিদ্ধান্ত
বাঙালি অধ্যুষিত পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে ‘কমিশনার নিয়োগে’র সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্যের সরকার। কাউন্সিলের ‘অনুদান’ (গ্রান্টস) প্রদান এবং কাউন্সিলের ‘ঘরবাড়ি (প্রোপার্টি) বেসরকারি মালিকানায়’ ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং অস্বচ্ছতার প্রমাণ মেলায় দেশটির সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কমিশনার নিয়োগ করা হলেও টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত লুতফুর রহমান তার পদে বহাল থাকছেন। তবে অনুদান প্রদান, ঘরবাড়ি হস্তান্তর এবং কাউন্সিলে লোকবল নিয়োগসহ সব কর্মকাণ্ড তদারকি করবে তিনজন কমিশনার। দেশটির কমিউনিটিজ বিষয়ক সেক্রেটারি এরিক পিকলস আজ মঙ্গলবার হাউজ অব কমন্সে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানান। এর আগে টাওয়ার হ্যামলেটস নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে অডিট ফার্ম প্রাইস ওয়াটার হাউজ কুপার্স (পিডব্লিউসি)।
টাওয়ার হ্যামলেটসের কেবিনেট সদস্যদের সবাই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। ২০১০ সালে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে বিরোধের জেরে লুতফুর রহমান লেবার পার্টি থেকে বহিষ্কৃত হন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে জয়ী হন। গত মে মাসে তিনি লেবার পার্টির প্রার্থীকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হন। নির্বাচন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে লেবার পার্টি। গত নির্বাচনের আগে টাওয়ার হ্যামলেটস নিয়ে অনুসন্ধানী প্রামাণ্যচিত্র প্রচার করে বিবিসি। ৩১ মার্চ প্রচারিত এ প্রামাণ্যচিত্রে লুতফুর রহমান গ্রান্টস প্রদান এবং ঘরবাড়ি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি এবং মুসলিমদের বাড়তি সুবিধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়। এর প্রেক্ষিতে ৪ এপ্রিল অনিয়ম তদন্তে পিডব্লিউসিকে নিয়োগ দেন এরিক পিকলস। মেয়র বরাবরই এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র এবং মিথ্যা বলে দাবি করে আসছেন।
এ ব্যাপারে এরিক পিকলস বলেন, এখানে ‘বিভাজন এবং নোংরা’ রাজনীতির চর্চা হচ্ছে। এবার ভবিষ্যৎ নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে শিগগিরই নতুন করে রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, গত মে মাসে অনুষ্ঠিত মেয়র নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়ে একটি পিটিশন এখনও আদালতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি রুশনারা আলী এমন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
পিডব্লিউসি এর প্রতিবেদনে বলা হয়, অনুদান পাওয়ার ‘যোগ্য নয়’ এমন কিছু সংগঠনকে অনুদান দেওয়া হয়েছে। অন্তত তিনটি কাউন্সিল প্রোপার্টি এমন লোকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে যারা মেয়রের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সময় শেষ হওয়ার পরও টেন্ডার জমার ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া উপদেষ্টা নিয়োগে অনিয়ম এবং প্রচারণা চালিয়ে জনগণের অর্থের অপচয় করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সার্বিকভাবে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল করদাতাদের অর্থের উত্তম ব্যবহার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে যথাযথ প্রক্রিয়া মানতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করা হয় প্রতিবেদনে। তবে এজন্য কাউকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করা হয়নি।
এরিক পিকলস আরও বলেন, কাউন্সিলের সাংবিধানিক তিনটি পদে (হেড অব সার্ভিস, চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার এবং মনিটোরিং অফিসার) স্থায়ী নিয়োগ দিতে ব্যর্থ হয়েছে টাওয়ার হ্যামলেটস। যা সুশাসন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে বড় উদ্বেগের বিষয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেয়র লুতফুর রহমানের পুরো মেয়াদ অর্থাৎ ২০১৭ সালের মে পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন কমিশনাররা।
তবে সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলকে ১৪ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল কিংবা মেয়র লুতফুর রহমানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।প্রথম আলো
- Dr. Titumir calls for UN-led debt relief mechanism to safeguard investment in children and women
- Commerce Minister meets ECOSOC President and Vice-President to advance Bangladesh’s smooth LDC graduation
- নিউইয়র্কে ইকোসকের সভাপতি ও সহ-সভাপতির সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী মুক্তাদিরের বৈঠক: এলডিসি উত্তরণে আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদারের আহ্বান
- শিশু ও নারীর কল্যাণে বিনিয়োগ সুরক্ষায় ঋণসংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান ড. তিতুমীরের
- বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নিউইয়র্ক স্টেট কমান্ড ইউএসএ’র সাবেক কোষাধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও স্মরণ সভা
- Trump Admin Rescinds Public Charge Rule
- BOROUGH PRESIDENT GIBSON ANNOUNCES SIGNIFICANT INVESTMENTS IN THE BRONX
- EU and G77 express support for Bangladesh’s smooth and sustainable LDC graduation