Wednesday, 21 October 2026 |
শিরোনাম
New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের ভার্জিনিয়ায় অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক হারুন চৌধুরীকে দেখতে গেলেন বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ New York Attorney General James Issues Voter Guidance to Inform New Yorkers of Their Rights Ahead of November Election
সব ক্যাটাগরি

বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের মূল্য সর্বকালের রেকর্ড ভেঙেছে

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 95 বার

প্রকাশিত: January 6, 2011 | 12:56 AM

ইউএসএনিউজ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের মূল্য সর্বকালের রেকর্ড ভেঙেছে।খাদ্যপণ্যের দাম সংক্রান্ত জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (ফাও) সূচকে বলা হয়, এ আকাশছোঁয়া মূল্য বৃদ্ধির কারণ চিনি, দানাদার শস্য, তেল ও মাংসজাত খাদ্যপণ্যের দামের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি। এর আগে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের মূল্য রেকর্ড পর্যায়ে পেঁৗছে ২০০৮ সালে। সে সময় এ নিয়ে বিভিন্ন দেশে দাঙ্গাও হয়েছিল। এমনকি মূল্যবৃদ্ধি ভয়ঙ্কর পর্যায়ে চলে যেতে পারে বলেও জাতিসংঘের তরফে হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছিল। এবার খাদ্যের মূল্য সেই ভয়ঙ্কর পর্যায়ে পেঁৗছে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।১৯৯০ সাল থেকে ফাও বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের মূল্য পরিস্থিতির মাসিক সূচক চালু করে। ওই সূচক অনুযায়ী গত মাসে বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের মূল্য সর্বকালের রেকর্ড ভেঙেছে। রোমে ফাওয়ের সদর দফতরে প্রকাশ করা ওই সূচকে দেখা যায়, দানাদার শস্য, তেল, দুধ, মাংস, চিনির মূল্য গত ছয় মাস ধরে বেড়েই চলেছে।ফাওয়ের অর্থনীতিবিদ আবদুল রেজা আব্বাসি গার্ডিয়ান পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা খাদ্যমূল্যের ভয়ঙ্কর পর্যায়ে পেঁৗছতে যাচ্ছি।’ তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সূচক বাড়লেও সামাজিক পরিস্থিতি এখনও ২০০৮ সালের চেয়ে খারাপ হয়নি। ওই সময় বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকট দেখা দেয়। এমনকি খাদ্যের দাবিতে বিক্ষোভ ও দাঙ্গায় হাইতিতে চারজন এবং ক্যামেরুনে ৪০ জন নিহত হয়। আব্বাসি সতর্ক করে বলেন, আর্জেন্টিনায় খড়া, অস্ট্রেলিয়ায় বন্যা ও উত্তর গোলার্ধে প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে খাদ্যের দাম আরও বাড়তে পারে। তবে খাদ্যের অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে আব্বাসি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, গত বছর গরিব দেশগুলোতে ফসল তুলনামূলক ভালো হয়েছে। সে কারণে খাদ্যের দাম কমতেও পারে।তবে এমনটা ঘটার সম্ভাবনা ক্ষীণ। কারণ বৃহত্তম দুই উৎপাদক দেশ রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ফসল খারাপ হয়েছে।
