খালেদা জিয়াকে বাড়ী থেকে বের করে দেয়ার প্রতিবাদে নিউইয়র্কে সভা: দেশ ও জাতিকে উদ্ধার করতে আবারো যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হবে
নিউজ ওয়ার্ল্ড, নিউইয়র্ক।- সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ী থেকে বের করে দেয়ার প্রতিবাদে আয়োজিত এক সভায় বক্তারা বলেছেনম আর বসার সুযোগ নেই। দেশ ও জাতিকে উদ্ধার করতে হলে আবারো যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হবে। বক্তারা বলেন, ১৯৭১ থেকে ৭৫ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের অত্যাচার নিপীড়নে ল ল মানুষের আর্তনাদ আহাজারিতে বাংলাদেশের আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছিল। কিন্তু আওয়ামী অপশাসন জুলুম নির্যাতনের বিরুদ্ধে টু শব্দ করার কারো শক্তি ছিল না। সিরাজ শিকদার বিদ্রোহ করে কি পরিণতি ভোগ করেছিলেন সেটা সবাই জানেন। এই অবস্থায় শেখ মুজিবকে আওয়ামী লীগের লোকজনই হত্যা করে ফেরাউন বলে অভিহিত করেছিল। গতকাল রোববার জ্যাকসন হাইটসের খাবার বাড়ী মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় এই সভার। যুক্তরাষ্ট্র যুবদল, স্বেচ্চাসেবক দল ও শ্রমিক দলের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত উক্ত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য সভাপতিত্ব করেন সে^্চ্চাসেবক দলের সভাপতি মিজানুর রহমান ভুইয়া মিল্টন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ আহমদ। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডাঃ মুজিবুর রহমান মজুমদার, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু, সহ সভাপতি আলহাজ্ব সুলাইমান ভুইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক বেলাল মাহমুদ, সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা কামাল সাইদ মোহন, তারেক জাগরণ পরিষদের রফিকুল ইসলাম ডলার, কোষাধ্য জসীম উদ্দীন ভুইয়া, আরিফুল হক আরিফ, মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল মাওলা, হাজী মোমিনুল হক, ইলিয়াস আহমদ মাস্টার, সানাউল্লাহ বাবুল, যুব দলের সিনিয়র সহ সভাপতি তাজুল ইসলাম খান, আতিকুল হক আহাদ, মিজানুর রহমান মিজান, আমানত হোসেন আমান, ওমর ফারুক, মোশাররফ হোসেন মিয়া, এমলাক হোসেন ফয়সল, সৈয়দ জুবায়ের আলী, নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সভাপতি শরীফ আহমদ লস্কর, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, মৌলভী বাজার জেলা বিএনপির সহ সভাপতি আসাদুদ্দীন বটল মিয়া, কুলাউড়া বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন, অধ্য আজিজুল হক মুন্না, যুবদল সভাপতি আশরাফ উদ্দীন ঠাকুর, শাহাদাত হোসেন, শফিকুর রহমান, ফারুক চৌধুরী, রেজাউল আজাদ ভুইয়া, খন্দকার আবুল বাশার, মেহবুব খান, সিলভিয়া,আবুল হোসেন সুরমান, কয়েস আহমদ চৌধুরী, বিলাল আহমদ চৌধুরী, আনোয়ারুল হক লেবু, মাওলানা আব্দুর কাদের,মুক্তিযোদ্ধা মীর মশিউর রহমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি আজমল হোসেন কুনু, আনোয়ার হোসেন, মাহমুদ চৌধুরী, শামসুল ইসলাম মজনু, রকিব উদ্দীন দুলাল, এবাদ চৌধুরী প্রমুখ। প্রতিবাদ সভায় ডাঃ মুজিবুর রহমান মজুমদার বলেন, শেখ হাসিনা একটি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মতায় এসেছে। শেখ মুজিব সহ তাদের পরিবার পরিজন সব সময়ই বাংলাদেশ ও জাতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে। শেখ হাসিনাও দেশের মানচিত্রকে মুছে ফেলতে চায়। ভারতের আজ্ঞাবহ হিসেবে বাংলাদেশকে বিক্রি করে দিতে চাচ্ছে সরকার। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা কোন ষড়যন্ত্র করে বাঁচতে পারবেন না। দেশের জাতীয়তাবাদী শক্তি তার বিচার করবেই। খালেদা জিয়ার বাড়ীটি সসম্মানে ফিরিয়ে দেয়ার দাবী জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় দেশের মানুষই এই বিচার করবে। যখন অনুশোচনা করে কোন লাভ হবে না। জিল্লুর রহমান জিল্লু বলেন, হিংস্র পশুর ন্যায় যারা জীবন্ত মানুষকে হত্যা করতে পারে তাদের হাতে দেশের কারো ইজ্জত আব নিরাপদ নয়। এজন্য দেশপ্রেমিক জনতাকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। আলহাজ্ব সুলাইমান ভুইয়া বলেন, একজন সাবেক প্রেসিডেন্টের স্ত্রী, তিন তিনবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও দেশের বিরুধী দলীয় নেত্রীর