Wednesday, 21 October 2026 |
শিরোনাম
New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের ভার্জিনিয়ায় অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক হারুন চৌধুরীকে দেখতে গেলেন বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ New York Attorney General James Issues Voter Guidance to Inform New Yorkers of Their Rights Ahead of November Election
সব ক্যাটাগরি

ড্রিম এ্যাক্ট বিল পাশ না হওয়ায় হতাশ ওবামা:প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীর আমেরিকান স্বপ্ন ধুলিসাত

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 11 বার

প্রকাশিত: December 19, 2010 | 8:13 AM

এনা : ভাগ্য প্রসন্ন হলো না হাজার হাজার বাংলাদেশীসহ ৮ লক্ষাধিক ইমিগ্র্যান্ট ছাত্রের। যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে গত ৮ ডিসেম্বর ড্রিম এ্যাক্ট পাশ হলেও সিনেটে তা হলো না। ৫৫-৪১ ভোটে সিনেটে ড্রিম এ্যাক্ট বিল নাকচ হয়ে গেল ১৮ ডিসেম্বর।উল্লেখ্য যে, ১৬ বছর বয়স হবার আগেই মা-বাবার সাথে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর অবৈধ ইমিগ্র্যান্টে পরিণত হয়েছে কিন্তু তারা সকলেই এদেশের আলো-বাতাসে বড় হবার সাথে সাথে হাই স্কুল গ্র্যাজুয়েশন করেছে এবং গুরুতর কোন অপকর্মে লিপ্ত হয়নি-এমন অবৈধ ইমিগ্র্যান্ট ছাত্র-ছাত্রীদের শর্তসাপেক্ষে গ্রীনকার্ড প্রদানের একটি বিল পাশের জন্যে গত কয়েক সপ্তাহ থেকে প্রেসিডেন্ট ওবামা নিজেও তদ্বির চালিয়েছেন।

 

ব্যাপকভিত্তিক রিফর্ম বিল পাশের কোন সম্ভাবনা না থাকায় ডেভেলপমেন্ট, রিফিল এন্ড এডুকেশন ফর ইলিয়েন মাইনর্স তথা ড্রিম এ্যাক্ট নিয়ে সকলে মাঠে নেমেছিলেন। প্রতিনিধি পরিষদে ২১৬-১৯৮ ভোটে বিলটি পাশের পর সকলের মধ্যে আশার সঞ্চার ঘটেছিল যে সিনেটেও পাশ হবে। এ লক্ষ্যে হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী সমবেত হয়েছিলেন ওয়াশিংটন ডিসিতে। তারা ক্যাপিটল হিলে লাগাতার লবিং করেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না ডেমক্র্যাটিক পার্টির ৫ সিনেটরের সমর্থনের অভাবে। এরা হলেন মন্টানার সিনেটর ম্যাক্স বকাস এবং জন টেস্টার, নর্থ ক্যারলিনার সিনেটর ক্যা হ্যাগেন, নেব্রাস্কার সিনেটর বেন নেলসন এবং আরকানসাসের সিনেটর মার্ক প্রায়োর। এ ৫টি ভোট পেলেই ড্রিম এ্যাক্টের ভাগ্য প্রসন্ন হতো। হোয়াইট হাউজ থেকে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে গভীর হতাশা ব্যক্ত করা হয়েছে ড্রিম এ্যাক্ট পাশ না হওয়ায়। প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেছেন, প্রতিভাসম্পন্ন যুব সমাজকে যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক কল্যাণে আত্মনিয়োগের স্বার্থেই এ বিলটি পাশ হওয়া জরুরী ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি সঞ্চারের ক্ষেত্রে ড্রিম এ্যাক্ট অপরিসীম ভূমিকা পালন করতো। আগামী দশ বছরে বাজেট ঘাটতি ২.২ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পেতো। প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, আমি বুঝতে পারছি না কেন এটি পাশ হলো না। এ বিলের মাধ্যমে আমাদের ভঙ্গুর ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর পথ সুগম হতো। তিনি বলেন, ইমিগ্রেশন ইস্যুতে আরো বেশী গুরুত্ব দিতে হবে। প্রেসিডেন্ট অভিনন্দন জানিয়েছেন সিনেটর ডারবিন, সিনেটর হ্যারী রীড এবং সিনেটর ম্যানেন্ডেজকে। এ ৩ জনের দীর্ঘ প্রয়াসের ফসল হিসেবে ড্রিম এ্যাক্ট তৈরী হয়। ওবামা বলেন যে, হোয়াইট হাউজের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে ইমিগ্রেশন রিফর্ম বিল পাশের জন্যে। গত নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে ডেমক্র্যাটরা। সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অক্ষুন্ন রাখতে সক্ষম হলেও আসন হারিয়েছে ৫টি। এ অবস্থায় সামনে ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং কংগ্রেস নির্বাচনে ডেমক্র্যাটদের ভরাডুবির আশংকায় এখন থেকেই তারা হিসাব করে পথ চলার নীতি অবলম্বন করেছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তবে ড্রিম এ্যাক্ট তথা ইমিগ্রেশন রিফর্ম বিল নিয়ে ডেমক্র্যাটদের এহেন মানসিকতাকে ইমিগ্র্যান্ট কম্যুনিটি চরম বেঈমানী হিসেবে অভিহিত করেছে। ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ফোরামের নির্বাহী চেয়ারমান আলী নূর বার্তা সংস্থা এনাকে প্রচণ্ড ক্ষোভের সাথে বলেছেন, ২০০৮ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে আমেরিকানরা পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছে। সে নির্বাচনে ইমিগ্র্যান্ট ভোটারদের ৯০% এর অধিক প্রেসিডেন্ট ওবামা ও ডেমক্র্যাটদের ভোট দেন। নির্বাচন পরবর্তি ভোট-বিশ্লেষণেও সে তথ্য প্রকাশিত হয়। ঐ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ওবামা ও ডেমক্র্যাটদের অঙ্গিকারের অন্যতম ছিল অবৈধ ইমিগ্র্যান্টদের বৈধতা প্রদান। দুইবছর অতিবাহিত হলেও ইমিগ্রেশন রিফর্ম বিল কংগ্রেসে উঠেনি-যদিও কগ্রেসের উভয় কক্ষেই ডেমক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল ২ নভেম্বরের নির্বাচনের আগ পর্যন্ত। জানুয়ারির ১০ তারিখে নতুন কংগ্রেস না বসা পর্যন্ত সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অব্যাহত রয়েছে। ১৮ ডিসেম্বর ছিল বর্তমান কংগ্রেসের শেষ অধিবেশন। সেখানেই পাশ হলো না ড্রিম এ্যাক্ট। এর ফলে ইমিগ্র্যান্টদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছেন। নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের নির্বাহী পরিচালক চাং ওয়াহ হং বার্তা সংস্থা এনাকে বলেন, ২০১২ সালের নির্বাচনে এহেন আচরণের জবাব দেয়া হবে। প্রয়োজনে ইমিগ্র্যান্টরা ভোট কেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত থাকবে। তখন বুঝা যাবে কতধানে কত চাল। অবৈধ ইমিগ্র্যান্ট হিসেবে যাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের নির্দেশ জারী হয়েছে তাদেরকে এখন স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে অথবা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের এজেন্টরা গ্রেফতার করে বিমানে উঠিয়ে দেবে। জানা গেছে, কমপক্ষে ১০ হাজার বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রীর আমেরিকান স্বপ্ন ধুলিসাত হয়ে গেল ড্রিম এ্যাক্ট পরিত্যক্ত হবার সাথে সাথে। এদের প্রায় সকলেই ৬/৭ বছর বয়সে মা-বাবার সাথে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছে। অনেকে ১৫/১৬ বছর ধরে এখানে বাস করে আমেরিকান সংস্কৃতিতে মিশে গেছেন। গ্রীনকার্ড না থাকায় তারা প্রাইভেট কলেজে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করতে পারেননি। এ অবস্থায় তাদেরকে বাংলাদেশে ফিরতে হবে এবং বাস করতে হবে অপরিচিত পরিবেশে। ৮ লক্ষাধিক অবৈধ ছাত্র-ছাত্রীর লাখ খানেক দক্ষিণ এশিয়ান। অবশিষ্টরা হচ্ছেন স্প্যানিশ। লক্ষাধিক বাংলাদেশীসহ সোয়া কোটি অবৈধ ইমিগ্র্যান্টের ভাগ্য প্রসন্নকারী ইমিগ্রেশন রিফর্ম বিল নিয়ে হোয়াইট হাউজের তৎপরতা গত কয়েকমাস থেকে পরিলক্ষিত হলেও আজ অবধি সে বিল উঠেনি কংগ্রেসের কোন পক্ষে। ফলে ইমিগ্র্যান্ট কম্যুনিটিতে পুনরায় নেমে এলো ভীতিকর পরিবেশ। অনেকে প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্বপ্নের দেশ আমেরিকা ত্যাগের।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