গত বছর ইউরোপে গমের দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে শস্যের দাম ৫০ শতাংশ বেড়েছে। সয়াবিনের দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশ।অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে বন্যা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এতে সেখানে ফসলের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর প্রভাব পড়বে খাদ্যপণ্যের মূল্যে। বিশেষ করে গম, চিনি ও আখের ওপর। অস্ট্রেলিয়া চতুর্থ বৃহত্তম গম রফতানিকারক দেশ। এছাড়া দেশটি সবচেয়ে বেশি পাথুরে কয়লা রফতানি করে। কিন্তু বন্যায় এর উৎপাদনও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে চিনি ও আখের ক্ষেত্রে যে ক্ষতি হয়েছে তা আগামী তিন বছরে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না বলে ব্যবসায়ী ও চাষিরা জানান।এদিকে জ্বালানি তেলের মূল্য যেভাবে বাড়ছে তাতে খাদ্যের দাম আরও বাড়বে বলেই সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদ আবদুল রেজা আব্বাসি। আর এতে ২০০৮ সালের মতো খাদ্য নিয়ে দাঙ্গা বাধতে পারে_ এমনটাই ধারণা করছেন তিনি।২০০৮ সালে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি সর্বোচ্চ ১৪৫ ডলারে পেঁৗছে। আর এর সঙ্গে হুহু করে বাড়তে থাকে খাদ্যের দাম। এ বছরও তেলের দামে সেই নাটকীয়তার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ এখনই তেলের দাম ৯৫ ডলারে পেঁৗছেছে। শিগগির যে এ দাম ১০০ ডলারে পেঁৗছবে তাতে সন্দেহ নেই। আর তেলের দামের ওপর খাদ্যপণ্যসহ সবকিছুর বাজারই নির্ভর করে। তাই তেলের দাম বাড়তে থাকলে বাজার পরিস্থিতিও নাগালের বাইরে চলে যাবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ফাওয়ের খাদ্যসূচক গত মাসে ২১৫ পয়েন্টে পেঁৗছে। নভেম্বরে তা ছিল ২০৬-এ। আর ২০০৮ সালের জুনে এ সূচক ছিল ২১৩ দশমিক ৫। গত এক দশকে খাদ্যমূল্য সূচকের ঊর্ধ্বগতি ছিল অত্যন্ত নাটকীয়। এর আগের দশকে অর্থাৎ ২০০০ সাল পর্যন্ত সূচক ছিল ৯০-এ। ২০০৪ সালে তা ১০০-তে পেঁৗছে। ফাওয়ের এক কর্মকর্তা সতর্ক করে দিয়েছেন, খাদ্যপণ্যের এ চড়া দাম অব্যাহত থাকলে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠতে পারে।আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সিও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থার প্রধান অর্থনীতিবিদ ফেইথ বিরল বলেন, আমি আশা করি ভোক্তা এবং উৎপাদনকারী উভয়েই যৌক্তিক আচরণ করবেন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, তেলের মূল্য বিপজ্জনক পর্যায়ে পেঁৗছে যাওয়ায় ২০০৮ সালের মতো আবারও অর্থ খাতে সংকট দেখা দিতে পারে।তবে খ্যাতনামা অর্থনীতি গবেষণা সংস্থা ক্যাপিটাল ইকোনমিক্সের প্রধান অর্থনীতিবিদ জুলিয়ান জোসেফ বলেন, জ্বালানির দাম এ বছর যেভাবে বাড়ছে তার তুলনায় খাদ্যের দাম বাড়ছে বেশি। তার মতে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণ শিল্প খাতে চাহিদা বৃদ্ধি। আর খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে সরবরাহ হ্রাসের কারণে। প্রসঙ্গত, অস্ট্রেলিয়ায় সাম্প্রতিক বন্যার কারণে এশিয়া বিশেষ করে ভারত, বাংলাদেশ ও জাপানে খাদ্য সরবরাহ পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়েছে। অস্ট্রেলিয়া এ বছর চিনি রফতানি ২৫ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। বিশ্ববাজারে চিনির দামের টালমাটাল অবস্থার এটাও অন্যতম কারণ। ফাওয়ের চিনির মূল্যসূচকে দেখা যায়, গত মাসে তা ৩৯৮.৪ পয়েন্টের রেকর্ড উচ্চতায় পেঁৗছে, যা নভেম্বরেও ছিল ৩৭৩.৪ পয়েন্ট। আর দানাদার শস্য, যেমন_ চাল, আটা, গমের দামের সূচক গত মাসে পেঁৗছে ২৩৭.৬ পয়েন্টে, যা ২০০৮ সালের আগস্টের পর সর্বোচ্চ। নভেম্বরেও এ সূচক ছিল ২২৩.৩ পয়েন্ট। গত মাসে তেলের মূল্যসূচক পেঁৗছে ২৬৩ পয়েন্টে। নভেম্বরেও যা ছিল ২৪৩.৩ পয়েন্ট। গার্ডিয়ান, বিবিসি ও রয়টার্স অনলাইন।সমকাল

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