সাথে যে আচরণ করা হয়েছে তা অমানবিক ও হৃদয় বিদারক। কোন সুস্থ্য মানবিকতা সম্পন্ন মানুষ এমন নির্দয় আচরন করতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। কামাল সাইদ মোহন বলেন, আমি নিজে ছাত্রলীগের নেতা ছিলাম। সে সময় আমার চোখের সামনে দেখেছি শেখ মনি ৬ মানুষকে হত্যা করেছে ঠান্ডা মাথায়। তিনি বলেন, বাড়ী থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদ করে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নির্মূল করা সম্ভব হবে না। বেলাল মাহমুদ বলেন, ওয়ান ইলেভেন ছিল এক গভীর ষড়যন্ত্র। সেই ষড়যন্ত্রের হোতারাও বেগম খালেদা জিয়াকে স্পর্শ করার সাহস করেনি। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার সেটাই করেছে। আরিফুল হক আরিফ বলেন, ৭২ থেকে ৭৫ পর্যন্ত প্রতিশোধ নেইনি। এখন সময় এসেছে প্রতিশোধ নেয়ার। আশরাফ উদ্দীন খালেদা জিয়াকে বাড়ী ছাড়া করেছেন শেখ হাসিনা। তিনি জানেন না যে, এজন্য তাকে একদিন দেশ ছাড়তে হবে। রফিকুল মাওলা বলেন, আমাদের সকলকে যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রনেতাদের কাছে যেতে হবে। কংগ্রেস সিনেটে লবিং করতে হবে এই সরকারের অমানবিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে। ইলিয়াস মাস্টার বলেন, আমাদের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। এর আগে শেখ মুজিুবর রহমান সাড়ে ৭ কোটি মানুষের সাথে বেইমানী করেছেন। এখন তারই মেয়ে এটা করবেই এজন্য বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু এই অবস্থায় বসে থাকলে হবে না। যুদ্ধের প্রতিশ্র�তি নিতে হবে। মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, শেখ হাসিনা সরকার ভারতের ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করছে। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি নিজেই একটি দলের পে কাজ করছেন। এভাবে দেশে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। জসীম উদ্দীন ভুইয়া বলেন, শেখ হাসিনা যা করেছেন তাতে আর বসে থাকা যায় না। এজন্য হাসিনা উৎখাতের আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। রেজাউল আজাদ ভুইয়া বলেন, ইতিহাসই আওয়ামী লীগের বিচার করেছে ৭৫ সালে। এখনো আবার তারা সেদিকেই ধাবিত হচ্ছে। সৈয়দ জুবায়ের আলী বলেন, দেশে স্বৈরাশাসন চরছে। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। শরীফ লস্কর বলেন,শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাঠাতে হবে। কারণ এদেশকে তিনি নিজের দেশ মনে করেন না। ফারুক আহমদ চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনার জেনে রাখা উচিৎ যে, বেগম জিয়াকে বাড়ী থেকে উচ্ছেদ করে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নির্মূল করা যাবে না। ওমর ফারুক বলেন, স্বৈরাশাসককে হঠাতে হবে। এজন্য জাতীয়বাদী সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মাওলানা আব্দুল কাদের বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা না বলে অত্যাচারের হোতা বলা উচিৎ। কারণ সেই সময়েই বাংলাদেশে ৩০ হাজার রাজনৈতিক নেতা কর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল। যুবনেতা তাজুল ইসলাম বলেন, আজ যুদ্ধে যাওয়ার সময়। এখন বসে থাকার সুযোগ নেই। মিজানুর রহমান মিজান বলেন, প্রয়োজনে দেশে ফিরে গিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে পিছপা হবো না। সানা উল্লাহ বাবুল বলেন, বর্তমান দুঃশ্বাসনে আর বসে থাকা যায় না। এজন্য যার যা অবস্থান থেকে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হবে। আমানত হোসেন আমান বলেন, বাংলাদেশে আইনের শাসন বলতে কিছুই নেই। এজন্য মানবাধিকার ও আইনের শাসনের স্বার্থে সবাইকে আন্দোলনে যেতে হবে। আতিকুল হক আহাদ বলেন,বাংলাদেশ আজ ভারতের করদ রাজ্যে পরিণত হতে যাচ্ছে। এর পেছনে যিনি সহযোগির ভূুমিকা পালন করছেন তিনি হচ্ছেন শেখ হাসিনা। সভাপতির ভাষনে স্বেচ্চাসেবক দলের সভাপতি মিজানুর রহমান ভুইয়া মিল্টন বলেন, আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হলে কোন স্বৈরাচার মতায় থাকতে পারবে না। আওয়ামী লীগকে হটাতে তিনি দেশপ্রেমিক জাতিয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections
- Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান
- সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের